| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘জীববিজ্ঞান ক্লাসে এক…’ a – শৈবাল ও ছত্রাক, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

জীববিজ্ঞান ক্লাসে এক প্রকার সিমবায়োটিক সহঅবস্থান নিয়ে শিক্ষক আলোচনা করছিলেন যা যেকোনো পরিবেশে জন্মাতে পারে এবং পরিবেশ দূষণের নির্দেশক হিসেবে পরিচিত।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৫
Riccia থ্যালাসের যকৃতের মতো গঠনই হলো লিভারওয়ার্ট।
জেনেটিক কোড হলো জিনের একটি সাংকেতিক সজ্জারূপ যা প্রোটিন সংশ্লেষণের সময় অ্যামাইনো এসিডের অনুরূপ একটি সজ্জাকে নির্দিষ্ট করে। একে mRNA কোডও বলা হয়। এটি জীবের বংশগতির জৈব রাসায়নিক ভিত্তি এবং প্রায় সকল জীবে একইভাবে থাকে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত সিমবায়োটিক সহঅবস্থানটি হলো লাইকেন যা শৈবাল ও ছত্রাকের সহাবস্থানের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এক আদর্শ মিথোজীবী জীবন ব্যবস্থা। নিচে লাইকেনের অন্তর্গঠন বর্ণনা করা হলো-
লাইকেন একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও বিষমপৃষ্ঠ থ্যালাসবিশিষ্ট উদ্ভিদ। যার প্রস্থচ্ছেদ মাইক্রোস্কোপে দেখা যায় যে, ঊর্ধ্ব কর্টেক্স অঞ্চলটি ছত্রাকের অসংখ্য হাইফি দিয়ে গঠিত।
হাইফি অত্যন্ত ঘনভাবে বিন্যস্ত থাকে বলে হাইফির মাঝে কোষ ফাঁক নেই। ফাঁক থাকলেও ফাঁকা স্থানগুলো মিউসিলেজ জাতীয় পদার্থ দ্বারা পূর্ণ থাকে। এ অঞ্চল বেশ পুরু ও বহিঃত্বকের মতো কাজ করে। ঊর্ধ্ব কর্টেক্সের পরের অংশটি সবুজ বা নীলাভ সবুজ যেখানে অল্পসংখ্যক হাইফি ও পর্যাপ্ত পরিমাণে শৈবাল থাকে। একটি প্রজাতির লাইকেনে সর্বদা এক ধরনের শৈবাল থাকে। কতকগুলো প্রজাতিতে হাইফি হতে শৈবাল কোষে হস্টোরিয়া প্রবেশ করে। সবুজ অংশ তথা শৈবাল অঞ্চলের নিচে ফাঁকাভাবে বিন্যস্ত থাকে। ছত্রাকের হাইফি দিয়ে গঠিত মেডুলা অঞ্চল। এ অঞ্চলের হাইফি বেশ পুরু। হাইফি থ্যালাসের প্রান্তের দিকে বেশ পাতলা কিন্তু কেন্দ্রীয় অঞ্চলে ঘনভাবে সন্নিবিষ্ট। মেডুলা অঞ্চলের হাইফি শাখা-প্রশাখা বিভিন্ন দিকে বিস্তৃত। মেডুলা অঞ্চলের নিচে নিচে ঘনভাবে সন্নিবিষ্ট এবং থ্যালাসের সাথে উল্লম্বভাবে বা আনুভূমিক তলে বিস্তৃত ছত্রাকের হাইফিকে নিম্ন কর্টেক্স বলে। এ অঞ্চল থেকেই রাইজয়েড সদৃশ উপবৃদ্ধি বা রাইজাইনগুলোর জন্ম হয়। রাইজাইনগুলো লাইকেন থ্যালাসকে অবলম্বনের সাথে সংলগ্ন রাখে এবং খাদ্যরস শোষণ করতে সাহায্য করে। রাইজান হলো দেহের নিম্নাংশে চুলের ন্যায় একটি অঙ্গ, যা মূলের মতো কাজ করে থাকে।
উদ্দীপকে জীববিজ্ঞান শিক্ষক কর্তৃক আলোচিত সিমবায়োটিক সহঅবস্থানটি হলো লাইকেন। নিচে লাইকেনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো-
১. লাইকেন একটি অতি সাধারণ ও নিম্নশ্রেণির থ্যালয়েড উদ্ভিদ হলেও ভূমি ও বায়ুমন্ডলে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
২. লাইকেন নির্গত CO₂ জলীয়বাষ্প বা বৃষ্টির পানি বা কুয়াশার সাথে মিশে যে কার্বনিক অ্যাসিড তৈরি করে তা পাথর বা শিলা খণ্ডকে ক্ষয় করে ছোট ছোট মাটি কণায় পরিণত করে এবং মরুজ ক্রমাগমণের সূচনা করে যা একসময় বনভূমি সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে।
৩. লাইকেনের দেহ গঠনকারী সায়ানোব্যাকটেরিয়া (Nostoc, Anabaena) শৈবাল বায়ুর মুক্ত N₂ গ্যাসকে উদ্ভিদের গ্রহণ উপযোগী NH2, NO2, NO3 ইত্যাদিতে পরিণত করে।
৪. লাইকেন সৃষ্ট হিউমাস পানির ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে।
৫. উন্মুক্ত পাহাড় ও গাছের বাকলে লাইকেন জন্মে তাদের দৃষ্টিনন্দন করে।
৬. লাইকেন পরিবেশ দূষণের ইন্ডিকেটর হিসেবে কাজ করে।
৭. গাছের গুড়ি, পুরাতন ইটের দেয়াল ও ছাদে লাইকেনের দীর্ঘ অবস্থানের ফলে আবাসস্থল ক্ষয় ও ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।