বিক্রিয়া-১: মার্বেল চিপস
বিক্রিয়া-২:
একাধিক মৌলের কতিপয় পরমাণু বা আয়ন পরস্পরের সাথে মিলিত হয়ে ধনাত্মক বা ঋণাত্মক আধানবিশিষ্ট একটি পরমাণুগুচ্ছ তৈরি করে এবং এটি একটি মৌলের আয়নের ন্যায় আচরণ করে; এ ধরনের পরমাণুগুচ্ছকে যৌগমূলক বলে।
অণু গঠনে কোনো পরমাণুর সর্বশেষ শক্তিস্তরে এক বা একাধিক জোড়া ইলেকট্রন বিদ্যমান থাকবে, এটিই হচ্ছে 'দুই' এর নিয়ম। যেমন: BeCl₂ অণুর কেন্দ্রীয় পরমাণু Be এর সর্বশেষ শক্তিস্তরে 2 জোড়া অর্থাৎ 4টি ইলেকট্রন এবং CI এর শেষ কক্ষপথে 4 জোড়া ইলেকট্রন বিদ্যমান। এজন্য BeCl₂ 'দুই এর নীতি' অনুসরণ করে।
উদ্দীপকের বিক্রিয়া-১ নিয়ে পাই-
সুতরাং, A যৌগটি । যৌগের বন্ধন গঠন প্রক্রিয়া বর্ণনা করা হলো-
যৌগের গঠন :
এর ইলেকট্রন বিন্যাস :
এর ইলেকট্রন বিন্যাস :
যৌগ গঠনের সময় কোনো পরমাণুর পক্ষে ইলেকট্রন ত্যাগ করা সম্ভব নয় বলে উভয় পরমাণু পরস্পরের সাথে ইলেকট্রন শেয়ারের মাধ্যমে সমযোজী বন্ধন গঠন করে। একটি C পরমাণুর 4টি যোজ্যতা ইলেকট্রনের সাথে 2টি O পরমাণু তাদের যোজ্যতা স্তরের 2টি করে ইলেকট্রন শেয়ার করে সমযোজী বন্ধনের মাধ্যমে যৌগ গঠন করে। এর অণুতে প্রতিটি অক্সিজেন পরমাণু C পরমাণুর সাথে দ্বিবন্ধনে যুক্ত। এর বন্ধন ডায়াগ্রামটি হলো,
উদ্দীপকের বিক্রিয়া-২ নিয়ে পাই-
সুতরাং, B ও P হলো যথাক্রমে (গ থেকে) ও Cu। নিচে এদের বিদ্যুৎ পরিবাহিতার তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো-
ও Cu এর বিদ্যুৎ পরিবাহিতার তুলনা: আয়নিক যৌগ হওয়ায় কঠিন অবস্থায় এর ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আয়নসমূহ কেলাস ল্যাটিসে নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করে বলে এরা বিদ্যুৎ অপরিবাহী। কিন্তু জলীয় দ্রবণ বা দ্রবীভূত অবস্থায় আয়নসমূহ কেলাস ল্যাটিস থেকে মুক্ত হয়ে ইতঃস্তত পরিভ্রমণ করে।
এর দ্রবণে দুটি ইলেকট্রোড প্রবেশ করালে ঋণাত্মক আয়ন ( ) অ্যানোডের দিকে এবং ধনাত্মক আয়ন ( ) ক্যাথোডের দিকে আকৃষ্ট হয়।
ক্যাথোডে পৌঁছার পর তা থেকে 2টি ইলেকট্রন গ্রহণ করে চার্জ নিরপেক্ষ ধাতুতে পরিণত হয়।
বিজারণ প্রক্রিয়া:
অপরদিকে, অ্যানোডে পৌঁছে 1টি ইলেকট্রন দান করে প্রথমে চার্জ নিরপেক্ষ হয় ও পরে নিজেদের মধ্যে যুক্ত হয়ে গ্যাসে পরিণত হয়।
জারণ প্রক্রিয়া:
এভাবে যৌগটির মধ্যে অ্যানোডে জারণ এবং ক্যাথোডে বিজারণ ঘটে এবং বিদ্যুৎ পরিবহন ঘটে।
অপরদিকে, Cu একটি ধাতু। এ কারণে এটি বিদ্যুৎ পরিবাহী। Cu ধাতব খণ্ডে মুক্তভাবে সঞ্চারণশীল ইলেকট্রনগুলো বিদ্যুৎ পরিবহনের কাজ করে। একটি Cu খণ্ডের দুই প্রান্তের সাথে ব্যাটারির ধনাত্মক (+) ও ঋণাত্মক (-) প্রান্ত সংযুক্ত করলে ইলেকট্রনগুলো ঋণাত্মক প্রান্ত থেকে ধনাত্মক প্রান্তের দিকে প্রবাহিত হয়। অর্থাৎ ধনাত্মক প্রান্ত থেকে ঋণাত্মক প্রান্তের দিকে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে যৌগে তথা তড়িৎ বিশ্লেষ্য পরিবাহীতে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে ও নতুন পদার্থের সৃষ্টি হয় এবং বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়; এক্ষেত্রে যৌগ দ্রবীভূত বা বিগলিত অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহন করে। কিন্তু Cu ধাতুতে ইলেকট্রন পরিবহনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। এক্ষেত্রে পরিবাহীতে (Cu ধাতু) সঞ্চারণশীল ইলেকট্রন বিদ্যুৎ পরিবহন করে।
