বিপত্নীক খালেদ সাহেব সিলেট শহরের মিরাবাজারে তাঁর বিশাল বাড়িতে একাকী জীবন কাটান। দীর্ঘ পঁচিশ বছর ধরে তাঁর সেবাযত্নে নিয়োজিত ছিলেন বিশ্বস্ত ভৃত্য ফজলু মিয়া। ছেলেমেয়েরা সবাই প্রবাসে থাকায় ফজলুই ‘ছিলেন তাঁর একমাত্র ভরসা। কিন্তু একদিন সেই বিশ্বস্ত ভৃত্য প্রভুর সমস্ত সম্পদ নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ তাকে মালপত্রসহ গ্রেপ্তার করে আনে। তবুও খালেদ সাহেব তাঁর প্রতি রাগ পোষণ না করে মহানুভবতার পরিচয় দিয়ে ফজলুকে ক্ষমা করে দেন।
বি.এ. ক্লাসের ছাত্র থাকাকালীন মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী অসহযোগ আন্দোলনে যোগদান করেন।
তায়েফবাসীর অবিশ্বাস, উপহাস, মানসিক ও শারীরিক পীড়নের কারণে তায়েফে সত্য প্রচার করতে গিয়ে মহানবি (স.) ভীষণ পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছিলেন।
হজরত মুহম্মদ (স.) ছিলেন ইসলাম ধর্মের সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ নবি ও রাসুল। মানুষের দ্বারে দ্বারে সত্যের বাণী বহন করাই ছিল তাঁর কাজ। তায়েফবাসীরা মহানবি (স.)-এর কথা বিশ্বাস না করে তাঁকে উপহাস করে মানসিক পীড়া দিয়েছে। তাঁর শরীরে পাথর নিক্ষেপ করেছে। পাথরের আঘাতে আঘাতে তিনি রক্তাক্ত হন, তবু সত্যের পথ থেকে একটুও নড়েননি।
উদ্দীপকে 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধের হজরত মুহম্মদ (স.)-এর ক্ষমাশীলতার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে মহানবি হজরত মুহম্মদ (স.)-এর চরিত্রের মানবিক গুণাবলি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ক্ষমাশীলতা তাঁর চরিত্রের অন্যতম গুণ। মহানবির নবিত্ব লাভের পর থেকে মক্কাবাসীরা তাঁর বিরুদ্ধে বহুবিধ ষড়যন্ত্র, অকথ্য নির্যাতন পরিচালনা করলেও বিপরীতে মহানবি তাদের সকলকে ক্ষমা করে তাই বলে বুকে টেনে নন।
উদ্দীপকের খালেদ সাহেবের চরিত্রেও মহানবি (স.)-এর ক্ষমাশীলতার দিকটি ধরা পড়েছে। বিপত্নীক খালেদ সাহেবের ভৃত্য ফজলু মিয়া প্রভুর সমস্ত সম্পদ চুরি করে পালায়। পরে পুলিশ তাকে মালপত্রসহ ধরে খালেদ সাহেবের কাছে হাজির করে। তিনি ভৃত্যকে শাস্তি না দিয়ে ক্ষমা করে উদার ব্যক্তিত্বের পরিচয় দেন। বিষয়টি 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে বর্ণিত শোষক-নির্যাতক মক্কাবাসীর ক্ষমা করার দিকটির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকের খালেদ সাহেব ও 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে বর্ণিত হজরত মুহম্মদ (স.) উভয়ের চরিত্রে ক্ষমাশীলতার দিকটি ফুটে ওঠায় 'মহানবি (স.)' এবং খালেদ সাহেব উভয়েই ক্ষমার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে- মন্তব্যটি যথার্থ।
'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক হজরত মুহম্মদ (স)-এর ক্ষমাশীলতাকে 'সুমহান প্রতিশোধ' হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মক্কাবাসীর কাছ থেকে অকথ্য নির্যাতনের শিকার হয়েও প্রতিশোধের সুযোগ পেয়েও তাদের সব অপরাধ ক্ষমা করে ভাই বলে বুকে টেনে নিয়েছেন।
উদ্দীপকের খালেদ সাহেবের কর্মকাণ্ডেও ক্ষমাশীলতার দিকটি ফুটে উঠেছে। পঁচিশ বছরের পুরানো চাকর ফজলু মিয়া তার সর্বস্ব চুরি করে পুলিশের কাছে ধরা পড়লেও খালেদ সাহেব তাকে ক্ষমা করে দেন। বিষয়টি 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে বর্ণিত হজরত মুহম্মদ (স.)-এর ক্ষমাশীলতার সাথে সম্পর্কযুক্ত।
'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে লেখক মহানবি (স.)-এর মানবিক গুণাবলির মধ্যে ক্ষমাশীলতাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন। নবিত্ব লাভের পর থেকে মক্কাবাসী হজরতকে হত্যার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়, বদর-ওহ্রদ-তায়েফের যুদ্ধে হজরতের ওপর অকথ্য নির্যাতন চালায়। এর প্রতিদানে তিনি তাদের ক্ষমা করে মহৎ ব্যক্তিত্বের পরিচয় দেন। উদ্দীপকের খালেক সাহেবও মহানবির এই গুণটির ধারক। তাই আলোচ্য উক্তিটি সমর্থনযোগ্য।
