| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘বিশালের গ্রামের বাড়ি…’ a – বসতি, ভূগোল, ভূগোল ২য় পত্র (এইচএসসি)

বিশালের গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে। একটি বড় পুকুরের পাশে তাদের বাড়িসহ চারদিকে আরও অনেকগুলো বাড়ি রয়েছে। এবার ঈদে বিশাল তার পরিবারের সাথে সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করতে যায়। সেখানে তারা তাঁবু টানিয়ে রাত্রি যাপন করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৩
মোগল সুবেদার ইসলাম খান রাজমহল থেকে ঢাকায় রাজধানী সরিয়ে আনেন।
বিশালদের গ্রামের বসতি অনুকেন্দ্রিক বসতি। অনুকেন্দ্রিক বসতিতে এমন কিছু সুবিধা বা ভূমি ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য থাকে যা বসতি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশালদের বাড়ি একটি বড় পুকুরের পাশে এবং তাদের বাড়িসহ আরও অনেকগুলো বাড়ি পুকুরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। তাই এটি একটি অনুকেন্দ্রিক বসতি।
সেন্টমার্টিনে রাত্রি যাপনের জন্য বিশালরা যে বসতি গড়ে তুলেছে তা ক্ষণস্থায়ী বসতি। স্থায়িত্বের ভিত্তিতে বসতিকে ৩ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- ক্ষণস্থায়ী বসতি, অস্থায়ী বসতি এবং স্থায়ী বসতি।
প্রাচীনকালে আত্মরক্ষার জন্য বা শিকার করার জন্য মানুষ ক্ষণস্থায়ীভাবে বসতি গড়ে তোলে। সাধারনত (১০-১০০) জনের দল এ ধরনের বসতিতে থাকতে পারে। বর্তমানে অনেকে বিনোদনের জন্য বিভিন্ন স্থানে এরূপ বসতি গড়ে তোলে। অস্থায়ী বসতির অধিবাসীরাও ক্ষণস্থায়ী বসতির লোকদের মতো জায়গা বদল করে তবে অপেক্ষাকৃত দীর্ঘমেয়াদি। এ বসতির জনগোষ্ঠীরা যাযাবর নামে পরিচিত। অস্থায়ী বসতিতে বসবাসকারী শিকারি, খাদ্য সংগ্রাহক ও কৃষিজীবী জনগোষ্ঠী অপেক্ষাকৃত বৃষ্টি প্রধান অঞ্চলে দেখা যায়।
স্থায়ী বসতি বহুদিনের বিবর্তনের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠে। সময়ের বিবর্তনে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে মানুষের একই জমিতে উপরিউক্ত ফসল ফলানোর কৌশল আয়ত্ত করার সুফল হিসেবে স্থায়ী বসতির সূত্রপাত হয়।
বিশালদের গ্রামের বসতি হলো সংঘবদ্ধ অনুকেন্দ্রিক বসতি।
বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে এ দেশের গ্রামীণ অঞ্চলে তিন ধরনের বসতি দেখা যায়। যথা- ক. বিক্ষিপ্ত বসতি খ. সংঘবদ্ধ বসতি ও গ. বিচ্ছিন্ন বসতি। নিচে তা আলোচনা করা হলো:
বিক্ষিপ্ত বসতি বলতে এমন একটি একককে বোঝায় যা ২/৩টি ঘরের সমষ্টি অথবা ১/২টি পরিবারের ৫/৭ জনের আবাসস্থল। একটি বসতি অন্য একটি বসতি থেকে খুব কাছে অবস্থিত হয়ে যখন একটু বড় রূপ নেয় তখন একে সংঘবদ্ধ বসতি বলে। এরূপ বসতির সংঘবদ্ধ রূপকে ভিত্তি করে বসতির বিন্যাসকে আরও কতকগুলো বিভাগে বিভাজিত করা যায়। যেমন- সারিবদ্ধ, পুঞ্জীভূত ও অনুকেন্দ্রিক। বিক্ষিপ্ত বসতির একটি ভিন্ন মাত্রা হলো বিচ্ছিন্ন বসতি। বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় যেসব উপজাতীয় বসতি গড়ে উঠেছে সেগুলো বিচ্ছিন্ন বসতি।
পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি বা প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য বিভিন্ন রকম, তাই গ্রামীণ বসতির মধ্যেও কিছু বৈচিত্র্যতা ফুটে উঠেছে। এ প্রেক্ষিতে বিভিন্ন প্রকার বসতির শ্রেণিবিভাগ উদ্ভব হয়েছে।