| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘বিদ্রোহ আজ বিদ্রোহ…’ হলিক্রস কলেজ ২০২৪ – বিদ্রোহী, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

বিদ্রোহ আজ বিদ্রোহ চারিদিকে,
আমি যাই তারি দিন-পঞ্জিকা লিখে, এ
তো বিদ্রোহ কখনো দেখেনি কেউ,
দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ; স্বপ্ন-চূড়ার থেকে নেমে এলো সব—
শুনেছ? শুনছ উদ্দাম কলরব ?
নয়া ইতিহাস লিখছে ধর্মঘট;
রক্তে রক্তে আঁকা প্রচ্ছদপট ।
প্রত্যহ যারা ঘৃণিত ও পদানত,
দেখো আজ তারা সবেগে সমুদ্যত;
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১০
ইন্দ্রাণী-সূতের হাতে চাঁদ ও কপালে সূর্য থাকে।
অন্যায় ও অসাম্যের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী চেতনার ধারক হিসেবে কনি নিজেকে বিশ্ববিধাতার বিদ্রোহী পুত্র বা সূত বলে অভিহিত করেছেন।
পরাধীন ভারতবর্ষে তখন আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কারণে সমাজে শক্ত আসন গেড়েছে অন্যায়-অত্যাচার ও বৈষম্য। সংগত কারণেই সমাজে জেকে বসা এই বৈষম্য ও অচলায়তনকে ভাঙতে চেয়েছিলেন কবি। এ লক্ষ্যেই তিনি উচ্চারণ করেন দ্রোহের পঙক্তিমালা। তাঁর এই দ্রোহ কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডিতে আবদ্ধ নয়। অত্যাচারীর বিরুদ্ধে তিনি বিধ্বংসী রূপ নিয়ে আবির্ভূত হন। বিদ্রোহী চেতনার ধারক হিসেবে অন্যায় ও অসাম্যের বিরুদ্ধে তাঁর এই নিরন্তর দ্রোহের বিষয়টি বোঝাতেই কবি নিজেকে বিশ্ব-বিধাতার বিদ্রোহী-সূত বা বীর পুত্র বলে অভিহিত করেছেন।
উদ্দীপকটি প্রান্তিক শ্রেণির মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের দিক থেকে 'বিদ্রোহী' কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি সমগ্র বিশ্বে ঘটে যাওয়া অন্যায়-অত্যাচার, অবিচার-অনাচারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। বিশেষত তাঁর বিদ্রোহ-বিপ্লবের সমাপ্তি রেখা টানার দিনক্ষণও কবিতায় ঘোষণা করেছেন কবি। উৎপীড়িতের ক্রন্দনরোল বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত কবির লড়াই অবিরামভাবে চলতে থাকবে। বিশ্বকে একটি শান্তিময় ও ভালোবাসাপূর্ণ পৃথিবী হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তাঁর এ সংগ্রাম ।
উদ্দীপকের কবিতাংশে বিদ্রোহের অগ্নি স্ফুলিঙ্গ ফুটে উঠেছে ছত্রে ছত্রে কবির মতে চারদিকে শুধু বিদ্রোহ আর বিদ্রোহ। বিদ্রোহী উদ্দাম কলরব শুনতে সকলকে আহ্বান করেছেন কবি। প্রতিদিন যারা ঘৃণিত ও পদানত হয়, সেই প্রান্তিক শ্রেণির মানুষ আজ বিদ্রোহে শামিল। উদ্দীপকের এ বিদ্রোহী মনোভাব, বিশেষত তথাকথিত অন্ত্যজ শ্রেণির অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম উদ্দীপক ও ‘বিদ্রোহী' কবিতাকে সমান্তরালে দাঁড় করিয়েছে।
বঞ্চিত ও পদানত মানুষের অধিকার আদায়ে বিদ্রোহ ঘোষিত হওয়ায় উদ্দীপকের দিকে দিকে ওঠা অবাধ্যতার ঢেউ ‘বিদ্রোহী' কবিতার কবির দ্রোহ চেতনার সঙ্গে একসূত্রে গাঁথা ।
‘বিদ্রোহী' কবিতাটি সর্বব্যাপী বিদ্রোহের এক এপিটাফ। কবি বিশ্বের সব অন্যায়-অত্যাচার, অনাচার-অবিচারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন এ কবিতায়। কবির বিদ্রোহ মূলত একটি শোষণ-বঞ্চনাহীন ভালোবাসাপূর্ণ বিশ্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে। বিশেষ করে বিশ্বজুড়ে অবহেলিত, বঞ্চিত ও লাঞ্ছিত মানবতাকে সমুন্নত করতেই তাঁর অবিরাম বিদ্রোহ ।
উদ্দীপকের কবিতাংশে চারদিকে জেগে ওঠো বিদ্রোহী চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। কবির মতে, চারদিকে আজ বিদ্রোহ। এত বিদ্রোহ এর আগে কেউ দেখেনি । সকলকে এ বিদ্রোহের কলরব শোনাতে আহ্বান জানাচ্ছেন কবি। রক্তে রক্তে আঁকা হচ্ছে এ বিদ্রোহের পটভূমি; সর্বোপরি ঘৃণিত ও পদানত মানুষের সম্মিলনে এ বিদ্রোহ পেয়েছে সম্পূর্ণতা ।
উদ্দীপক ও ‘বিদ্রোহী' কবিতায় যুগপৎ বিদ্রোহ বা বিপ্লবের কথা ধ্বনিত হয়েছে। যাদেরকে যুগ যুগ ধরে বঞ্চিত ও লাঞ্ছিত করা হয়েছে, তাদের মৌলিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় এ অবাধ্যতার ঢেউ চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। আলোচ্য কবিতায় কবি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন যে, উৎপীড়িতের কান্না না থামা পর্যন্ত তাঁর সংগ্রাম চলবেই । উপরের আলোচনা থেকে তাই বলা যায় যে, উভয় কবির বিদ্রোহী চেতনার সুর সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যৌক্তিক হিসেবে বিবেচ্য।