| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘বিদেশি সেনার কামান…’ যশোর বোর্ড ২০১৭ – রেইনকোট, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

বিদেশি সেনার কামান বুলেটে বিদ্ধ
নারী, শিশু আর যুবক-জোয়ান-বৃদ্ধ।
শত্রু সেনারা হত্যার অভিযানে
মুক্তিবাহিনী প্রতিরোধে উত্থানে।
মুক্তির পথ যুদ্ধেও রয় জেনে
ঘাতক ধ্বংস করেছে অস্ত্র হেনে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২৭
'রেইনকোট' গল্পটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়।
মুক্তিসেনা মিন্টুর রেইনকোটটি পরে ভীতু প্রকৃতির নুরুল হুদার ভেতরে যে চেতনা সঞ্চারিত হয়েছিল তার নিখুঁত পরিচয় আছে 'রেইনকোট' গল্পে।
মুক্তিযোদ্ধা শ্যালক মিন্টুর রেইনকোটটি পরার পর থেকেই ভীতু প্রকৃতির নুরুল হুদার মাঝে সঞ্চারিত হয় সাহস ও দেশপ্রেমের এক বিচিত্র অনুভূতি। মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে নুরুল হুদার সংযোগ থাকায় তাকে চাবুক দিয়ে পিটিয়ে তথ্য বের করার চেষ্টা চালায় পাকিস্তানি সেনারা। কিন্তু রেইনকোটটির কারণে তার মাঝে যে প্রেরণার সৃষ্টি হয়েছিল তা যেন তার চাবুকের আঘাতকে ভুলিয়ে দিয়েছিল। নুরুল হুদার কাছে চাবুকের আঘাতের ব্যাপারটি রেইনকোটের ওপর বৃষ্টি পড়ার মতোই স্বাভাবিক লাগছিল।
উদ্দীপকের 'বিদেশি সেনা' 'রেইনকোট' গল্পের পাকিস্তানি সেনাদের সাথে তুলনীয়।
'রেইনকোট' গল্পটি মুক্তিযুদ্ধকালীন ঢাকার পরিস্থিতি নিয়ে রচিত। এ গল্পে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বর নিপীড়ন ও হত্যাযজ্ঞের মধ্যে ঢাকা শহরের আতঙ্কগ্রস্ত জীবনের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে।
উদ্দীপকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নিপীড়নের চিত্র ফুটে উঠেছে। তারা কামান ও বুলেটের আঘাতে বাঙালিদের হত্যা করে। নারী-শিশু-যুবক-বৃদ্ধ সবাই তাদের বর্বরতার শিকার হয়। 'রেইনকোট' গল্পেও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মম অত্যাচারের বর্ণনা পাওয়া যায়। গল্পের কথক নুরুল হুদার বর্ণনা থেকে জানা যায়, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী গুলি করে মানুষ হত্যা করে; বাড়ি-ঘর, গ্রাম, হাট-বাজার জ্বালিয়ে দেয়। এমনকি তারা আজানরত মুয়াজ্জিনকেও গুলি করে হত্যা করে। অর্থাৎ, উদ্দীপক ও 'রেইনকোট' গল্প উভয়ক্ষেত্রেই হানাদার বাহিনীর নির্মমতার চিত্র ফুটে উঠেছে।
'রেইনকোট' গল্পে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তিকে হানাদার বাহিনীর দৃষ্টিকোণ থেকে 'মিসক্রিয়ান্ট' বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আলোচ্য গল্পে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি তথা মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধ সমর্থনকারী সাধারণ মানুষের পরিচয় ফুটে উঠেছে। গল্পের মিন্টু ও তার সহযোদ্ধারা দেশকে শত্রুমুক্ত করতে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। আবার, মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন করার কারণে নুরুল হুদা ও আবদুস সাত্তার মৃধার মতো সাধারণ মানুষদেরও নির্মম অত্যাচার সহ্য করতে হয়।
উদ্দীপকে বাঙালিদের ওপর হানাদার বাহিনীর নিপীড়নের চিত্রের পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধচিত্রও ফুটে উঠেছে। এখানে যেমন হানাদার বাহিনীকর্তৃক নারী-শিশু-যুবক-বৃদ্ধদের হত্যার বর্ণনা রয়েছে, তেমনি দেশকে শত্রুমুক্ত করার জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধযুদ্ধের কথাও রয়েছে। উদ্দীপকের মুক্তিবাহিনী শত্রুর আস্তানায় প্রবল আঘাত হেনে মুক্তির পথ প্রশস্ত করেছে।
'রেইনকোট' গল্পের মুক্তিযোদ্ধারা গেরিলা আক্রমণ করে পাকিস্তানি হানাদারদের পর্যুদস্ত করে তোলে। কুলি সেজে কলেজে ঢুকে তারা বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মার ধ্বংস করে। প্রিন্সিপালের বাসায় গ্রেনেড ছুড়ে ফটক উড়িয়ে দেয়। গল্পে মুক্তিযোদ্ধাদের এই তৎপরতার বাইরে যে বিষয়টি মুখ্য হয়ে উঠেছে, তা হলো সাধারণ মানুষের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার জাগরণ। নুরুল হুদা নির্মম নির্যাতন সহ্য করেও মুক্তিযোদ্ধাদের সন্ধান দেয়নি। মুক্তিযুদ্ধের মহান চেতনা নিজের মধ্যে লালন করায় হানাদারদের অত্যাচার তার কাছে নিছক উৎপাত বলে মনে হয়েছে। অন্যদিকে, আলোচ্য উদ্দীপকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির যে বর্ণনা পাওয়া যায়, তা মুক্তিযোদ্ধাদের কর্মকান্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এখানে মুক্তিযুদ্ধ সমর্থনকারী সাধারণ মানুষের কথা উঠে আসেনি। নুরুল হুদার মতো সাধারণ মানুষেরাও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি, যারা যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করেও মানসিকভাবে মুক্তিযোদ্ধায় পরিণত হয়েছে। অর্থাৎ, আলোচ্য গল্পে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির যে বর্ণনা পাওয়া যায়, তার মাত্র একটি দিক উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে। তাই বলা যায়, "উদ্দীপকটির 'মুক্তিবাহিনী'র সাথে 'রেইনকোট' গল্পে বর্ণিত মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষশক্তির বর্ণনা অনেকটা সাদৃশ্যযুক্ত হলেও বৈসাদৃশ্যও রয়েছে"-মন্তব্যটি যথার্থ।