জীববিজ্ঞান ক্লাসে শিক্ষার্থীরা জানতে পারল যে উদ্ভিদ একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি করে এবং অন্য একটি প্রক্রিয়ায় তাদের প্রস্তুতকৃত খাদ্য ভেঙে শক্তি উৎপাদন হয়।
প্রতিমোল ATP অণুর প্রান্তীয় ফসফেট গ্রুপে 7.3 কিলোক্যালরি (প্রায় 30.55 কিলোজুল) শক্তি জমা থাকে।
গৌণ বৃদ্ধি হলো উদ্ভিদের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধির পর তার কান্ড ও মূলের পরিধি বা পুরুত্বে যে বৃদ্ধি ঘটে, তাকে বুঝায়। এটি প্রধানত ভাস্কুলার ক্যাম্বিয়াম এবং কর্ক ক্যাম্বিয়াম নামক পার্শ্বীয় ভাজক টিস্যুর কোষ বিভাজনের মাধ্যমে ঘটে। এই বৃদ্ধি উদ্ভিদের কান্ড ও মূলকে আরও মোটা ও মজবুত করে তোলে। গৌণ বৃদ্ধি প্রধানত দ্বিবীজপত্রী এবং জিমনোস্পার্ম (নগ্নবীজী) উদ্ভিদে ঘটে। একবীজপত্রী উদ্ভিদে সাধারণত গৌণ বৃদ্ধি ঘটে না, তবে কিছু ব্যতিক্রম দেখা যায়।
উদ্দীপকের প্রথম শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়াটি হলো সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে সবুজ উদ্ভিদ খাদ্য তৈরি করে। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় সূর্যালোকের প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় আলোর গুরুত্ব অপরিসীম। পানি এবং CO₂ থেকে শর্করা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির উৎস আলো। সূর্যালোক ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে অংশগ্রহণ করে। সূর্যালোকের প্রভাবেই পত্ররন্দ্র উন্মুক্ত হয়, CO₂ পাতার অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারে এবং খাদ্য প্রস্তুতকরণে অংশগ্রহণ করে। কিন্তু পাতায় যেটুকু আলো পড়ে, তার অতি সামান্য অংশই সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়। আবার আলোকবর্ণালির লাল, নীল, কমলা এবং বেগুনি অংশটুকুতেই সালোকসংশ্লেষণ ভালো হয়। সবুজ কিংবা হলুদ আলোতে সালোকসংশ্লেষণ ভালো হয় না। একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত আলোর পরিমাণ বাড়লে সালোকসংশ্লেষণের হারও বেড়ে যায়। কিন্তু আলোর পরিমাণ অত্যধিক বেড়ে গেলে পাতার ভিতরকার এনজাইম নষ্ট হয়ে, ক্লোরোফিল উৎপাদন কম হয়। ফলে সালোকসংশ্লেষণের হারও কমে যায়। সাধারণত 400 nm থেকে 480 nm এবং 680 nm (ন্যানোমিটার) তরঙ্গদৈর্ঘ্য বিশিষ্ট আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে ভালো হয়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত দ্বিতীয় শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়াটি হলো শ্বসন প্রক্রিয়া। শ্বসন প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ উপাদান বা প্রভাবক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
১. খাদ্যদ্রব্য: শ্বসন প্রক্রিয়ায় খাদ্যদ্রব্য (শ্বসনিক বস্তু) ভেঙে শক্তি, পানি এবং নির্গত করে। তাই কোষে খাদ্যদ্রব্যের পরিমাণ ও ধরন শ্বসন হার নিয়ন্ত্রণ করে।
২. উৎসেচক: শ্বসন প্রক্রিয়ায় অনেক ধরনের এনজাইম বা উৎসেচক সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। কাজেই এনজাইমের ঘাটতি শ্বসনের হার কমিয়ে দেয়।
৩. কোষের বয়স: অল্পবয়স্ক কোষে, বিশেষ করে ভাজক কোষে প্রোটোপ্লাজম বেশি থাকে বলে সেখানে বয়স্ক কোষ থেকে শ্বসনের হার বেশি।
৪. অজৈব লবণ: কোনো কোনো লবণ শ্বসন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করলেও কোষের সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক কাজের জন্য এবং স্বাভাবিক শ্বসন প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য কোষের ভিতরে অজৈব লবণ থাকতে হয়।
৫. কোষমধ্যস্থ পানি: বিভিন্ন শ্বসনিক বস্তু দ্রবীভূত করতে এবং এনজাইমের কার্যকারিতা প্রকাশের জন্য পানি প্রয়োজন।
