| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘বিষয়-১: জহির ছোট…’ আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ২০২৬ – মূল্যবোধ, মনোবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

বিষয়-১: জহির ছোট বেলায় বাবা মা হারান। বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও সহপাঠীদের সান্নিধ্যে থেকে এবং সমবয়সীদের সাথে থেকে আজ সে একজন আদর্শ ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
বিষয়-২: জনাব নজরুল একজন সমাজ সেবক। তিনি তার এলাকায় একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ নির্মাণ করেছেন। তিনি আবার আধ্যাত্মিক প্রকৃতির।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৬
কতকগুলো মনোভাবের সমন্বয়ে গঠিত অপেক্ষাকৃত স্থায়ী বিশ্বাসকে মূল্যবোধ বলে।
মনোভাব মূল্যবোধের অংশ বিশেষ হওয়ার কারণে পরস্পর সম্পর্কযুক্ত।
মূল্যবোধ হলো একটি আদর্শ যার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো মনোভাব। তবে মনোভাবের সংখ্যার তুলনায় মূল্যবোধের সংখ্যা অপেক্ষাকৃত কম এবং এ দুটোই পরিবর্তনশীল। মনোভাব হলো কোনো ঘটনার পক্ষে বা বিপক্ষে মতামত দেওয়ার পূর্ব প্রস্তুতি আর মূল্যবোধ বিভিন্ন ঘটনা ও কার্যাবলির মাধ্যমে সৃষ্ট সমাজসৃষ্ট রীতি-নীতি ও জীবনাচরণ পদ্ধতি। তাই বলা যায়, মূল্যবোধ মনোভাব দ্বারা প্রভাবিত এবং পরস্পর সম্পর্কযুক্ত।
উদ্দীপকের বিষয়-১ এ জনাব জহিরের মূল্যবোধ গঠনের মাধ্যমগুলো হলো- বিদ্যালয় ও সমবয়সী দল।
পরিবারের পরই মূল্যবোধ গঠনের অন্যতম মাধ্যম হলো বিদ্যালয়। একজন শিশু বিদ্যালয়ে নতুন পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে চলা, স্বাধীনচেতা মনোভাব, সহযোগিতা, আত্মনির্ভরশীলতা, নিয়মানুবর্তিতা, সততা, ন্যায়নীতি ইত্যাদি শিক্ষা অর্জন করে। শিক্ষকের আচার-ব্যবহার ও চিন্তাধারা শিশুর আচরণকে প্রভাবিত করে। এছাড়া শিশুর মুল্যবোধ গঠনে সহপাঠীরা শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে। এখানেই সে ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্বগুণ অর্জন করে। অধিকতর আত্মবিশ্বাসী এবং নিজের সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়। সমবয়সী দলের প্রভাবেই শিশুর পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সহযোগিতা প্রতিযোগিতা, সততা, ন্যায়নীতি প্রভৃতির বিকাশ ঘটে।
উদ্দীপকের জনাব জহির বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সহপাঠীদের সান্নিধ্যে এবং সমবয়সীদের সাথে থেকে তার সামাজিকীকরণের বিকাশ ঘটেছে। যার জন্য তিনি আজ আদর্শ ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এক্ষেত্রে বিদ্যালয় এবং সমবয়সীরা তার মূল্যবোধ গঠনের মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে।
উদ্দীপকে বিষয়-২ এ জনাব নজরুল সামাজিক মূল্যবোধ এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের অধিকারী।
সামাজিক মূল্যবোধ সামাজিক আচরণবিধির সাথে সম্পৃক্ত। সমাজের যেসব আচরণের প্রতি অধিকাংশ মানুষ ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে সে সব ক্ষেত্রে অভিন্ন মনোভাব প্রকাশ করাকে সামাজিক মূল্যবোধ বলে। সামাজিক মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তি সহজেই সকল ধরনের মানুষের সাথে বন্ধুত্ব ও প্রীতির সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে। মানুষের প্রতি এদের প্রবল ভালোবাসা থাকে। এরা দয়ালু, পরোপকারী, সহানুভূতিশীল এবং নিঃস্বার্থ হয়ে থাকে। এরা কখনো নিজের স্বার্থের কথা চিন্তা করেন না। অন্যদিকে ধর্মীয় মূল্যবোধ হলো সৃষ্টিকর্তার প্রতি বিশ্বাস এবং তার সান্নিধ্য অর্জনে নির্ধারিত আচরণ প্রকাশ করা। এ মূল্যবোধ মূলত সৃষ্টিকর্তা ও কিছু ধর্মীয় বিধি-বিধানভিত্তিক বিশ্বাস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। এরা ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলে এবং সৃষ্টিকর্তার নির্দেশ জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে বাস্তবায়নের চেষ্টা করে। ব্যক্তির ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে ভিন্ন ভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের সৃষ্টি হয়েছে।
উদ্দীপকের জনাব নজরুল একজন সমাজ সেবক। তিনি তার এলাকায় একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ নির্মাণ করেন এবং তিনি আধ্যাত্মিক প্রকৃতির। এ ধরনের কর্মকাণ্ড সামাজিক মূল্যবোধ এবং ধর্মীয় মূল্যবোধকে নির্দেশ করে। সুতরাং জনাব নজরুলের মধ্যে একাধিক মূল্যবোধ অর্থাৎ সামাজিক এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ লক্ষণীয়।