| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘জীববিজ্ঞান ব্যবহারিক ক্লাসে…’ সিলেট বোর্ড ২০২৫ – নগ্নবীজী ও আবৃতবীজী উদ্ভিদ, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

জীববিজ্ঞান ব্যবহারিক ক্লাসে শিক্ষার্থীরা ভিন্ন গোত্রের দুইটি উদ্ভিদ পর্যবেক্ষণ করল। প্রথম গোত্রের উদ্ভিদ ফুল একক, উপবৃতিযুক্ত, পরাগধানী বৃক্কাকার ও একপ্রকোষ্ঠি। দ্বিতীয় গোত্রের উদ্ভিদে পুষ্পবিন্যাস স্পাইকলেট, পরাগধানী রেখাকার এবং সর্বমুখ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৭
মুকুলাবস্থায় বৃত্যংশগুলো অথবা পাপড়িগুলো পরস্পরের সাথে কীভাবে বিন্যস্ত থাকে তাকে বলা হয় এস্টিভেশন বা পুষ্পপত্র বিন্যাস।
যে ফুলে পেয়ালাকৃতির পুষ্পাক্ষটি গর্ভাশয়কে পরিবৃত করে রাখে, অন্যান্য স্তবকগুলো গর্ভাশয়ের ওপরের দিকে সজ্জিত থাকে তাকে ইপিগাইনাস বা গর্ভশীর্ষ পুষ্প বলে। এই সাজানো রীতিকে ইপিগাইনি এবং এরূপ ফুলের গর্ভাশয়কে অধোগর্ভ গর্ভাশয় বলে। যেমন-সূর্যমুখী, কুমড়া, পেয়ারা, আপেল, কলা ইত্যাদি।
যা উদ্দীপকে উল্লেখিত দ্বিতীয় গোত্রের উদ্ভিদটি হলো ধান গাছ যা Poaceae গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। নিচে Poaceae গোত্রের উদ্ভিদের অর্থনৈতিক গুরুত্ব উল্লেখ করা হলো-
১. খাদ্যশস্য হিসেবে: Poaceae গোত্রের উদ্ভিদ যেমন- ধান, গম,, ভুট্টা, যব, জোয়ার, চিনা, কাউন, ওট প্রভৃতি খাদ্যশস্য হিসেবে মানুষের খাদ্যের যোগান দিয়ে থাকে।
২. গোখাদ্য হিসেবে: হাজার প্রজাতির ঘাস, যেমন- দূর্বাঘাস, কার্পেট ঘাস, ধানের পাতা, তৃণকান্ড ইত্যাদি গোখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
৩. কাগজ বা শিল্পোৎপাদনে: বাঁশ, নলখাগড়া, আখের ছোবড়া, উলুখড় থেকে কাগজ তৈরি করা হয়। এছাড়া বাঁশ দ্বারা ফার্নিচার তৈরি হয়।
৪. গুড় ও চিনি তৈরিতে: চিনিকলে আখের রস থেকে চিনি ও গুড় তৈরি করা হয়। পৃথিবীর প্রধান চিনি উৎপাদনকারী উদ্ভিদ হচ্ছে আখ।
৫. প্রসাধনী শিল্পে: আদা ঘাস ও লেবুঘাস থেকে প্রাপ্ত সুগন্ধি তেল প্রসাধনী শিল্পে ও পানীয় তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
৬. ভেষজ হিসেবে: আরগটের জন্য রাই গাছ চাষ করা হয়। আরগট উদ্ভিদ থেকে প্রস্তুত আরগট মিকশ্চার প্রসূতিদের জরায়ু সংকোচনের প্রতিষেধক হিসেবে প্রয়োগ করা হয়। দূর্বাঘাস রক্তপাত বন্ধ করে।
৭. অ্যালকোহল তৈরিতে: চিনিকলের বর্জ্য চিটাগুড় থেকে অ্যালকোহল, মেথিলেটেড স্পিরিট এবং দেশি মদ তৈরি করা হয়।
৮. গৃহনির্মাণ সামগ্রী ও জ্বালানির উৎস: বাঁশ মানুষের গৃহনির্মাণ সামগ্রীর অন্যতম উপাদান। এছাড়া ছন, ইকড়, কাশ ইত্যাদি-উদ্ভিদও গৃহনির্মাণে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বিভিন্ন প্রজাতির ঘাস ও বাঁশ গ্রামীণ জ্বালানির অন্যতম উৎস।
৯. সৌখিন বাগান তৈরিতে: সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে বাগানের লনে বিভিন্ন প্রজাতির মাসকে সৌখিন উদ্ভিদ হিসেবে রোপন করা হয়।
১০. ভূমিধ্বস রোধক: কতিপয় প্রজাতির ঘাস রাস্তা ও বাঁধের মাটি ক্ষয় রোধকল্পে এবং সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য দু'পাশে লাগানো হয়।
১১. আসবাবপত্র তৈরিতে: বিভিন্ন জাতের বাঁশ আসবাবপত্র তৈরিতে ও কুটির শিল্পে ব্যবহৃত হয়।