| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘জীববিজ্ঞানের শিক্ষক ক্লাসে…’ চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৯ – প্রাণীর পরিচিতি, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

জীববিজ্ঞানের শিক্ষক ক্লাসে বললেন, তোমাদের পাঠ্যবইতে এমন একটি প্রাণী নিয়ে বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া হয়েছে, যা প্রাণে জগতের সর্বাপেক্ষা বৃহৎ পর্বের অধীন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ২
ঘাসফড়িং প্রতিটি পুঞ্জাক্ষি যেসব ক্ষুদ্র, ষড়ভুজাকার, ঘন ভাবে সজ্জিত, স্বাধীন ও স্বতন্ত্রভাবে প্রতিবিম্ব গঠনের সক্ষম দর্শন একক বা একক আলোক সংবেদী অঙ্গ নিয়ে গঠিত, তাদের প্রত্যেকটিকে ওমাটিডিয়াম বলে।
যখন প্রাণীদের প্রকৃত সিলোমটি প্রবাহমান তরল পূর্ণ (রক্ত) থাকে, তখন হিমোসিল বলে। এ ধরনের প্রাণীদের হিমোসিলোমেট বলা হয়।
যেমন -আর্থ্রোপোডা (তেলাপোকা -Periplaneta americana) ও মলাস্কা (শামুক -pila globosa)পর্বের প্রাণীদের সিলোম।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাণীটি হলো ঘাসফড়িং।ঘাসফড়িং-এর দর্শন একক হলো ওমাটিডিয়াম। নিচে ওমাটিডিয়ামের চিহ্নিত চিত্র দেওয়া হলো:
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাণীটি হলো ঘাসফড়িং। আলোর তীব্রতা অনুসারে ঘাসফড়িং-এর দর্শন কৌশল পরিবর্তিত হয় -নিচে বিশ্লেষণ করা হলোঘাসফড়িং-এর দর্শন অঙ্গটি দিনের উজ্জ্বল আলো ও দিনের শেষে মৃদু আলোতে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের প্রতিবিম্ব সৃষ্টি করে এদের দৃষ্টিশক্তি কার্যকর করে। মৃদু আলোয় সুপার পজিশন এবং উজ্জ্বল আলোয় অ্যাপোজিশন প্রতিবিম্ব গঠন করে।
সুপার পজিশন পদ্ধতিতে মৃদু আলোয় রেটিনাল সিথের রঞ্জক কণিকা সংকুচিত হয়ে কর্নিয়ার দিকে ঘনীভূত হয় এবং ক্রিস্টালাইন কোণের অধিকাংশ অনাবৃত হয়ে পড়ে। উলম্ব আলোকরশ্মি একটি ওমাটিডিয়ামের কর্নিয়ার ভেতর প্রবেশ করে তার র্যাবডোমে পৌছালেও তির্যক আলোকরশ্মি একটি ওমাটিডিয়ামের ক্রিস্টালাইন কোণের অনাবৃত অংশের মধ্য দিয়ে পাশের ওমাটিডিয়ামের র্যাবডোমে পৌঁছায়।
অর্থাৎ একটি ওমাটিডিয়াম তার নিজস্ব কর্নিয়া থেকে আগত আলোক রশ্মি ছাড়াও পার্শ্ববর্তী ওমাটিডিয়ামের কর্নিয়া থেকে আগত রশ্মিও পেয়ে থাকে। পুঞ্জাক্ষির উপর কোনো বস্তুর বিভিন্ন অংশের প্রতিবিম্বগুলো একে অপরের উপর পড়ায় সম্পূর্ণ বস্তুটির অস্পষ্ট প্রতিবিম্ব সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে অ্যাপজিশন বা মোজাইক পদ্ধতিতে উজ্জ্বল আলোয় প্রতিটি ওমাটিডিয়াম স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে। উজ্জ্বল আলোতে রেটিনাল সিথের কোষের রঞ্জকপদার্থ ক্রিস্টালাইন কোণের নিচের দিকে এমনভাবে ছড়িয়ে যায় যাতে তার চারদিকে একটি কালো পর্দার সৃষ্টি হয় ।
ফলে একটি ওমাটিডিয়াম কেবলমাত্র নিজস্ব কর্নিয়া থেকে আগত লম্বভাবে প্রতিফলিত রশ্মিই গ্রহণ করতে পারে। তির্যকভাবে আগত পার্শ্ববর্তী ওমাটিডিয়ামের আলোকরশ্মি আইরিসের রঞ্জক পদার্থে শোষিত হয়। এ অবস্থায় একটি ওমাটিডিয়াম দিয়ে গঠিত প্রতিবিম্ব অনেকটা মোজাইক করা মেঝের পাথরের মতো মনে হয় বলে একে মোজাইক প্রতিবিম্ব বলা হয় ।
সুতরাং আলোর তীব্রতার পরিবর্তনের সাথে সাথে ঘাসফড়িং-এর দর্শন কৌশলও পরিবর্তন হয়।