জীববিজ্ঞান ক্লাসে শিক্ষক বললেন যে, স্বভোজী জীবের গঠনে ‘X’ ও ‘Y’ নামক দুটি আবরণ আছে যেখানে ‘X’ আবরণটি সজীব হলেও ‘Y’ আবরণটি মৃত। তিনি আরও বললেন যে, ‘Y’ আবরণটি বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান দিয়ে গঠিত।
যে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় নিউক্লিয়াস দু'বার এবং ক্রোমোজোম একবার বিভক্ত হয় এবং মাতৃকোষের তুলনায় অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক হয় তাকে মিয়োসিস কোষ বিভাজন বলে।
কোষের ভিতরে অর্ধস্বচ্ছ, থকথকে জেলির মতো যে বস্তু থাকে তাই প্রোটোপ্লাজম। কোষঝিল্লি দিয়ে ঘেরা সবকিছুই প্রোটোপ্লাজম, এমনকি কোষঝিল্লি নিজেও প্রোটোপ্লাজমের অংশ। কোষঝিল্লি ছাড়াও এখানে আছে সাইটোপ্লাজমীয় বিভিন্ন অঙ্গাণু যেমন- মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাস্টিড, গলজিবস্তু, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম, কোষগহ্বর, লাইসোজোম, কোষকঙ্কাল, রাইবোজোম, সেন্ট্রোজোম এবং নিউক্লিয়াস থাকে। এছাড়া জীবের দেহে সংঘটিত সব জৈবিক কার্যক্রম; যেমন- শ্বসন, খাদ্যগ্রহণ, বর্জ্য নিষ্কাশন, বংশগতি, কোষ বিভাজন ইত্যাদি প্রোটোপ্লাজমেই সংঘটিত হয়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত 'Y' দ্বারা উদ্ভিদকোষে বিদ্যমান কোষপ্রাচীরকে বুঝানো হয়েছে। কোষপ্রাচীরের রাসায়নিক গঠন ভিন্ন। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
কোষপ্রাচীর উদ্ভিদকোষের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। এটি মৃত বা জড়বস্তু দিয়ে তৈরি। প্রাণিকোষে কোষপ্রাচীর থাকে না। প্রজাতিভেদে কোষপ্রাচীরের রাসায়নিক গঠনে ভিন্নতা দেখা যায় এবং এদের গঠন বেশ জটিল। ছত্রাকের কোষপ্রাচীর কাইটিন দিয়ে তৈরি। শৈবালের কোষপ্রাচীর গ্লাইকোপ্রোটিন ও পলিস্যাকারাইড এবং ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর প্রোটিন, লিপিড ও পলিস্যাকারাইড দিয়ে তৈরি। উন্নত উদ্ভিদের কোষপ্রাচীর প্রধানত সেলুলোজ নামক পলিস্যাকারাইড নিয়ে গঠিত। সেলুলোজ ছাড়াও কোষপ্রাচীরে যে সকল কার্বোহাইড্রেট থাকে তাদের মধ্যে হেমিসেলুলোজ, পেকটিন, লিগনিন, সুবেরিন, কিউটিন ইত্যাদি প্রধান। প্রাথমিক কোষ প্রাচীরটি একস্তরবিশিষ্ট। মধ্য পর্দার উপর প্রোটোপ্লাজম থেকে নিঃসৃত কয়েক ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য জমা হয়ে ক্রমশ গৌণপ্রাচীর সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত 'X' আবরণটি হলো কোষঝিল্লি, যা সজীব এবং 'Y' আবরণটি হলো কোষপ্রাচীর, যা মৃত ব্য জড়বস্তু দিয়ে তৈরি। উদ্ভিদকোষে কোষপ্রাচীর এবং কোষঝিল্লি দুটোই থাকে। কিন্তু প্রাণিকোষে কোনো কোষপ্রাচীর থাকে না শুধুমাত্র কোষঝিল্লি থাকে। কোষপ্রাচীর এবং কোষঝিল্লি জীবদেহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
জীবদেহে কোষপ্রাচীরের ভূমিকা:
১. কোষপ্রাচীর কোষকে দৃঢ়তা প্রদান করে।
২. কোষের আকার ও আকৃতি বজায় রাখে।
৩. পাশের কোষের সাথে প্লাজমোডেজমাটা (আণুবীক্ষণিক নালি) সৃষ্টির মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করে।
৪. পানি ও খনিজ লবণ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে।
৫. কোষ বিভাজনের ধারা বজায় রাখে ও বৃদ্ধি ঘটাতে সাহায্য করে।
৬. কোষপ্রাচীর শোষণ, প্রস্বেদন, সংবহন ও ক্ষরণে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
জীবদেহে কোষঝিল্লির ভূমিকা:
১. এটি কোষীয় সব বস্তুকে ঘিরে রাখে।
২. কোষঝিল্লি একটি বৈষম্যভেদ্য পর্দা হওয়ায় অভিস্রবণের মাধ্যমে পানি ও খনিজ লবণ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে।
৩. পাশাপাশি কোষগুলোকে পরস্পর থেকে আলাদা করে রাখে।
৪. বিভিন্ন এনজাইম ধারণ করে।
৫. পারস্পরিক বন্ধন, বৃদ্ধি ও চলন ইত্যাদি কাজেও এর ভূমিকা আছে।
৬. শ্বসন ও অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় কাজে শক্তি পরিবহণ করে।
