বিশ্ববিদ্যালয় পাঠ শেষ করে শফিক গ্রামের স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন। গ্রামের তরুণ-যুবকদের সঙ্গে নিয়ে গড়ে তোলেন একটি গণপাঠাগার। তরুণ প্রজন্মকে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি পাঠাগারে বসে বই পড়তে উদ্বুদ্ধ করেন। কিন্তু কিছু অভিভাবক ক্লাসের পড়ার বাইরে অন্য বই পড়াকে সময়ের অপচয় বলে মনে করেন। তাঁরা শফিক স্যারের উদ্যোগের বিরোধিতা করতে এলে শফিক স্যার তাঁদের উদ্দেশ্যে বলেন- রোগীর চিকিৎসার জন্য যেমন হাসপাতাল প্রয়োজন, তেমনই মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হলে নিয়মিত বই পড়া প্রয়োজন।
ভাঁড়েও ভবানী শব্দের অর্থ রিক্ত বা শূন্য।
"সুশিক্ষিত লোকমাত্রই স্বশিক্ষিত।"- এ কথা বলতে বোঝানো হয়েছে, যথার্থ শিক্ষিত ব্যক্তি স্বচ্ছন্দচিত্তে ও স্বতস্ফূর্তভাবে শিক্ষা অর্জন করে।
শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষকে ভেতর থেকে মানুষ করে তোলা। যে ব্যক্তি স্কুল-কলেজের শিক্ষাই শুধু নয়, নিজ অনুসন্ধিৎসা ও আগ্রহে জ্ঞানের নানা বিষয়ে অবগাহন করেছেন তিনি সুশিক্ষিত। এই শিক্ষা নিজে নিজে অর্জন করতে হয়। শিক্ষা কেউ কাউকে দিতে পারে না। শিক্ষক কেবল শিক্ষার্থীকে পথ দেখাতে পারেন, শিক্ষার্থীর কৌতূহল বাড়াতে পারেন, বুদ্ধিবৃত্তিকে জাগ্রত করতে পারেন; মনোরাজ্যের ঐশ্বর্যের সন্ধান দিয়ে তার জ্ঞান পিপাসাকে বাড়িয়ে তুলতে পারেন। শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ মনুষ্যত্ব অর্জন করে সমাজের কল্যাণ সাধন করে থাকেন। এ কারণেই স্বশিক্ষিত লোককে লেখক সুশিক্ষিত বলেছেন।
উদ্দীপকের অভিভাবকদের আচরণে 'বই পড়া' প্রবন্ধের শিক্ষার ত্রুটিযুক্ত দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক প্রচলিত শিক্ষা পদ্ধতিকে ত্রুটিপূর্ণ ও শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে অন্তরায় হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি মনে করেন আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের জোর করে বিদ্যা গেলানো হয় শুধু শিক্ষার নগদ লাভের কথা চিন্তা করে। এখানে তাদের মানসিক বিকাশের জন্য পাঠ্য বিষয়ের বাইরের কোনো বই পড়তে উদ্বুদ্ধ করা হয় না।
উদ্দীপকের শিক্ষক শফিক তরুণ প্রজন্মকে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি পাঠাগারে বসে বই পড়তে উদ্বুদ্ধ করেন। কিন্তু কিছু অভিভাবক ক্লাসের পড়ার বাইরে অন্য বই পড়াকে সময়ের অপচয় মনে করেন। অভিভাবকদের এমন নির্বুদ্ধিতাকে 'বই পড়া' প্রবন্ধেও লেখক তুলে ধরেছেন। প্রবন্ধটিতে লেখক বলেন, আমাদের দেশের শিক্ষাপদ্ধতি জোর করে বিদ্যা গেলানোর পক্ষপাতী। ফলে স্কুল-কলেজে সেটিই দেখা যায়। সেখানে শিক্ষার্থীদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে পাঠ্যবই পড়ানো হয়। তারা সেটি আয়ত্ত করতে পারে কি না সেদিকে তাদের খেয়াল নেই। বাইরের বিভিন্ন বই স্বেচ্ছায় পড়ে তারা যে স্বশিক্ষায় শিক্ষিত হবে সেই সুযোগ তাদের দেওয়া হয় না। শিক্ষার ত্রুটিযুক্ত এই দিকটি উদ্দীপকের অভিভাবকদের আচরণে দেখা যায়।
"শফিক স্যারের ভাবনা 'বই পড়া' প্রবন্ধের লেখকের মতকে সমর্থন করে।”- মন্তব্যটি যথার্থ। কারণ আলোচ্য প্রবন্ধের লেখকও জাতির মানসিক বিকাশ ও সমৃদ্ধিতে বই পড়ার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন।
'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক মানুষের মানসিক বিকাশ ও বিচিত্র বিষয়ে জ্ঞানার্জনের জন্য বই পড়ার গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরেছেন। তিনি লাইব্রেরিকে স্কুল-কলেজের ওপরে স্থান দিয়েছেন। আবার আমাদের শিক্ষার বর্তমান অবস্থায় তিনি লাইব্রেরিকে মনের হাসপাতাল হিসেবে তুলনা করেছেন। কেননা লাইব্রেরিতে মানুষ নিজের পছন্দমতো বই পড়ে বিচিত্র বিষয়ে জ্ঞান লাভ করে নিজের মনকে সমৃদ্ধ করতে পারে।
'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক পাঠে অনীহার কারণ হিসেবে আমাদের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থাকে দায়ী করেছেন। প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা কীভাবে আমাদের হৃদয়বৃত্তিকে প্রস্ফুটিত না করে তা নষ্ট করে দেয় সেই দিকটি ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি স্কুল-কলেজে জোর করে বিদ্যা গেলানোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃষ্টিশীলতাকে নষ্ট করার কথা বলেছেন। এসব হীন অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য, স্বশিক্ষা অর্জনের জন্য লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা এবং বই পড়ার প্রতি লেখক বিশেষ জোর দিয়েছেন। যাতে শিক্ষার্থীরা তাদের রুচি ও পছন্দ অনুযায়ী বই পড়ে জ্ঞান অর্জন করতে পারে। অন্যদিকে উদ্দীপকের শফিক স্যারও তরুণ প্রজন্মকে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি পাঠাগারে বসে বই পড়তে উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি মনে করেন মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হলে নিয়মিত বই পড়া প্রয়োজন।
'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক যথার্থ শিক্ষিত হয়ে মনের প্রসার ঘটানোর জন্য বই পড়তে বলেছেন। এ কারণে তিনি লাইব্রেরিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। কারণ মানুষ সেখানে গিয়ে পছন্দমতো বই পড়ে জ্ঞান অর্জন করে। লেখক মানসিক বিকাশ ও জ্ঞানলাভের জন্য বই পড়তে উৎসাহিত করেছেন। লেখকের সেই পরামর্শের সঙ্গে উদ্দীপকের শফিক স্যারের পরামর্শ একসূত্রে গাঁথা। তিনি তরুণ-যুবকদের নিয়ে গড়ে তোলেন পাঠাগার। অভিভাবকদের পরামর্শ দেন শিক্ষার্থীদের যেন নানা রকম বই পড়ার সুযোগ দেওয়া হয়। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
