| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘জীববিজ্ঞান ক্লাসে শিক্ষক…’ ঢাকা বোর্ড ২০১৭ – প্রাণীর আচরণ, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

জীববিজ্ঞান ক্লাসে শিক্ষক পাখিদের পরিযানের গুরুত্ব উপস্থাপনের পাশাপাশি মৌমাছি সম্পর্কে মন্তব্যে বললেন যে অন্যান্য প্রাণীর তুলনায় তাদের সামাজিক আচরণ অনেক উন্নত।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১২
কোন উদ্দীপকের উৎসের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে প্রাণীর দেহ অক্ষের অবস্থানগত পরিবর্তনই হলো ট্যাক্সিস।
একটি মৌচাকে পরিণত রাণী মৌমাছি মিলনের উদ্দেশ্যে চাক থেকে বের হয়ে উড়তে শুরু করে। তখন অনেকগুলো পুরুষ মৌমাছি রাণীর সাথে উড়তে থাকে। পুরুষ মৌমাছিদের মধ্যে যে সবচেয়ে উপরে উঠতে পারে সে রাণীর সাথে মিলিত হতে পারে। রাণী তখন পুরুষের সাথে মিলিত হয়ে শুক্রাণু সংগ্রহ করে রাখে ডিম পাড়ার জন্য। এই প্রক্রিয়াকেই নগসিয়াল উড্ডয়ন বলে।
উদ্দীপকে পাখিদের উপস্থাপিত বিষয়টি ছিল পাখিদের পরিযানের গুরুত্ব, যা নিম্নে ব্যাখ্যা করা হলো-
i. পাখিরা নানা কারনে যেমন- খাদ্যের স্বল্পতা, ঠাণ্ডার তীব্রতা, ঝড়ো আবহাওয়া ইত্যাদির হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বিভিন্ন সুবিধাজনক আবাসস্থলের খোঁজে পরিযানে অংশ গ্রহণ করে।
ii. পাখিদের শীতের শেষ ভাগে জননকোষের বৃদ্ধি ও প্রজনন অঙ্গের পরিপক্কতা আসার সঙ্গে সঙ্গে তাদের দেহের শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন আসে ফলে পাখিরা অভিপ্রয়ানে বাধ্য হয়।
iii. পাখিরা প্রতিকূল পরিবেশ থেকে নিজেদের ও ভবিষ্যৎ বংশধরদের রক্ষা করতে পরিযানে বাধ্য হয়।
iv. পরিযানের ফলে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি যখন দূরে কোন নতুন পরিবেশে জড়ো হয় তখন তাদের মধ্যে আন্তঃপ্রজননের ফলে জিন বিনিময়ের মাধ্যমে নতুন প্রকরণ উদ্ভব হয়।
V. পরিযান পাখির খাদ্যাভাস পরিবর্তনে সাহায্য করে। পাখিরা বিচিত্র ও পর্যাপ্ত আহার পায়।
vi. পাখিরা তাদের দেহে বিপুল পরিমান চর্বি সঞ্চিত করে। উক্ত সঞ্চিত চর্বি পাখির বিপাকীয় কার্যকলাপে যে পরিবর্তন আনে তাই পাখিকে পরিযানের বাধ্য করে।
vii. পাখিদের পরিযানের মাধ্যমে সর্বস্তরের মধ্যে প্রতিযোগিতা হ্রাস পায়।
viii. পরিযানের মাধ্যমে পাখিরা উপযোগী ও নিষ্কন্টক জননক্ষেত্র পায়।
উপরোক্ত আলোচনায় বোঝা যায়-পরিযান পাখিদের অস্তিত্ত্বের জন্য, তাদের শক্তি সংগ্রহের জন্য, নতুন উদ্দামে বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য।
উদ্দীপকের দ্বিতীয় প্রাণীটি হলো মৌমাছি।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, অন্যান্য প্রাণীর তুলনায় মৌমাছির সামাজিক আচরণ অনেক উন্নত। নিচে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করা হলো-
মৌমাছি Arthropoda পর্বের Insecta শ্রেণীর একটি প্রাণী। মৌমাছি সামাজিক প্রাণী। এরা অত্যন্ত অ্যালটুইস্টিক। এরা নিজের স্বার্থে কোন কাজ করে না। মৌচাকে যে সদস্যরা থাকে তারা বিভিন্ন গোষ্ঠীতে ভাগ হয়ে অবস্থান করে ও কাজে নিযুক্ত থাকে। একটি মৌচাকে তিন ধরনের মৌমাছি থাকে। যথা- রাণী মৌমাছি, পুরুষ মৌমাছি এবং কর্মী মৌমাছি। প্রত্যেকের কর্মকান্ড ভিন্ন ভিন্ন এবং এদের প্রত্যেকের কাজের মধ্যে শ্রমবণ্টন সুষ্পষ্ট ভাবে লক্ষণীয়।
রাণী মৌমাছির কাজ ডিমপাড়া। পুরুষ মৌমাছির কাজ রাণীর সাথে প্রজননে লিপ্ত হয়ে পর্যাপ্ত ডিম উৎপন্ন নিশ্চিত করা। কর্মী মৌমাছিরা মূলত মৌচাক পরিচ্ছন্ন করে, বাচ্চার যত্ন নেয়, খাদ্য অন্বেষণ করে, মৌচাক পাহারা দেয় ও অনুপ্রবেশকারীকে আক্রমণ করে, রাণীর পরিচর্যা করে, মৌচাকের অন্যান্য সদস্যদের যত্ন নেয়, খাদ্য প্রদান করে, মোম উৎপাদন করে এবং চাক গঠন করে। মৌচাকের সকল মৌমাছি তার অবস্থান থেকে নিজ নিজ দায়িত্ব কঠোর ভাবে পালন করে। রাণী মৌমাছি মৌচাকের যাবতীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে আজীবন এক অটুট সমাজ পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকে। এভাবে একটি চাকে মৌমাছির সকল সদস্য শ্রমবন্টনের ভিত্তিতে কাজ করে থাকে যা মনুষ্য সমাজে দেখা গেলেও অন্যান্য অনেক প্রাণীতে দেখা যায় না।
কাজেই বলা যায় যে, অপর যে কোন প্রাণীর তুলনায় মৌমাছির সামাজিক আচরণ অনেক উন্নত।