| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘বিলাসিতা ওরফে সভ্যতার…’ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ ২০২৬ – নেকলেস, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

বিলাসিতা ওরফে সভ্যতার সঙ্গে সঙ্গে ‘অনুকরণপ্রিয়তা’ নামক আর একটা ভূত তাহাদের স্কন্ধে চাপিয়া আছে। তাহাদের আর্থিক অবস্থা সামান্য একটু সচ্ছল হলেই তারা প্রতিবেশী বড়োলোকদের অনুকরণ করিয়া থাকে। তখন চাষার বউ ঝির যাতায়াতের জন্য সওয়ারি চাই, ধান ভানিবার জন্য ভারানি চাই ইত্যাদি।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২৮
মাতিলদা তার বান্ধবী মাদাম ফোরসটিয়ারের কাছ থেকে গয়না-ধার করেছিলেন।
বিলাসিতার বস্তুর অভাব এবং দারিদ্র্যের কারণে মাদাম লোইসেলের মনে সর্বদা দুঃখের ছায়া থাকে ।
'নেকলেস' গল্পে মাতিলদা লোইসেল তার সাধারণ জীবনে সুখী নন। তিনি সব সময় প্রাচুর্যে পরিপূর্ণ জীবন প্রত্যাশা করেন। তার সেই প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে যোগ ঘটে না। তাই তার দুঃখ আরও বেড়ে যায়। সাধারণভাবে মানুষ যে অবস্থায় থাকে সেটি তার কাছে সুখের মনে হয় না। তাই যে অবস্থায় আছে তাতে মাদাম লোইসেল সন্তুষ্ট নন। তিনি সর্বদা বিলাসপূর্ণ জীবনের ভাবনায় বিভোর থাকেন। কোনোভাবেই তিনি তার দরিদ্র দশাকে মেনে নিতে পারেন না। দরিদ্র পরিবারে জন্ম নিলেও তিনি সুরুচিপূর্ণ। তাই বাসকক্ষের দারিদ্র্য, হতশ্রী দেওয়াল, জীর্ণ চেয়ার এবং বিবর্ণ জিনিসপত্রের জন্য মাদাম লোইসেলের মনে সর্বদা দুঃখের ছায়া থাকে।
উদ্দীপকে 'নেকলেস' গল্পের বিলাসিতা ও সামাজিক অবস্থান বৃদ্ধির জন্য অনুকরণপ্রিয়তা ও কৃত্রিম জীবনযাপনের আকাঙ্ক্ষার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে।
'নেকলেস' গল্পে মাদাম লোইসেল মধ্যবিত্ত পরিবারের নারী হয়েও ধনী ও উচ্চবিত্ত সমাজের বিলাসিতার প্রতি গভীরভাবে আকৃষ্ট হন। তিনি তার সাধারণ জীবনকে ঘৃণা করেন এবং ধনী বান্ধবী মাদাম ফোরসটিয়ারের জীবনযাত্রা অনুকরণ করতে চান। আমন্ত্রিত পার্টিতে অংশগ্রহণের জন্য বান্ধবীর কাছে থেকে হীরার হার ধার নেন। তার নিজের সম্পর্কে অসন্তুষ্টি তার পরিণতিকে ভয়াবহ করে তোলে।
উদ্দীপকে বর্ণিত চাষার বউ বা পরিবারের আর্থিক অবস্থা সামান্য সচ্ছল হওয়ার পর তাদের মধ্যে যে বিলাসী চাহিদার সৃষ্টি হয় তা 'নেকলেস' গল্পের মাতিলদার মানসিকতারই প্রতিচ্ছবি। উভয় ক্ষেত্রেই ব্যক্তি বা পরিবার তাদের প্রকৃত সামাজিক অর্থনৈতিক অবস্থাকে উপেক্ষা করে উচ্চতর শ্রেণির জীবনধারা অনুকরণ করতে চায়। গল্পের মাতিলদা হারটি হারিয়ে মহাঋণের বোঝা বহন করেন, যা তার অনুকরণপ্রিয়তার ভয়ানক পরিস্থিতি। এটা দেখায় যে, বস্তুবাদী সমাজে নিম্ন বা মধ্যবিত্ত মানুষেরা উচ্চবিত্তের জীবনধারা অনুকরণ করে আত্মপরিচয়ের সংকট ও আর্থিক বিষর্পয় ডেকে আনে।
“উদ্দীপকটিতে গল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকের প্রতিফলন ঘটেছে, তবে অন্যান্য আরও দিক আছে”- মন্তব্যটি যুক্তিযুক্ত, কারণ গল্পের অহংকার ও বিলাসিতার করুণ পরিণতির দিকটি উদ্দীপকে নেই।
'নেকলেস' একটি বাস্তবধর্মী ও শিক্ষণীয় গল্প। যার বিষয়বস্তু হলো অহংকার, সামর্থ্যের বাইরে মর্যাদাবান হওয়ার আকাঙ্ক্ষা ও আত্মপ্রতারণার দুঃখজনক পরিণতি। গল্পের মাতিলদা ও তার স্বামীর ঋণের দায়ে দুর্বিষহ জীবন ও বিড়ম্বনাপূর্ণ সমাপ্তি পাঠককে ভাগ্য, বাস্তবতা ও মানুষের মোহ সম্পর্কে গভীর চিন্তায় নিয়ে যায়।
উদ্দীপকটি সমাজের গ্রামীণ নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যকার অনুকরণপ্রিয়তা ও বিলাসিতার আকাঙ্ক্ষা চিত্রিত করেছে। এখানে সওয়ারি চাওয়া ও ভারানি চাওয়ার মতো চাহিদাগুলো আসলে বাহ্যিক সম্মান ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির কৃত্রিম চেষ্টা। যার মূলে রয়েছে প্রতিবেশী বা উচ্চ শ্রেণির জীবনযাপনের প্রতি অন্ধ অনুকরণ। এটি 'নেকলেস' গল্পের মাতিলদার মানসিকতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। গল্পে নৈতিক শক্তির পরীক্ষা এবং জীবনের অর্থ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, যা উদ্দীপকে উপস্থাপিত হয়নি।
'নেকলেস' গল্পের স্ত্রী চরিত্র মাদাম লোইসেল একজন মধ্যবিত্ত গৃহবধূ। যিনি ধনী ও উচ্চবিত্ত জীবনের স্বপ্নে বিভোর। উদ্দীপকেও দেখানো হয়েছে, বাহ্যিক জাঁকজমকের মোহ মানুষকে অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিতে প্ররোচিত করে। গল্পের সম্পূর্ণতা এর চেয়ে বৃহত্তর। এটি একটি নৈতিক ট্র্যাজেডি ও নিয়তির ওপর এক দার্শনিক আলোচনা। গল্পের অপ্রত্যাশিত মোড় পাঠককে শুধু সমাজের বাহ্যিকতাকে নয়, মানুষের অযাচিত মোহ নিয় প্রশ্ন করতে শেখায়। উদ্দীপকে এই বিড়ম্বনা, আত্মশুদ্ধির যাত্রা বা দার্শনিক গভীরতার কোনো ইঙ্গিত নেই। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, উদ্দীপক গল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরলেও এর বহুস্তরীয় ও সর্বজনীন বার্তার সম্পূর্ণতা ধারণ করতে পারে না।