| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘জীববিজ্ঞান ক্লাসে শিক্ষক…’ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ ২০২৬ – প্রাণীর আচরণ, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

জীববিজ্ঞান ক্লাসে শিক্ষক পাখিদের পরিযানের গুরুত্ব উপস্থাপনের পাশাপাশি মৌমাছি সম্পর্কে মন্তব্যে বললেন যে, “অন্যান্য প্রাণীর তুলনায় তাদের সামাজিক আচরণ অনেক উন্নত”।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১২
রাসায়নিক পদার্থের প্রতি সাড়া প্রদান করে স্থান পরিবর্তনকে কেমোট্যাক্সিস বলে। যেমন- প্যারামেসিয়াম মৃদু এসিডের প্রতি ধনাত্মক ও কিছু রাসায়নিক পদার্থের প্রতি ঋণাত্মক সাড়া দেয়।
সামাজিক প্রাণী বললেই প্রথমে আমাদের চোখের সামনে ভেসে উঠে মৌমাছিসহ একটি মৌচাকের কথা। আর একটি মৌচাকে যে সদস্যরা থাকে তারা বিভিন্ন গোষ্ঠীতে ভাগ হয়ে অবস্থান ও কাজে নিযুক্ত থাকে। চাকের প্রত্যেক সদস্য নিজের স্বার্থের দিকে না তাকিয়ে অন্য সদস্যদের কল্যাণে একমনে কাজ করে যায়। সমাজের সদস্যদের এমন মনোভাবই হলো অ্যালটুইজম।
উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রাণীটি হলো পাখি। বেঁচে থাকার তাগিদে প্রাণীদের একস্থান হতে অন্যস্থানে পরিভ্রমণকেই মাইগ্রেশন বা পরিযান বলা হয়, যা একটি সহজাত আচরণ। নিচে উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রাণীর পরিযানের কারণ ব্যাখ্যা করা হলো-
১. তীব্র ঠাণ্ডা ও ঝড়ো আবহাওয়া থেকে পরিত্রাণে পরিযায়ী আচরণ সাহায্যকারী ভূমিকা পালন করে।
২. খাদ্য অন্বেষণের জন্য স্বল্প দৈর্ঘ্য দিন পরিহার করে অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ আলোক উজ্জ্বল দিনের সন্ধানে পাড়ি জমাতে পরিযায়ী আচরণ ভূমিকা রাখে।
৩. পরিযানের মাধ্যমে একই প্রজাতি বিভিন্ন জাতের পাখি দূরের কোনো নতুন স্থানে সমবেত হয়ে তাদের আন্তঃপ্রজননে জিন বিনিময়ের সুযোগ ঘটে। এতে নতুন প্রকরণের উদ্ভব হয়।
৪. পরিযায়ী আচরণ পাখির জননাঙ্গের বিকাশকে ত্বরান্বিত করে।
৫. পরিযান অনেক পাখির খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন ঘটায়।
কোনো প্রাণী প্রজাতির বিভিন্ন সদস্যের মধ্যে নির্দিষ্ট সময়ে বা সারা জীবনব্যাপী আত্মত্যাগ, সংহতি, সহনশীলতা, শৃঙ্খলাবদ্ধতার ভিত্তিতে বসবাসের জন্য যে আচরণ প্রকাশিত হয় তাকে সামাজিক আচরণ বলে। মৌমাছির সামাজিক আচরণ একটি উজ্জল দৃষ্টান্ত। উদ্দীপকের দ্বিতীয় আচরণটি মৌমাছির সামাজিক আচরণ। নিম্নে তা - সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো-
সামাজিক আচরণের বৈশিষ্ট্য:
১. এতে একই প্রজাতিভূক্ত অনেক সদস্য একসাথে বিভিন্ন রকমের সহযোগিতা দেখানোর মাধ্যমে সম্পর্কিত থাকে।
২. পরস্পর সম্পর্কযুক্ত সদস্যদের নিয়ে একটি নির্দিষ্ট সংগঠন সৃষ্টি হয় যাতে সুস্পষ্ট শ্রমের বণ্টন থাকে।
মৌমাছির সামাজিক আচরণ:
১. শ্রমবন্টন: কলোনীবাসীর জন্য নিবেদিত প্রাণ কর্মী মৌমাছিদের শৈশব বলতে কিছু নেই। ৩-৪ দিন বয়স হতেই তারা চাকের মধু-কুঠুরি পরিষ্কারের কাজ করে। ১৮ ২০ দিন বয়সল মধু আহরণে বের হয়। এর পূর্ব পর্যন্ত তারা রক্ষী হিসেবে বাসা পাহারা দেয়। শেষ বয়সে কর্মী মৌমাছি পানি বহন করে, অবসর যাপন করে এবং বেশি দূরে যায় না।
২. খাদ্যেল যোগান: দুর্যোগ মোকাবেলায় বিশেষ করে শীতকালে এবং প্রতিদিনকার খাদ্যের সংস্থান ও মজুদ গড়ে তোলার জন্য প্রত্যেক কলোনীর কর্মী মৌমাছিরা সকাল-সন্ধা অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলে।
৩. ভাবাবেগ প্রকাশ: মৌমাছিরা তাদের ভাবাবেগ কিছুটা প্রকাশ করে নৃত্যভঙ্গিমায়।
৪. প্রতিরক্ষা: বাহিরের আক্রমণ হতে মৌচাক রক্ষা করতে সর্বদা পাহারারত থাকে।
৫. উত্তরাধিকার নির্বাচন: মৌচাকে রানীর মৃত্যু হলে তারা বিপর্যস্ত হয়ে
পড়ে। রানী মারা গেলে তারা তিনদিন বয়সের এক বা একাধিক ডিম বেছে নিয়ে প্রশস্ত খোপে রেখে দেয়। রানী হিসেবে নির্বাচিত লার্ভাকে বিশেষভাবে প্রস্তুত রাজসিক জেলি খাওয়ানো হয় বলে সেটি রানী মৌমাছিরূপে বেড়ে উঠে। এভাবে একেকটি মৌ-সমাজ টিকে থাকে।