| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘ব্যাংক ম্যানেজার মনোয়ার…’ রাজশাহী বোর্ড ২০১৮ – সিরাজউদ্দৌলা, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

ব্যাংক ম্যানেজার মনোয়ার হোসেন অত্যন্ত সরলমনা ও উদার প্রকৃতির মানুষ। ব্যাংকের প্রতিটি কর্মচারীকে তিনি অগাধ বিশ্বাস করেন। তাঁর মামার অনুরোধে মাকসুদ হাসান নামের এক ব্যক্তিকে তিনি ক্যাশিয়ার পদে নিয়োগ দেন এবং সিন্দুকের চাবি হস্তান্তর করেন। একদিন রাতের অন্ধকারে নৈশপ্রহরীর সহায়তায় মাকসুদ হাসান ব্যাংকের সকল অর্থসম্পদ আত্মসাৎ করে আত্মগোপন করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের প্রথম সংলাপ ক্যাপ্টেন ক্লেটনের।
গুপ্তচরের চোখ ফাঁকি দিয়ে নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে যোগ দিতে রবার্ট ক্লাইভ নারীর ছদ্মবেশে মিরনের বাড়িতে এসেছিল।
নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে সিংহাসনচ্যুত করতে রবার্ট ক্লাইভ এবং নবাবের অমাত্যবর্গ মিরনের বাড়িতে গোপন বৈঠক ডাকে। বৈঠকে মিরজাফর, ওয়াটস, রায়দুর্লভসহ সমস্ত বিশ্বাসঘাতকেরা উপস্থিত হয়। নবাবের গুপ্তচরেরা যেন এই গোপন বৈঠকের খবর না পায় এবং তাদের ধরতে না পারে সেজন্য রবার্ট ক্লাইভ নারীর ছদ্মবেশ ধারণ করে মিরনের বাড়িতে উপস্থিত হয়।
উদ্দীপকের ব্যাংক ম্যানেজারের সরল বিশ্বাস এবং মাকসুদ হাসানের প্রতারণার বিষয়টি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাব ছিলেন উদার ও সরলমনা। নবাবের এ ধরনের মানসিকতার সুযোগ নিয়েছিল মিরজাফর ও তার দোসরেরা। তারা গোপনে ইংরেজদের সাথে পরামর্শ করে সিরাজউদ্দৌলাকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্র করে। বিশ্বাসঘাতক অমাত্যদের দ্বারা প্রতারিত হয়ে নির্মম পরিণতির শিকার হন নবাব।
উদ্দীপকে ব্যাংক ম্যানেজার মনোয়ার হোসেন উদার প্রকৃতির মানুষ। তাই মাকসুদ হাসান নামের লোকটির প্রতি সহজেই নির্ভর করেছিলেন তিনি। কিন্তু মাকসুদ হাসান ব্যাংক ম্যানেজারের এই বিশ্বাসের মর্যাদা রাখেননি। তিনি গোপনে নৈশপ্রহরীর সহায়তায় ব্যাংকের সকল অর্থ-সম্পদ আত্মসাৎ করে আত্মগোপন করেন। ব্যাংক ম্যানেজারের উদারতার বিপরীতে মাকসুদ হাসানের এ প্রতারণার বিষয়টি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে বর্ণিত নবাবের সাথে অমাত্যবর্গের বিশ্বাসঘাতকতাকেই মনে করিয়ে দেয়।
উদ্দীপকের ব্যাংক ম্যানেজারের মতোই 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের নবাবও অদূরদর্শিতার কারণে প্রতারিত হয়েছিলেন।
আলোচ্য নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে বেশ কিছু অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত নিতে দেখা যায়। তিনি সহজেই তাঁর অমাত্যবর্গকে বিশ্বাস করেছিলেন। মিরজাফর ও তার দোসরদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আভাস পেয়েও তাদের বিরুদ্ধে কঠোর কোনো পদক্ষেপ নেননি তিনি। উলটো মিরজাফরের ওপরই পলাশির যুদ্ধের দায়িত্বভার অর্পণ করেছেন। ফলে চরম মূল্য দিতে হয়েছে তাঁকে। মিরজাফর ও তার সহযোগীদের বিশ্বাসঘাতকতায় বাংলার স্বাধীনতা বিসর্জন দিতে বাধ্য হয়েছেন নবাব সিরাজউদ্দৌলা।
উদ্দীপকে ব্যাংক ম্যানেজারের মধ্যে দূরদর্শিতার অভাব লক্ষণীয়। তিনি মামার অনুরোধে ভালো-মন্দ না ভেবেই মাকসুদ হাসানকে ক্যাশিয়ার পদে চাকরি দিয়েছেন। আবার সরল বিশ্বাসের কারণে তার কাছে সিন্দুকের চাবিও হস্তান্তর করেছেন। আর এই সুযোগ নিয়ে অসৎ চরিত্রের মাকসুদ ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ করে পালিয়েছেন। এ ঘটনায় ব্যাংক ম্যানেজারের অদূরদর্শিতা অনেকাংশেই ভূমিকা রেখেছে।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাবের পরিণতির জন্য তাঁর অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত পরোক্ষ ভূমিকা পালন করেছে। তিনি যদি মিরজাফর ও তার অনুগতদের ওপর নির্ভর না করতেন তাহলে তাঁকে করুণ পরিণতি বরণ করতে হতো না। উদ্দীপকের ব্যাংক ম্যানেজারের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। তিনিও ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। সময়োচিত সিদ্ধান্তই তাদের দুজনকে দুঃখজনক পরিণতি থেকে রক্ষা করতে পারত। তাই নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, অদূরদর্শী সিদ্ধান্তই উদ্দীপকের ব্যাংক ম্যানেজার এবং আলোচ্য নাটকের নবাব সিরাজউদ্দৌলার নির্মম পরিণতির কারণ।