| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘জীববিজ্ঞান ক্লাসে শিক্ষক…’ রাজশাহী বোর্ড ২০২১ – টিস্যু ও টিস্যুতন্ত্র, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

জীববিজ্ঞান ক্লাসে শিক্ষক টিস্যু নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বললেন, “উদ্ভিদে মূল ও বিটপের শীর্ষে এক ধরনের টিস্যু পাওয়া যায়, যার কারণে উদ্ভিদ মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।”
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৮
কাণ্ড ও মূলের কেন্দ্রে অবস্থিত পরিচক্র থেকে মজ্জা পর্যন্ত বিস্তৃত টিস্যুগুচ্ছই স্টিলি ।
কিছু উদ্ভিদের পাতার কিনারা ও শীর্ষে তরল আকারে পানি নির্মোচনের যে বিশেষ ধরনের রন্ধ্র থাকে তাকে পানি পত্ররন্ধ্র বা হাইডাথোড বলে। হাইডাথোড দিয়ে পানি বের হওয়াকে নির্গমন বা চোয়ানো বা গাটেশন বলে। এ শীর্ষে রক্ষীকোষ দ্বারা পরিবেষ্টিত একটি রন্ধ্র থাকে, রন্ধ্রের নিচে একটি পত্ররন্ধ্রীয় গহ্বর ও গহ্বরের নিচে এপিথেলিয়াম নামক অনেকগুলো অসংলগ্ন কোষ থাকে। কচুরিপানা, ঘাস, টমেটো, কচু, প্রিমুলা ইত্যাদি উদ্ভিদে এটি দেখা যায়।
উদ্দীপকে শিক্ষক যে টিস্যু নিয়ে আলোচনা করেছেন, যা উদ্ভিদের মূল ও বিটপের শীর্ষে পাওয়া যায় তা হলো ভাজক টিস্যু। নিচে ভাজক টিস্যুর বৈশিষ্ট্যসমূহ উল্লেখ করা হলো-
১. কোষগুলো জীবিত, অপেক্ষাকৃত ছোট এবং সমব্যাসীয়।
২. ভাজকটিস্যুর কোষগুলো বিভাজন ক্ষমতাসম্পন্ন
৩. ভাজক টিস্যুর কোষগুলো সাধারণত আয়তাকার, ডিম্বাকার, পঞ্চভুজ বা ষড়ভুজাকার ।
৪. ভাজক টিস্যুর কোষে সাধারণত কোষগহ্বর থাকে না।
উদ্দীপকে শিক্ষক উদ্ভিদের যে টিস্যু নিয়ে আলোচনা করলেন তা হলো ভাজক টিস্যু। ভাজক টিস্যু কোষগুচ্ছের উৎপত্তি ও কাজের ভিন্নতার উপর নির্ভর করে টিস্যু বিভিন্ন রকমের হয়। নিচে উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন করা হলো-
উৎপত্তি অনুসারে ভাজক টিস্যুর শ্রেণিবিভাগ : উৎপত্তি অনুসারে ভাজক টিস্যু ৩ প্রকার। যথা :
১. প্রারম্ভিক ভাজক টিস্যু : মূল বা কাণ্ডের অগ্রভাগের শীর্ষদেশে একটি ক্ষুদ্র অঞ্চল রয়েছে যেখান থেকে পরবর্তীতে প্রাইমারি ভাজক টিস্যুর উৎপত্তি ঘটে, তাকে প্রারম্ভিক ভাজক টিস্যু বলে। এ অঞ্চল থেকেই প্রথম বৃদ্ধি শুরু হয়।
২. প্রাইমারি ভাজক টিস্যু : যে ভাজক টিস্যু উদ্ভিদের ভ্রূণাবস্থায়ই উৎপত্তি লাভ করে তাকে প্রাইমারি ভাজক টিস্যু বলা হয়।
৩. সেকেন্ডারি ভাজক টিস্যু : যে ভাজক টিস্যু কোনো স্থায়ী টিস্যু হতে পরবর্তী সময় উৎপন্ন হয়, তাকে সেকেন্ডারি ভাজক টিস্যু বলে । এটি উদ্ভিদের ভ্রুনাবস্থার অনেক পরে সৃষ্টি হয়।
কাজ অনুসারে : কর্মপ্রক্রিয়া অনুসারে ভাজক টিস্যুকে নিম্নলিখিত তিন ভাগে ভাগ করা হয় :
১. প্রোটোডার্ম : যে ভাজক টিস্যুর কোষসমূহ উদ্ভিদদেহের ত্বক সৃষ্টি করে তাকে প্রোটোডার্ম বলে। মূল, কাণ্ড ও এদের শাখা-প্রশাখার ত্বক (এপিডার্মিস বা এপিব্লেমা) সৃষ্টি করা হলো প্রোটোডার্ম-এর কাজ ২. প্রোক্যাম্বিয়াম : ক্যাম্বিয়াম, জাইলেম ও ফ্লোয়েম সৃষ্টিকারী ভাজক টিস্যুকে প্রোক্যাম্বিয়াম বলে। পরিবহন টিস্যু সৃষ্টি করাই প্রোক্যাম্বিয়ামের কাজ । ৩. গ্রাউন্ড মেরিস্টেম : শীর্ষস্থ ভাজক টিস্যুর যে অংশ বারবার বিভাজিত হয়ে উদ্ভিদ দেহের মূল ভিত্তি তথা কর্টেক্স, মজ্জা ও মজ্জারশ্মি সৃষ্টি করে তাকে গ্রাউন্ড মেরিস্টেম বলে।