| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘ব্যবহারিক ক্লাসে শিক্ষক…’ দিনাজপুর বোর্ড ২০২১ – প্রাণীর পরিচিতি, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

ব্যবহারিক ক্লাসে শিক্ষক রুই মাছের ব্যবচ্ছেদ করে কানকুয়া দ্বারা ঢাকা চিরুনির দাঁতের ন্যায় বিশেষ অঙ্গটি দেখালেন এবং এদের শ্বসন গ্যাস বিনিময়ের কৌশল সম্পর্কে ধারণা দিলেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ২
ফাইসোক্লিসটাস বায়ুথলির যে সকল পরিণত মাছের বায়ুথলি ও নাকে গ্রাসনালির মধ্যে সংযোগকারী নালি ডাক্টাস নিউমেটিকাস বিলুপ্ত হয়ে যায় সে সকল 'বায়ুথলিকে ফাইসোক্লিস্টাস বায়ুথলি বলে ।
হালদা নদী কার্প জাতীয় মাছের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ বড় বড় নদীগুলো কার্প বিশেষ করে রুই মাছের প্রজনন ক্ষেত্র। গ্রীষ্ম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কালবৈশাখী ও ভরা অমাবস্যা-পূর্ণিমায় কার্প জাতীয় মাছ নদীতে ডিম ছাড়ে। আভ্যন্তরীণ নদীগুলো থেকে প্রাকৃতিক রুই মাছ বা কার্প জাতীয় মাছ পাওয়া দুরূহ হয়ে পড়েছে। এ কারণে কার্প জাতীয় মাছের সংরক্ষণে সবার নজর এখন বাংলাদেশের হালদা নদীর দিকে। কারণ হালদা নদী বাংলাদেশের কেবল দেশি নদী নয়, এটি একমাত্র জোয়ার-ভাটার নদী যেখান থেকে মাছ চাষীরা পোনার বদলে রুই মাছের নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করে নিয়ে যায় ।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিশেষ অঙ্গটি হলো ফুলকা। নিচে ফুলকার সচিত্র গঠন বর্ণনা করা হলো- প্রত্যেকটি ফুলকা দেখতে সুতার মতো এবং একেকটি হোলোব্রাঙ্ক বা পূর্ণফুলকা। কারণ প্রত্যেক ফুলকা দুটি সদৃশ অর্ধাংশ নিয়ে গঠিত। প্রত্যেক অর্ধাংশকে বলে হেমিব্রাঙ্ক বা অর্ধ-ফুলকা। প্রত্যেক হেমিব্রাঙ্ক একসারি করে ফুলকা সূত্র বহন করে। এগুলো গোড়ায় যুক্ত, শীর্ষে মুক্ত ।
প্রতিটি সূত্র এপিথেলিয়ামে আবৃত অসংখ্য অনুপ্রস্থ প্লেট বহন করে। এপিথেলিয়াম রক্ত-জালিকা সমৃদ্ধ। প্রত্যেক ফুলকা একেকটি অস্থিময় ফুলকা আর্চ-এ অবলম্বিত। এভাবে প্রত্যেক আর্চে দুটি ফুলকা সারি যুক্ত থাকে। প্রথম চারটি ফুলকা আর্চই ফুলকাগুলো বহন করে। পঞ্চম আর্চে কোনো ফুলকা থাকে না। আর্চের অন্তঃকিনারা প্রসারিত হয়ে কাঁটাযুক্ত পাতলা ফুলকা-রেখার গঠন করে। দুই সারি হেমিব্রাঙ্কের মধ্যে অস্পষ্ট ইন্টারব্রাঙ্কিয়াল সেপ্টাম থাকে।
ফুলকা শ্বসন গ্যাস বিনিময়ের প্রধান অঙ্গ। নিম্নে ফুলকার মাধ্যমে শ্বসন গ্যাস বিনিময়ের কৌশল বর্ণনা করা হলো-
চারজোড়া ফুলকা হচ্ছে রুই মাছের প্রধান শ্বসন অঙ্গ । কারণ এগুলোর প্রত্যক্ষ ও প্রধান ভূমিকায় শ্বসন সম্পন্ন হয়। এ অঙ্গই পরিবেশ ও রুইমাছের দেহের মধ্যে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় গ্যাসীয় আদান-প্রদান ঘটায়।
রুইমাছের শ্বসন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে, মাছের গলবিল চোষণ পাম্পের মতো কাজ করে। এর মাধ্যমে অক্সিজেন সমৃদ্ধ পানি মুখের ভেতর দিয়ে প্রবেশ করে। কানকোর পার্শ্ব সঞ্চালনে চোষণ বলের সৃষ্টি হয় । কানকো দুটি উত্তোলিত হলে, ফুলকা প্রকোষ্ঠের মুখ ব্রাঙ্কিওস্টেগাল ঝিল্লি দিয়ে বন্ধ হয়ে যায়। এতে গলবিলে একটি চোষণ বলের সৃষ্টি হয় । ফলে মুখছিদ্র রক্ষাকারী মৌখিক কপাটিকা খুলে যায় এবং পানি মুখের ভেতর দিয়ে মুখগহ্বরে প্রবেশ করে। কানকো পেশি-সংকোচনের ফলে নেমে আসলে গলবিল ও মুখগহ্বরে চাপ বেড়ে যায়। সাথে সাথেই মৌখিক কপাটিকা মুখছিদ্রকে বন্ধ করে দেয় এবং ফুলকা-প্রকোষ্ঠের ছিদ্র উন্মুক্ত হয়। পানি তখন এ ছিদ্রপথেই বেরিয়ে যায়। মুখ ও গলবিলের ভেতর দিয়ে অতিক্রমের সময় স্রোতপ্রবাহ নিচে অবস্থিত ফুলকাগুলোকে ভিজিয়ে দেয়। আর তখনই ফুলকাসূত্র ব্যাপন প্রক্রিয়ায় O2 গ্রহণ ও CO2 ত্যাগ করে।
অতএব দেখা যায় যে, কানকো, গলবিল, মুখগহ্বর ফুলকাগুলোকে প্রশ্বাস গ্রহণ ও ত্যাগে সাহায্য করে এবং ফুলকাই হচ্ছে প্রধান শ্বসন অঙ্গ