| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘বিভিন্ন মুখের কোটি…’ বরিশাল বোর্ড ২০২২ – আমি কিংবদন্তির কথা বলছি, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

বিভিন্ন মুখের কোটি অশ্বারোহী এসে
খুরে খুরে ক্ষতময় করে গেছে সহনীয়া মাটি,
লালসার লালামাখা ক্রোধে বন্দুক কামান কত
অসুর গর্জনে চিরেছে আকাশ পরিপাটি,
বিদীর্ণ বুক নীল বর্ণ হয়ে গেছ তুমি, বাংলাভূমি
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২৩
উনোনের আগুনে আলোকিত একটি উজ্জ্বল জানালার কথা বলা হয়েছে।
‘আমি বিচলিত স্নেহের কথা বলছি'- বলতে কবি আপনজনের আন্তরিক উৎকণ্ঠার কথাই বুঝিয়েছেন।
আবহমান কাল থেকে এদেশে পারিবারিক বন্ধন অত্যন্ত দৃঢ় ও মায়াময়। পরিবারে ছোটোদের প্রতি বড়োদের অকৃত্রিম স্নেহ ও মমতা কাজ করে । এই স্নেহ মমতার কোনো তুলনা চলে না। কবি তাই এদেশের ঐতিহ্যের কথা বলতে গিয়ে এই স্নেহ মমতার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। 'বিচলিত স্নেহ' বলতে তিনি আপনজনের উৎকণ্ঠা তথা অকৃত্রিম স্নেহ- মমতার দিকটিকে বুঝিয়েছেন ।
উদ্দীপকের বাংলাভূমির সাথে 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার সংগ্রামী চেতনাগত সাদৃশ্য রয়েছে।
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় বাঙালির সংগ্রাম করে টিকে থাকার চেতনা প্রকাশিত হয়েছে। ঐতিহ্যগতভাবে বাঙালি জাতি ত্যাগ ও সংগ্রামী চেতনা ধারক। বিভিন্ন সময়ে এ জাতিকে ক্ষত-বিক্ষত করে বিদেশি শক্তি। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে যে ক্ষত জাতির বুকে তৈরি হয়েছে তা এখনো তাজা রয়েছে রক্তজবার মতো।
উদ্দীপকের বাংলাভূমিতে বাঙালির ওপরে নির্যাতনের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। এদেশে বহুকাল থেকেই বিদেশিদের লালসার বস্তু ছিল। অনেক সম্পদে ভরপুর ও ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় স্বার্থান্বেষী মহল সর্বদা একে কক্ষিগত রাখার প্রচেষ্টা চালিয়েছে। তাদের লালসার জন্য এখানে বন্দুক কামান দিয়ে মহড়া চলেছে। এদেশের আকাশ সেই অসুরের দলের গর্জনে বারবার চিরে খান খান হয়েছে। বিদীর্ণ হয়েছে বাংলার বুক। কষ্টের নীল বর্ণ এ মাটির পরতে পরতে যেন ছড়িয়ে আছে। | উদ্দীপকের বাংলাভূমির এমন চিত্র 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার | বাঙালির ঐতিহ্যগত সংগ্রামী চেতনার প্রতিচ্ছবি। কবি: আলোচ্য কবিতায় | বাঙালির পূর্বপুরুষের যে সাহস ও গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের পরিচয় দিয়েছেন । উদ্দীপকটির বাংলাভূমি সেই ছবিই যেন ফুটিয়ে তুলেছে।
'লালসার লালামাখা ক্রোধে' স্বার্থান্বেষী শক্তির শাসন-শোষণের কালানুক্রমিক অতীত কাহিনির মধ্য দিয়ে আমাদের হাজার বছরের ইতিহাসের পরিচয় খুঁজে পাওয়া যায়।
“আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরা হয়েছে। বিদেশি স্বার্থান্বেষী মহল বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে আমাদের গোলাম বানিয়ে রাখার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছে। তারা এ জনপদকে কুক্ষিগত করতে বারবার আক্রমণ ও শোষণ করেছে। ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে বাঙালি জাতি লড়াই করে যাদের বিরোচিত স্বভাবের পরিচয় দিতে ভুল করেনি।
উদ্দীপকে 'লালসার লালামাখা ক্রোধ' বলতে এদেশকে কুক্ষিগত করার লালসায় যারা এখানে অত্যাচার নির্যাতন চালিয়েছে তাদেরকে বোঝানো হয়েছে। বিভিন্ন পরিচয়ে তারা অস্ত্র-কামান নিয়ে এখানে এসেছিল দখল করার মানসিকতায়। বাঙালির বুকে তারা ক্ষত-চিহ্ন এঁকে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করেছিল । নির্যাতিত হতে হতে যেন এ মাটি ক্ষত সহ্য করার ক্ষমতা অর্জন করেছে। সেই লোভীগোষ্ঠী তাদের স্বার্থ-চরিতার্থ করতে এদেশের আকাশ চিরেছে, বিদীর্ণ বাংলাভূমি যেন তাদের আঘাতে নীল হয়ে গেছে।
‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় বাঙালির হাজার বছরের সংগ্রামের ঐতিহ্য গাঁথা তুলে ধরা হয়েছে। কবি খুব সচেতন বিধায় তিনি আমাদের পূর্বপুরুষের বীরত্ব ও সংগ্রাম অতুলনীয় কাব্যিক গাঁথুনিতে উপস্থাপন করতে পেয়েছেন । তিনি বাঙালির শিকড়ের খবর তুলে ধরেছেন। আজ যে সমৃদ্ধ জাতির গৌরব আমরা বোধ করছি এর পশ্চাতে রয়েছে ঐতিহ্যের সংগ্রামী ইতিহাস । কালে কালে কত জনপদ এখানে ধ্বংস হয়েছে। অনেক স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী এখানে বাণিজ্য সুবিধা নিতে এসেছিল । তারা আমাদের পূর্বপুরুষদের অত্যাচার-নির্যাতন করে নিঃশেষ করতে চেয়েছে। তাদের সেই নৃশংস নখরের দাগ এখনো শুকায়নি। রক্তজবার মতো সেই ক্ষত এখনো সতেজ রয়েছে । তারা হিংস্র মাংসাশী শিকারির মতো খাবলে খেতে চেয়েছে এদেশের অমূল্য সম্পদ। উদ্দীপকেও কবি একই ইতিহাস বর্ণনা করেছেন। বিভিন্ন জাতির কোটি অশ্বারোহীর শাসন-শোষণের কথা তুলে ধরেছেন। যারা এ দেশের লালসা চরিতার্থ করতে এসে অসুরের মতো আচরণ করেছে। ভিনদেশিদের লোভের কারণে শাসন, শোষণ ও নির্যাতন।