| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘বিষয় শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে…’ সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি এন্ড কলেজ ২০২৬ – কোষ ও এর গঠন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

বিষয় শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে নিম্নলিখিত অঙ্গাণুগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করলেন:
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
অ্যান্টিকোডন হলো tRNA অণুর একটি তিন-ক্ষারক ক্রম, যা আমিষ সংশ্লেষণের সময় mRNA অণুর পরিপূরক কোডন চিহ্নিত করে।
উদ্দীপকের 'A' অঙ্গাণুটি দ্বারা গলগি বডি কে বুঝানো হয়েছে। গলগি বডিকে "কার্বোহাইড্রেট ফ্যাক্টরি" বলা হয়। কারণ এটি গ্লাইকোপ্রোটিনের সাথে শর্করার (অলিগোস্যাকারাইড) পার্শ্বশৃঙ্খল যুক্ত করে এবং কোষপ্রাচীর গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় জটিল পলিস্যাকারাইড (যেমন- পেকটিন ও হেমিসেলুলোজ) সংশ্লেষণ, পরিবহণ ও নিঃসরণ করে, যা উদ্ভিদকোষের কাঠামোর জন্য অপরিহার্য। এই শর্করা ভিত্তিক কাজগুলোর জন্যই গলনি বডিকে কোষের "কার্বোহাইড্রেট ফ্যাক্টরি বলা" হয়।
উদ্দিপকের 'C' চিহ্নিত অঙ্গাণুটি হচ্ছে মাইটোকন্ড্রিয়া।
মাইটোকন্ড্রিয়া জীবকোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। দ্বিস্তরবিশিষ্ট আবরণী ঝিল্লি দ্বারা সীমিত সাইটোপ্লাজমস্থ যে অঙ্গাণুতে ক্রেবস চক্র, ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট ইত্যাদি ঘটে থাকে এবং শক্তি উৎপন্ন হয় সেই অঙ্গাণুকে মাইটোকন্ড্রিয়া বলে। একে কোষের 'পাওয়ার হাউস' বা শক্তিঘর বলা হয়।
মাইটোকন্ড্রিয়া জীবকোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। দ্বিস্তরবিশিষ্ট আবরণী ঝিল্লি দ্বারা সীমিত সাইটোপ্লাজমস্থ যে অঙ্গাণুতে ক্রেবস চক্র, ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট ইত্যাদি ঘটে থাকে এবং শক্তি উৎপন্ন হয় সেই অঙ্গাণুকে মাইটোকন্ড্রিয়া বলে। একে কোষের 'পাওয়ার হাউস' বা শক্তিঘর বলা হয়।
ভৌত গঠন:
১। আবরণী : প্রতিটি মাইটোকন্ড্রিয়ন লিপোপ্রোটিন বাইলেয়ারের দুটি মেমব্রেন নিয়ে গঠিত। বাইরের মেমব্রেনটি খাঁজবিহীন, মূলত ভেতরের অংশসমূহকে রক্ষা করাই এর প্রধান কাজ। বাইরের মেমব্রেন ভেদ করে বিভিন্ন ক্ষুদ্র অণু এবং আয়ন ভেতরে প্রবেশ করতে পারে, আবার বের হয়ে যেতেও পারে। এতে কিছু ট্রান্সপোর্ট প্রোটিন থাকে যা প্রয়োজনে সক্রিয় ট্রান্সপোর্টে সহায়তা করে। এতে কোনো ETC, ATP Synthases, ATP তৈরির এনজাইম ইত্যাদি থাকে না। দুটি আবরণীর মধ্যে ব্যবধান ৬-৮ nm।
২। প্রকোষ্ঠ : দুই মেমব্রেনের মাঝখানের ফাঁকা স্থানকে বলা হয় বহিস্থ কক্ষ বা আন্তঃমেমব্রেন ফাঁক এবং ভতরের মেমব্রেন দিয়ে আবদ্ধ কেন্দ্রীয় অঞ্চলকে বলা হয় অভ্যন্তরীণ কক্ষ। অভ্যন্তরীণ কক্ষ জেলির ন্যায় ঘন সমসত্ত্ব ধাত্র দ্বারা পূর্ণ থাকে। একে ম্যাট্রিক্স বলে।
৩। ক্রিস্টি : বাইরের মেমব্রেন সোজা কিন্তু ভেতরের মেমব্রেনটি নির্দিষ্ট ব্যবধানে ভেতরের দিকে ভাঁজ হয়ে আঙ্গুলের মতো প্রবর্ধক সৃষ্টি করে। এ অংশকে ক্রিস্টি বলে। এগুলো মাইটোকন্ড্রিয়ার ধাত্রকে কতগুলো অসম্পূর্ণ প্রকোষ্ঠে বিভক্ত করে। ক্রিস্টির মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থানকে অন্তঃক্রিস্টি ফাঁকা স্থান বলে যা বহিঃপ্রকোষ্ঠের সাথে সংযুক্ত।
৪। অক্সিসোম : মাইটোকন্ড্রিয়ার অন্তঃআবরণীর অন্তর্গাত্রে অতি সূক্ষ্ম অসংখ্য দানা লেগে থাকে। এদের অক্সিসোম বলে। অক্সিসোম বৃন্তক বা অবৃত্তক হতে পারে।
৫। ATP Synthases ও ETC : ক্রিস্টিতে স্থানে স্থানে ATP Synthases নামক গোলাকার বস্তু আছে। এতে ATP সংশ্লেষিত হয়। এছাড়া সমস্ত ক্রিস্টিব্যাপী অনেক ইলেক্ট্রন ট্রান্সপোর্ট চেইন অবস্থিত।
৬। DNA ও রাইবোসোম : মাইটোকন্ড্রিয়ার- নিজস্ব বৃত্তাকার DNA এবং রাইবোসোম রয়েছে। এটিও আদি কোষীয় বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন। এরা ম্যাট্রিক্স-এ থাকে।
উদ্দীপকের 'B' অঙ্গাণুটি দ্বারা রাইবোসোমকে বুঝানো হয়েছে যা কোষের প্রোটিন ফ্যাক্টরি বলা হয়। রাইবোসোমকে প্রোটিন, ফ্যাক্টরি বলার কারণ নিচে আলোচনা করা হলো-
রাইবোসোমের প্রধান কাজ হলো প্রোটিন সংশ্লেষণ বা তৈরি করা। প্রোটিন সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার সময় mRNA-তে থাকা জেনেটিক কোড অনুযায়ী অ্যামিনো অ্যাসিডগুলো যুক্ত হয়ে পলিপেপটাইড চেইন বা প্রোটিন তৈরি করে। এই গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্যই রাইবোসোমকে কোষের প্রোটিন ফ্যাক্টরি বলা হয়।
প্রোটিন সংশ্লেষণ একটি জটিল প্রক্রিয়া যা দুটি প্রধান ধাপে সম্পন্ন হয়। যথা : ট্রান্সক্রিপশন ও ট্রান্সলেশন। ট্রান্সক্রিপশন প্রক্রিয়াটি, প্রধানত নিউক্লিয়াসে ঘটে। এখানে DNA থেকে mRNA তৈরি হয়। আর ট্রান্সলেশন প্রক্রিয়াটি রাইবোসোমে ঘটে। এখানে রাইবোসোম mRNA কে বার্তা পাঠায় এবং tRNA এর সাহায্যে অ্যামিনো এসিড যুক্ত করে প্রোটিন তৈরি করে।
রাইবোসোম ক্ষুদ্র সাব ইউনিট নিয়ে গঠিত এবং এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলামের গায়ে লেগে থাকতে পারে বা সাইটোপ্লাজমে মুক্ত অবস্থায় থাকতে পারে। উভয় ক্ষেত্রেই এদের কাজ প্রোটিন তৈরি করা।
যেহেতু কোষের প্রায় সব ধরনের প্রোটিন রাইবোসোমেই উৎপন্ন হয়। তাই একে কোষের প্রোটিন ফ্যাক্টরি বলা হয়।