বিজ্ঞানের ছাত্র বলে সাহিত্যকে অবজ্ঞা করে ইশরাক। তার মতে, ওটা নানা অবান্তর জিনিসে ভরপুর, যার কোনো বাস্তব মূল্য নেই। অন্যদিকে তার বন্ধু রোহানী সাম্য বিজ্ঞানের ছাত্র হয়েও গল্প, কবিতার বই পড়তে ভালোবাসে; সাহিত্যকে সবার ওপরে স্থান দেয়। তার মতে, সাহিত্য হলো আত্মার খোরাক। তাই আত্মাকে সতেজ ও সুন্দর করতে এর কোনো বিকল্প নেই।
শিক্ষার প্রধান অঙ্গ হওয়া উচিত সাহিত্যচর্চা।
শিক্ষা অর্জনের বিষয় হওয়ায় শিক্ষা কেউ কাউকে দিতে পারে না।
শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য মানুষকে ভেতর থেকে মানুষ করে তোলা। নিজ আগ্রহে জ্ঞানের নানা বিষয় অনুসন্ধান করাই প্রকৃত শিক্ষা। তাই শিক্ষা নিজে নিজে অর্জনের বিষয়। শিক্ষক কেবল শিক্ষার্থীকে জ্ঞানের পথ দেখিয়ে দিতে পারেন। সেই পথে হেঁটে শিক্ষার্থীকে নিজের অভিমতবিদ্যা নিজে অর্জন করতে হয়, শিক্ষক তাকে শিক্ষা দিতে পারেন না। তাই শিক্ষা সম্পূর্ণরূপে অর্জনের বিষয় হওয়ায় শিক্ষা কেউ কাউকে দিতে পারে না।
উদ্দীপকের ইশরাকের মধ্যে 'বই পড়া' প্রবন্ধের সাহিত্যচর্চার প্রতি অনীহার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে।
'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক সাহিত্যচর্চার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। সাহিত্যচর্চা শিক্ষার প্রধান অঙ্গ। আমরা জাত হিসেবে শৌখিন নই বলে সাহিত্যচর্চায় অভ্যস্ত নই।
উদ্দীপকের ইশরাক বিজ্ঞানের ছাত্র। সে সাহিত্যকে অবজ্ঞা করে। সে মনে করে সাহিত্য অবাস্তব জিনিসে ভরপুর, যার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। 'বই পড়া' প্রবন্ধেও লেখক সাহিত্যচর্চায় অনিচ্ছুক বাঙালির স্বভাব সুস্পষ্ট করেছেন। নোট ও নজির পড়ে বাঙালি সমাজ এতটাই অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে যে কেউ স্বেচ্ছায় বই পড়লে তাকে অকর্মার দলে ফেলে দেয়। বিষয়টি উদ্দীপকের ইশরাকের সাহিত্যচর্চার প্রতি অনীহার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
সাহিত্যচর্চার পক্ষে ইতিবাচক দিক থাকায় “উদ্দীপকের রোহানী সাম্যের ভাবনা যেন 'বই পড়া' প্রবন্ধের প্রাবন্ধিকের ভাবনার প্রতিনিধিত্ব করে। মন্তব্যটি যৌক্তিক।
'বই পড়া' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক মনে করেন প্রগতিশীল জগতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য সাহিত্যচর্চা করা আবশ্যক। জাতির মানসিক বিকাশ ও সমৃদ্ধিতে সাহিত্যচর্চা তথা বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই।
উদ্দীপকের রোহানী সাম্য বিজ্ঞানের ছাত্র হয়েও সাহিত্যকে সবার উপরে স্থান দেয়। সুযোগ পেলেই সে গল্প, কবিতা, উপন্যাসের বই পড়তে ভালোবাসে। সে মনে করে- সাহিত্য আত্মার খোরাক। তাই আত্মাকে সজীব ও সুন্দর করতে সাহিত্যের কোনো বিকল্প নেই, যা 'বই পড়া' প্রবন্ধের প্রাবন্ধিকের ভাবনার অনুকূল।
'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক বই পড়ার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেছেন। আর এই বই পড়ার অর্থ সাহিত্যচর্চা। সাহিত্যের মধ্যে মানুষের দর্শন-বিজ্ঞান-ধর্ম, আশা-নৈরাশ্য, কল্পনা ও সত্যের এক অপূর্ব সমন্বয় প্রকাশিত হয় বলে সাহিত্যচর্চার মাধ্যমেই জাতির মানসিক বিকাশ ঘটে। উদ্দীপকের রোহানী সাম্যও মনে করে আত্মাকে সজীব ও সুন্দর করতে সাহিত্যচর্চার বিকল্প নেই। তাই উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, আলোচ্য মন্তব্যটি যৌক্তিক।
