| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ বিএএফ শাহীন কলেজ ২০২৬ – মনোবিজ্ঞান পরিচিতি, মনোবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
মনোবিজ্ঞান হলো এমন একটি বিজ্ঞান যা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মানুষ ও প্রাণীর আচরণ এবং মানসিক প্রক্রিয়া অনুধ্যান করে থাকে।
মানসিক রোগের অনুধ্যান নির্ণয় ও চিকিৎসায় চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চিকিৎসা মনোবজ্ঞিানের মূল আলোচ্য বিষয় হলো অস্বাভাবিক আচরণের গতি-প্রকৃতি ও তার ব্যাখ্যা, মানসিক রোগের লক্ষণ, কারণ ও তার চিকিৎসা পদ্ধতি। চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানী প্রথমে রোগের লক্ষণ চিহ্নিত করে তার কারণ অনুসন্ধান করতে সচেষ্ট হন। তারপর রোগীর যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। রোগ নির্ণয়ের জন্য বিভিন্ন অভীক্ষা প্রয়োগ করে থাকেন এমনকি রোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থাও চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানীরা গ্রহণ করে থাকেন। তাই মানসিক রোগী এবং তার চিকিৎসার জন্য চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান অধ্যয়ন প্রয়োজনীয়।
দৃশ্যকল্প-১ এ প্রদত্ত 'C' চিহ্নিত অংশটি হলো আধুনিক যুগ।
আধুনিক যুগ : জার্মান মনোবিজ্ঞানী উইলহেম উন্ড জার্মানির লিপজিগ বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৮৭৯ খ্রিস্টাব্দে মনোবিজ্ঞানের গবেষণাগার স্থাপনের পর তখন থেকে মনোবিজ্ঞানের আধুনিক যুগের সূত্রপাত। তাঁর মতে, সংবেদনই একমাত্র মানসিক ক্রিয়া যাকে গবেষণাগারে পরীক্ষা করা যায়। তাঁর গবেষণা থেকে মানুষের চেতনা সম্পর্কে অনেক তথ্য জানা গিয়েছে। উন্ড ও তাঁর সঙ্গীরা মানসিক কার্যকলাপকে দৈহিক ক্রিয়া থেকে পৃথক করে প্রত্যক্ষ করতেন ।
রাশিয়ান বিজ্ঞানী শেখেনভ (১৮৬৩) মত দেন যে, সব রকম মানসিক ক্রিয়া মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের প্রতিবর্তী ক্রিয়ার ফল। কিছুদিন পর তাঁর ছাত্র প্যাভলভ (১৮৪৯-১৯৩৬) শেখেনভের মতবাদকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তাঁর গবেষণা থেকে প্রমাণিত হয় যে, যেকোনো মানসিক ক্রিয়া সাপেক্ষ প্রতিবর্তী ক্রিয়ার ফল। দার্শনিক কার্ল মার্কস এই মতবাদকে আরো সংগঠিত করেন। তাঁর মতে, চেতনা হলো মস্তিষ্কের সামগ্রিক ক্রিয়ার ফল। কার্ল মার্কস ডারউইনের বিবর্তনবাদ ও প্রাণিবিজ্ঞান থেকে বহু তথ্য সংগ্রহ করে প্রমাণ করেছেন যে, সচেতনতা নির্ভর করে মস্তিষ্কের গড়ন ও জটিলতার উপর ।
চিত্রে A, B ও C চিহ্নিত স্থানগুলো হলো যথাক্রমে সামগ্রিক ও খণ্ডিত আচরণ, ঐচ্ছিক ও অনৈচ্ছিক আচরণ এবং বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ আচরণ। এদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ নিচে তুলে ধরা হলো-
আচরণকে বিভিন্নভাবে ভাগ করা যায়, যেমন- সামগ্রিক আচরণ ও খণ্ডিত আচরণ। সামগ্রিক আচরণের ক্ষেত্রে একটি পূর্ণাঙ্গ আচরণকে বিশ্লেষণের একক হিসেবে ধরা হয়। আর খণ্ডিত বা আণবিক আচরণের ক্ষেত্রে আচরণকে খণ্ড খণ্ড বা সূক্ষ্ম উপাদানে বিশ্লেষণ করা হয়। আচরণকে আবার ঐচ্ছিক ও অনৈচ্ছিক আচরণে ভাগ করা যায়।
যে-সব আচরণ ব্যক্তির ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে সেগুলোকে ঐচ্ছিক আচরণ বলে। যেমন— কথা বলা হাঁটা, খাওয়া ইত্যাদি। আবার কতকগুলো আচরণ আছে যেগুলো ঐচ্ছিক নিয়ন্ত্রণের বাইরে সেসব আচরণকে অনৈচ্ছিক আচরণ বলে। যেমন— হৃৎপিণ্ডের ক্রিয়া, শ্বাস- প্রশ্বাস ইত্যাদি । আচরণকে আবার বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ আচরণে ভাগ করা যায়। বাইরে থেকে যে সকল আচরণ পর্যবেক্ষণ করা যায় যেমন— কথা বলা, হাসা, গান গাওয়া প্রভৃতি বাহ্যিক আচরণ। আবার যেসব আচরণ বাইরে থেকে পর্যবেক্ষণ করা যায় না সেগুলোকে অভ্যন্তরীণ আচরণ বলে । যেমন- মাথা ধরা, চিন্তা করা ইত্যাদি।