| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘জীববিজ্ঞানের ক্লাসে শিক্ষার্থীরা…’ রংপুর ক্যাডেট কলেজ ২০২৫ – জীবপ্রযুক্তি, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

জীববিজ্ঞানের ক্লাসে শিক্ষার্থীরা এমন একটি প্রযুক্তি সম্পর্কে শিখেছিল যার মাধ্যমে জীবন রক্ষাকারী রাসায়নিক বার্তাবাহক উৎপন্ন হয়, যা প্রকৃতপক্ষে মানব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়েন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই প্রযুক্তি পরিবেশ পরিচালনায়ও গুরুত্বপূর্ণ, ভূমিকা পালন করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১১
ব্যাকটেরিয়ার সাইটোপ্লাজমে মূল ক্রোমোসোম ছাড়াও যে বৃত্তাকার দ্বিসূত্রক DNA অণু থাকে তাই প্লাজমিড।
ত্বক অবিচ্ছন্ন নয়। ত্বকের বিভিন্ন জায়গায় কিছু কিছু রন্দ্র বা ছিদ্র থাকে। এদের ত্বকীয় রন্দ্র বলে। রন্দ্রগুলো দু'রকম যথা- ক. পত্ররন্ধ্র এবং খ. পানি পত্ররন্ধ্র। উদ্ভিদের সুবজ অংশের ত্বকে, কচিকান্ড ও পাতায় দুটি অর্ধচন্দ্রাকৃতির রক্ষীকোষ দ্বারা পরিবেষ্টিত ক্ষুদ্র ছিদ্রকে পত্ররন্ধ্র বা স্টোম্যাটা বলে। আর হাইডাথোড এক বিশেষ ধরনের পানি নির্মোচন অঙ্গ। গাছের পাতার কিনারা ও শীর্ষে বিশেষ ধরনের ছিদ্র থাকে যা দিয়ে পানি তরল আকরে বের হয়ে যায়।
উদ্দীপকে নির্দেশিত কৌশলটি হলো জীব প্রযুক্তি বা রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তি এবং রাসায়নিক বার্তাবাহক বলতে ইন্টারফেরন নামক নির্দিষ্ট প্রজাতির হরমোনকে বুঝানো হয়েছে। রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তির মাধ্যমে রাসায়নিক বার্তাবাহক বা ইন্টারফেরন কীভাবে উৎপন্ন হয় তা ব্যাখ্যা করা হলো-
১. মানুষের ফাইব্রোব্লাস্ট কোষ থেকে DNA আহরণ করা হয় এবং তা থেকে ইন্টারফেরন কোড বহনকারী জিন পৃথক করা হয়।
২. একটি উপযুক্ত প্লাসমিডকে রেস্ট্রিকশন এনজাইম দিয়ে কাটা হয়।
৩. এবার ইন্টারফেরন জিন অংশকে DNA লাইগেজ এনজাইম দিয়ে প্লাসমিডের কাটা (ফাঁকা) অংশে সংযুক্ত করা হয়। অর্থাৎ একটি রিকম্বিনেন্ট DNA অণু তৈরি করা হয়।
৪. ইন্টারফেরন জিনসহ রিকম্বিনেন্ট DNA-কে E.coli ব্যাকটেরিয়াতে প্রবেশ করানো হয়।
৫. এবার আবাদ মাধ্যমে রিকম্বিনেন্ট DNA বিশিষ্ট E.coli-এর ব্যাপক বংশবৃদ্ধি করা হয়। E.coli কর্তৃক উৎপাদিত ইন্টারফেরন আবাদ মাধ্যমে নিঃসৃত হয়।
৬. বিশুদ্ধকৃত ইন্টারফেরন বিশেষ পদ্ধতিতে সংরক্ষণ ও বাজারজাত করা হয়।
উদ্দীপকের শেষ লাইনের সাথে আমি একমত। পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত প্রক্রিয়াটি হলো রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তি নিচে পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তির গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো-
পরিবেশ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে জীবপ্রযুক্তির ব্যবহার সম্বন্ধে নিচে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা করা হলো।
(ক) কলকারখানা ও খনি থেকে নির্গত বর্জ্য : কলকারখানা ও খনি থেকে নির্গত বর্জ্য পরিবেশ দূষণ ঘটায়। কলকারখানা থেকে নির্গত বর্জ্যে বিভিন্ন অণুজীব জন্মায় এবং বর্জ্য পদার্থকে ভেঙে সরল উপাদানে পরিণত করে। অণুজীবের সহায়তায় দুধের কারখানা হতে নির্গত বর্জ্য থেকে ল্যাকটিক অ্যাসিড তৈরি করা হয়। কাগজ ও কাগজের মণ্ড থেকে নির্গত বর্জ্য পদার্থে Torula নামক ঈস্ট জন্মায় যার মধ্যে প্রচুর আমিষ থাকে। কাগজ শিল্পের কাঁচামাল ব্লিচ করতে ক্লোরিন ব্যবহৃত হয়। এ ক্লোরিনজনিত দূষণ থেকে পরিবেশকে বিভিন্ন ছত্রাক ব্যবহার করে সহজেই মুক্ত করা যায়। পাট, বস্ত্র ও চিনি শিল্পের সেলুলোজ জাতীয় বর্জ্যকেও বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাকের মাধ্যমে উপকারী দ্রব্যে রূপান্তর করা যায়, ফলে একদিকে পরিবেশ দূষণমুক্ত হয় এবং অপরদিকে প্রয়োজনীয় লাভজনক দ্রব্য পাওয়া যায়, যেমন- ল্যাকটিক অ্যাসিড, টারটারিক অ্যাসিড, ইথানল, প্রোটিন, ভিটামিন, রিন ইত্যাদি।
(খ) সমুদ্রে নির্গত তেল পরিশোধন:বিভিন্ন উপায়ে সমুদ্রে তেল-এর মাধ্যমে দূষণ ঘটতে পারে। তেল পানি অপেক্ষা হালকা এবং অদ্রবণীয় বলে তা পানির উপর ভাসতে থাকে এবং স্তরের সৃষ্টি করে। তেলের এ স্তর সমুদ্রে বসবাসকারী বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণীর অনেক ক্ষতি করে। কিন্তু সমুদ্রে যে সমস্ত হাইড্রোকার্বন অক্সিডাইজিং অণুজীব বাস করে তারা অদ্রবণীয় তেল দানার সাথে লেগে থেকে সংখ্যায় বৃদ্ধি করে এবং অক্সিজেনের উপস্থিতিতে তেলকে ভেঙে সরল উপাদানে পরিণত করে এবং তেল দূষণ থেকে মুক্ত করে। Pseudomonas, Mycobacteria, বিশেষ ধরনের ঈস্ট ও মোল্ড জাতীয় ছত্রাক হাইড্রোকার্বন অক্সিডাইজিং অণুজীব হিসেবে কাজ করে থাকে।
(গ) পয়ঃবর্জ্য বা সিউয়েজ আত্তীকরণ : ঘরবাড়ি, মহল্লা বা কৃষিখামার হতে নির্গত মলমূত্র ও জঞ্জালকে সিউয়েজ নর্দমার ময়লা বলে। অনেক সময় ঝড়বৃষ্টির পরিত্যক্ত পানিও ভূগর্ভস্থ নর্দমা দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সিউয়েজে পরিণত হয়। সিউয়েজ পানি যাতে খাবার বা ব্যবহার্য পানির সাথে মিশতে না পারে সেজন্য উন্নত দেশে জৈবিক উপায়ে পরিশোধন করা হয়। বায়বীয় বা অবায়বীয় ব্যাকটেরিয়াসহ শৈবাল, ছত্রাক, প্রোটোজোয়া এ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। এরা জৈব পদার্থকে ভেঙে ও -এ পরিণত করে। জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায় এবং গ্যাসীয় অবস্থায় বায়ুমণ্ডলে ছাড়া পায়।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় যে, পরিবেশ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে জীবপ্রযুক্তির ব্যাবহার অনস্বীকার্য।