A. Nayan
A. Nayan
28 May 2026 (4 months ago)
Dhaka, Narayanganj

সৃজনশীলঃ ‘বিয়ের দশ বছর…’ দিনাজপুর বোর্ড ২০২৪ – বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)


Listen to this article
📘 ক্লাস: 9-10🎓 গ্রুপ: general📚 বই: বাংলা📖 ৫ম অধ্যায় : বই পড়া - প্রমথ চৌধুরী🔢 সৃজনশীল নং: ১৪🏫 বোর্ড: দিনাজপুর বোর্ড📅 সাল: ২০২৪⭐ গুরুত্ব: ★★★★★

💡 সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

বিয়ের দশ বছর পর রেবেকার একটি পুত্রসন্তান হয়। অনেক সাধনার পুত্রকে বড় করতে শিয়ে তিনি দুধ, ডিম, কলা, মিষ্টি একটার পর একটা জোর করে খাওয়াতে থাকেন। কিন্তু পুত্রের বয়স পাঁচ বছর হলেও সে হাঁটতে পারে না। অস্বাভাবিক মোটা হওয়ায় তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে ডাক্তার বলেন, “বয়স ও রুচি অনুযায়ী যা খেতে চায় এবং যতটুকু খেতে পারে তাই খাওয়াবেন। অতিরিক্ত খাওয়ার কারণে বয়সের তুলনায় মোটা বলে হাঁটা-শিখতে দেরি হচ্ছে।”

উত্তর:

শিক্ষক মনোরাজ্যের ঐশ্বর্যের সন্ধান দিতে পারেন।

উত্তর:

পেশাদারদের মহাভ্রান্তি বলতে সাহিত্যচর্চার সুফল সম্পর্কে তাদের ভুল ধারণাকে বোঝানো হয়েছে।
লেখকের মতে, আমাদের শিক্ষিত সমাজের লোলুপ দৃষ্টি আজ অর্থের ওপড়েই পড়ে আছে। তারা হাজার খানেক ল-রিপোর্ট কিনলেও একখানা কাব্যগ্রন্থ কিনতে প্রস্তুত নন। কারণ তারা মনে করেন এতে ব্যবসায়ের কোনো লাভ নেই। তারা মনে করেন এই সাহিত্য জজ শুনবেন না, ফলে তার কোনো মূল্য নেই। আর লেখক মনে করেন এটিই তাদের মহাভ্রান্তি।

উত্তর:

উদ্দীপকের রেবেকার মানসিকতায় 'বই পড়া' প্রবন্ধের প্রচলিত ত্রুটিপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থার চিত্রটি ফুটে উঠেছে।

'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক স্কুল-কলেজের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন যে, আমাদের স্কুল-কলেজের শিক্ষায় আনন্দের যোগ নেই। এখানে শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় পাশের জন্য নোট মুখস্থ করানো হয়। পাঠ্যবইয়ের বাইরে বই পড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়। শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য যে জ্ঞানার্জন ও মনের স্ফূতি তা তাদের বুঝতে না দিয়ে শিক্ষাকে অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে বোঝানো হয়। এতে তাদের আত্মার মৃত্যু ঘটে। ফলে শিক্ষার্থীর মানসিক বিকাশ এবং চিন্তাশক্তির পূর্ণ প্রকাশ ব্যাহত হয়।

উদ্দীপকের রেবেকা তার আদরের পুত্রকে বড় করতে গিয়ে জোর করে দুধ, ডিম, কলা, মিষ্টি একটার পর একটা খাওয়াতে থাকে। কিন্তু পুত্রের বয়স পাঁচ বছর হলেও সে হাঁটতে পারে না। অতিরিক্ত খাওয়ানোর কারণে বয়সের তুলনায় মোটা বলে সে হাঁটা শিখতে পারছে না। রেবেকার এমন কর্মকান্ড লেখক 'বই পড়া' প্রবন্ধে তুলে ধরেছেন একটু অন্যভাবে। লেখক আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা করতে গিয়ে বলেন সন্তানের কল্যাণের আশায় যেমন একজন মা তার সন্তানকে জোরপূর্বক খাবার খাওয়ানোর ফলে তার ক্ষতি করে বসে, তেমনই প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায়ও একজন শিক্ষার্থীকে অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় বিদ্যা গেলানো হয়। এগুলো সে হজম করতে পারে না, ফলে উপকারের থেকে অপকারই বেশি হয়। উদ্দীপকে মূলত এই বিষয়টিই ফুটে উঠেছে।

উত্তর:

'বই পড়া' প্রবন্ধে শিক্ষার্থীদের ওপর জোর করে বিদ্যা চাপিয়ে দেওয়া এবং তাদেরকে পরীক্ষায় পাশের জন্য নোট মুখস্থ করানোর প্রসঙ্গে লেখকের বক্তব্যের সঙ্গে ডাক্তারের, বক্তব্যের যোগসূত্র থাকায়। "উদ্দীপকের ডাক্তারের বক্তব্যের মধ্যেই প্রমথ চৌধুরীর আকাঙ্ক্ষার প্রতিধ্বনি ঘটেছে" মন্তব্যটি যথার্থ।
'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার ত্রুটি, অসংগতি, অপূর্ণতা, শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে চিন্তার সীমাবদ্ধতা প্রভৃতি সম্পর্কে তাঁর মতামত তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে স্কুল-কলেজে পরীক্ষা পাশের জন্য জোর করে মুখস্থ করানোর পদ্ধতি প্রকৃত শিক্ষা পদ্ধতি নয়। এতে প্রকৃত শিক্ষা অর্জিত হয় না। তিনি যথার্থ শিক্ষিত হতে বই পড়া ও সাহিত্যচর্চার গুরুত্ব নির্দেশ করেছেন। এতে মানুষের মনের প্রসারতা বৃদ্ধি পায় এবং স্বশিক্ষিত হওয়ার সুযোগ লাভ করে। লাইব্রেরিতে গিয়ে নিজের ইচ্ছামতো বই পড়ে তারা জ্ঞান অর্জন করতে পারে। তখন আত্মিক ও মানসিক বিকাশ সাধিত হয়।

উদ্দীপকের রেবেকা তার অনেক সাধনার সন্তানকে বড় করতে গিয়ে দুধ, ডিম, কলা, মিষ্টি প্রভৃতি খাবার অধিক পরিমাণে খাওয়ানোর ফলে তার সন্তান অস্বাভাবিক মোটা হয়ে যায় এবং হাঁটতে পারে না। সে তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। ডাক্তার তখন বলেন, "বয়স ও রুচি অনুযায়ী যা খেতে চায় এবং যতটুকু খেতে পারে তাই খাওয়াবেন। অতিরিক্ত খাওয়ার কারণে বয়সের তুলনায় মোটা বলে তার হাঁটা শিখতে দেরি হচ্ছে।” ডাক্তারের এই বক্তব্যে 'বই পড়া' প্রবন্ধের লেখক প্রমথ চৌধুরীর আকাঙ্ক্ষার প্রতীকী প্রতিধ্বনি ঘটেছে।

'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার পদ্ধতিকে শিক্ষাগ্রহণের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার ত্রুটি ও অসংগত দিকগুলো উল্লেখ করে তিনি স্বশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি মনে করেন মানুষকে স্বেচ্ছায় বই পড়ার সুযোগ করে দিতে হবে। আর এর জন্য তিনি অধিক সংখ্যক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন। লাইব্রেরিকে তিনি মনের হাসপাতালের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি মনে করেন স্বেচ্ছায় লাইব্রেরিতে বই পড়ার মাধ্যমে মানুষ স্বশিক্ষিত হতে পারবে। আর স্বশিক্ষিত মানুষ মাত্রই সুশিক্ষিত। উদ্দীপকের মায়ের মতো যেন শিক্ষাকে গেলানো না হয়। তবেই শিক্ষার্থীরা স্বশিক্ষিত ও সুশিক্ষিত হবে। লেখক উদ্দীপকের ডাক্তারের মতোই সঠিক পদ্ধতির শিক্ষার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন। তাই বলা যায়, প্রদত্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

8 Views
No Comments
Share
0
No comments to “সৃজনশীলঃ ‘বিয়ের দশ বছর…’ দিনাজপুর বোর্ড ২০২৪ – বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)”