| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মহিউদ্দীন…’ চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫ – সিরাজউদ্দৌলা, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মহিউদ্দীন আহমদ তার দোকানে ভাইয়ের ছেলে শরীফুলকে ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দেন। শরীফুল প্রথম দিকে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করলেও ধীরে ধীরে চাচার সর্বনাশের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। দোকানের অন্য কর্মচারীদের সাথে হাত মিলিয়ে বিক্রির টাকা এদিক-সেদিক করতে থাকে। দোকানে প্রচুর বেচা-কেনা হলেও মাস শেষে লোকসান আসে। মহিউদ্দীন আহমদ বিচক্ষণতার সাথে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শরীফুলের ষড়যন্ত্রের বিষয়টি নিশ্চিত হন। তিনি দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে শরীফুলসহ অন্য কর্মচারীদের বিদায় করে দিয়ে দোকানের পূর্বের অবস্থান ফিরিয়ে আনেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
মানিকচাঁদ সাড়ে দশ লক্ষ টাকা খেসারত দিয়ে মুক্তি পেয়েছিল।
"লোকবল বাড়ুক আর না বাড়ুক আমাদের অংশীদার বাড়ল তা অবশ্য ঠিক”- নিজেদের চরম দুরবস্থা প্রসঙ্গে মার্টিন ও ড্রেককে উদ্দেশ্য করে হ্যারি এ উক্তিটি করেছে।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে প্রথম অংকের দ্বিতীয় দৃশ্য রচিত হয়েছে কলকাতার ভাগীরথী নদীতে ভাসমান ফোর্ট উইলিয়াম জাহাজে। কলকাতা থেকে তাড়া খেয়ে ইংরেজ বাহিনী আশ্রয় নেয় ভাগীরথী নদীর উপর ভাসমান একটি জাহাজে। পুনরায় যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে কিলপ্যাট্রিক যে অতিরিক্ত আড়াইশোর মতো সেনা নিয়ে হাজির হয় তাদের সম্পর্কে বলতে গিয়ে হ্যারি আলোচ্য উক্তিটি করেছে।
উদ্দীপকের শরীফুলের সাথে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সাদৃশ্যপূর্ণ চরিত্রগুলো হচ্ছে মিরজাফর, উমিচাঁদ, মানিকচাঁদ, ঘসেটি বেগম, জগৎশেঠ, মিরন, মোহাম্মদি বেগ ও রাজবল্লভ।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের নবাব সিরাজের পতন ঘটে রাজ-অমাত্যবর্গের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে। নবাবের দরবারে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত প্রধান সেনাপতিসহ অন্যান্য অনেকেই তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। ফলস্বরূপ পলাশির যুদ্ধে নবাব সিরাজের শোচনীয় পরাজয় ঘটে।
উদ্দীপকের শরীফুল চরিত্রের মধ্যে বিশ্বাসঘাতকতা লক্ষ করা যায়। চাচার দোকানে সে প্রথমে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করলেও ধীরে ধীরে সর্বনাশের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। অন্য কর্মচারীদের সাথে হাত মিলিয়ে সে দোকানটাকে ধ্বংসের মুখে নিয়ে যায়। 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকেও এমন চরিত্রের মানুষ লক্ষ করা যায়। প্রধান সেনাপতি মিরজাফরসহ উমিচাঁদ, জগৎশেঠ, রাজবল্লভরা নবাবের কাছের লোক হয়েও নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় এবং পলাশির যুদ্ধে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করে নবাবের পতন নিশ্চিত করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের শরীফুলের সাথে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সাদৃশ্যপূর্ণ চরিত্রগুলো হচ্ছে মিরজাফর, উমিচাঁদ, জগৎশোঠ, মোহাম্মদি বেগ, রাজবল্লভ প্রভৃতি।
বুদ্ধিদীপ্ত ও সময় উপযোগী সিদ্ধান্তের কারণে "মহিউদ্দীন আহমদ ও নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরিণতি এক হয়নি।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে মিরজাফর, জগৎশেঠ, মানিকচাঁদ, ঘসেটি প্রমুখ রাজ অমাত্যবর্গ বারবার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। কিন্তু নবাব তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়াতে তারা নবাবের পতনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
উদ্দীপকের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মহিউদ্দীন আহমদ তার ভাইয়ের ছেলে শরীফুলকে দোকানে ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ করে। শরীফুল দোকান ধ্বংসের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বিচক্ষণ ব্যবসায়ী মহিউদ্দীন শরীফুলের বিশ্বাসঘাতকতা ও ষড়যন্ত্রের বিষয়টি জানতে পেরে তার বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে দোকানের পূর্বের অবস্থা ফিরিয়ে আনেন। কিন্তু 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাব মিরজাফরসহ অন্য বিশ্বাসঘাতকদের ষড়যন্ত্র জেনেও সরল বিশ্বাসে তাদেরকে পলাশির যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ করেন। ফলে নবাবের পতন ত্বরান্বিত হয়।
উদ্দীপকের মহিউদ্দীন আহমদের মতো 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের নবাব সিরাজউদ্দৌলা এমন সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। দরবারে ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত লোকদের ষড়যন্ত্রের কথা জেনেও তিনি তাদের ক্ষমা করে দেন। কিন্তু নবাবের ঘনিষ্ঠজনরা নবাবের সেই উদারতায় শুধরে না গিয়ে পুনরায় ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। ফলশ্রুতিতে পলাশির যুদ্ধে নবাবের পরাজয় ঘটেছে। তাই বলা যায়, সিদ্ধান্তের জন্য মহিউদ্দীন আহমদ ও নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরিণতি এক হয়নি।