| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘বিদেশি সেনার কামানে-বুলেটে…’ আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ২০২৫ – ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

বিদেশি সেনার কামানে-বুলেটে বিদ্ধ
নারী শিশু আর যুবক-জোয়ান বৃদ্ধ
শত্রুসেনারা হত্যার অভিযানে
মুক্তিবাহিনী প্রতিরোধ উত্থানে।
মুক্তির পথ যুদ্ধের রথ জেনে
ঘাতক ধ্বংস করেছে অস্ত্র হেনে
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২০
• কবি শামসুর রাহমানের কবিতা প্রথম প্রকাশিত হয় 'সাপ্তাহিক সোনার বাংলা' পত্রিকায় (১৯৪৯ সালে)।
• 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় 'মানবিক বাগান' বলতে মানবীয় জগৎকে বোঝানো হয়েছে।
• 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতাটি দেশপ্রেম, গণজাগরণ ও সংগ্রামী চেতনার কবিতা। এই কবিতায় স্মৃতির আবরণে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের গৌরবময় দিনের কথা উল্লেখ করেছেন কবি। ১৯৬৯ সালে স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের বৈষম্যমূলক শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে গণআন্দোলনন সূচিত হয়েছিল। প্রত্যন্ত গ্রামগঞ্জ, হাটবাজার, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অসংখ্য মানুষ জড়ো হয় ঢাকার রাজপথে। কবি রাজপথের সেই অগণিত মানুষের সচেতন গণজাগরণকে 'মানবিক বাগান' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
মানবিক বাগান বলতে কবি মনুষ্যত্ব, ন্যায় ও মঙ্গলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ জনসাধারণের জগৎকে বুঝিয়েছেন।
• উদ্দীপকের শেষ তিন চরণ 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার সঙ্গে শাসকগোষ্ঠীর অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলার মেলবন্ধন রচনা করেছে।
• বাঙালি যুগে যুগে শাসকগোষ্ঠীর বিভিন্ন অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। অধিকারের দাবিতে তারা সংগ্রাম করেছে। এদেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে শত্রুদের প্রতিহত করেছে।
• উদ্দীপকের শেষ তিন চরণে কবি মুক্তিবাহিনীর প্রতিরোধ উত্থান, যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনের পথে এগিয়ে চলা এবং শত্রু বাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞ ও হত্যাকান্ড নির্দেশ করেছেন। বাঙালির এই সংগ্রামী চেতনার সঙ্গে 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায়। প্রতিফলিত সংগ্রামী চেতনার মিল রয়েছে। এ কবিতায় কবি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের তীব্র আন্দোলন-সংগ্রামের পথ ধরে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানকে নির্দেশ করেছেন। ১৯৬৯-এর গণআন্দোলনে জাতিগত শোষণ আর নিপীড়নের বিরুদ্ধে জেগে ওঠে সমগ্র বাঙালি জাতি। উদ্দীপকেও শত্রুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে এবং অনেক রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে মুক্তির পথে তাদের যাত্রার গন্তব্যে পৌঁছেছে। দেশকে শত্রুমুক্ত ও স্বাধীন করেছে। এভাবে উদ্দীপকের শেষ তিন চরণ 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার সঙ্গে মেলবন্ধন তৈরি করেছে
• "উদ্দীপকের বক্তব্য 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার খন্ডাংশ মাত্র"-মন্তব্যটি যথার্থ।
• পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মের পর থেকেই শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈরী আচরণ শুরু করে। বিভিন্ন দিক থেকে এদেশের মানুষের ওপর তারা শোষণ-নির্যাতন চালাতে থাকে।
• 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি এদেশের মানুষের মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে রাজপথে মিছিল করার কথা বর্ণিত হয়েছে। সেই মিছিলে পুলিশ গুলি চালিয়ে নির্মমভাবে ছাত্র জনতাকে হত্যা করে। তারই প্রতিবাদের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে এদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের মোকাবিলা করে। অনেক ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে এদেশ স্বাধীন করে মুক্তিসেনারা। এই বিষয়টি উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে। উদ্দীপকে প্রতিফলিত সংগ্রামী চেতনার এই দিকটি ছাড়াও 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় আরও কিছু বিষয় রয়েছে, যেগুলো উদ্দীপকে নেই।
• 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় কবি ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের ক্রমধারায় ছাত্র অসন্তোষকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আন্দোলনের চেতনা কীভাবে ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয় তা দেখিয়েছেন। এ সংকটের দিকটি উদ্দীপকে অনুরূপভাবে প্রতিফলিত হয়নি। কবি এ কবিতায় একুশের কৃষ্ণচূড়াকে বাঙালির চেতনার রং হিসেবে অভিহিত করেছেন। এই দিকটি উদ্দীপকে বর্ণিত হয়নি। উদ্দীপকের কবিতাংশে কেবল মুক্তিযুদ্ধের চেতনাই প্রকাশ পেয়েছে। এদিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।