| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘জীববিজ্ঞান পাঠ্যপুস্তকে এমন…’ বরিশাল বোর্ড ২০১৯ – প্রাণীর পরিচিতি, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

জীববিজ্ঞান পাঠ্যপুস্তকে এমন একটি প্রাণী আছে যার কতগুলো লম্বা -ফাঁপা সুতার মতো সুত্রক আছে যা খাদ্য গ্রহণ, আত্মরক্ষা ও চলনে সহায়তা করে। এছাড়াও প্রাণীটিতে সুস্পষ্ট ভ্রুনীয় পরিস্ফুটন প্রক্রিয়া বিদ্যমান।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ২
হাইড্রার ডিম্বানুকে উওটিড বলা হয়। মিয়োসিস পদ্ধতিতে উওসাইট থেকে উওটিড সৃষ্টি হয়। উওটিড রূপান্তরিত ও বৃদ্ধিলাভ করে পূর্ণাঙ্গ ডিম্বাণুতে পরিণত হয়।
Cnidaria জাতীয় প্রাণীদের এপিডার্মিস ও গ্যাস্ট্রোডার্মিসের মাঝখানে অবস্থিত ০.১μ ব্যাস বিশিষ্ট, জেলির মতো আঠালো, স্থিতিস্থাপক, পাতলা, বর্ণহীন এবং উভয় কোষ স্তর নিঃসৃত স্তরটির নাম মোসোগ্লিয়া। এতে স্নায়ুতন্তু আড়াআড়িভাবে অবস্থান করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাণীটি হলো হাইড্রা। হাইড্রা সমার সল্টিং বা ডিগবাজি পদ্ধতিতে দ্রুত চলাচল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো:
মানুষের ডিগবাজি দেওয়ার মতো করে হাইড্রা এ চলন সম্পন্ন করে। এ পদ্ধতিতে হাইড্রা খুব দ্রুত এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্থানান্তরিত হতে পারে। এ প্রক্রিয়ার শুরুতে প্রাণীটি তার দেহকে বাঁকিয়ে কর্সিকাগুলো চলনতলে স্থাপন করে গ্লুটেন্যান্ট নেমাটোসিস্ট সহায়তায় কর্ষিকাগুলো চলনতলকে আঁকড়ে ধরে রাখে। এতে একটি লুপ গঠিত হয়। এরপর হাইড্রা তার পদচাকতি হতে মুক্ত করে ৯০°কোণে দেহকে কৌশিকার ওপর ভর করিয়ে উল্টা দাঁড় করায়। পরক্ষণে আবার দেহকে সামনের দিকে বাঁকে পাদচাকটি দিয়ে চলনতল স্পর্শ করে। ফলে আরেকটি লুপ গঠিত হয়। পাদ চাকতি চলনতল আঁকড়ে ধরে কর্ষিকা গুলোকে তল হতে মুক্ত করে এবং এগুলো উপরের দিকে করে আবার সোজা হয়ে দাঁড়ায়। তখন পুরো দেহের ভর পাদ চাকতির উপরে থাকে। এ পদ্ধতি বারবার অনুসরণ করে হাইড্রা দ্রুত চলন সম্পন্ন করতে পারে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রক্রিয়াটি হলো ভ্রুনীয় পরিস্ফুটন প্রক্রিয়া। ভ্রুনীয় পরিস্ফুটন প্রক্রিয়াটি শিশু প্রাণীর পুনরুৎপত্তির সহায়ক নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
পরিস্ফুটন: যেসব ক্রমান্বিত পরিবর্তনের মাধ্যমে জাইগেট থেকে শিশু প্রাণের উৎপত্তি ঘটে তাকে পরিস্ফুটন বলে। জাইগেট নানা ধরনের পরিস্ফুটন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ হাইড্রাই পরিনত হয়।
হাইড্রার পরিস্ফুটনকালে নিম্নোক্ত পর্যায় সমূহ দেখা যায়:
১. মরুলা: জাইগোট মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বরাবর বিভাজিত হয়ে বহুকোষী নিরেট ও গোলাকার কোষপিন্ডে পরিণত হয় তাকে মরুলা বলে।
২. ব্লাস্টুলা: শীঘ্রই মরুলার কোষ গুলো একস্তরের সজ্জিত হয়ে একটি ফাঁপা, গোলাকার ভ্রুনে পরিণত হয়। এর নাম ব্লাস্টুলা।
৩. গ্যাস্টুলা: ব্লাস্টুলা গ্যাস্ট্রলেশন পদ্ধতিতে দ্বিস্তর বিশিষ্ট গ্যাস্টুলায় পরিণত হয়। এটি এক্টোডার্ম ও আদি সিলেন্টেরন নিয়ে গঠিত। মাতৃ দেহের সাথে সংযুক্ত এ গ্যাস্টুলাকে স্টোরিওগ্যাস্টুলা বলে। গ্যাস্টুলার চারদিকে একটি কাইটিননির্মিত কাটাযুক্ত সিস্ট আবরণী গঠিত হয়। সিস্টবদ্ধ ভ্রুনটি মাতৃ হাইড্রা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে জলাশয়ের তলদেশে চলে যায়।
৪. হাইড্রুলা: বসন্তের শুরুতে অনুকূল তাপমাত্রায় সিস্টের মধ্যেই ভ্রুণটি ক্রমশ লম্বা হতে থাকে। এবং এর অগ্রপ্রান্তে হাইপ্রোস্টাম; মুখ ছিদ্র ও কর্ষিকা এবং পশ্চাৎ প্রান্তে পদ-চাকতি গঠিত হয়। ভ্রুনের এই দশাকে হাইড্রুলা বলে।