| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘ব্যতিক্রম-X: মিউট্যান্ট জিনের…’ রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ ২০২৬ – জিনতত্ত্ব ও বিবর্তন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

ব্যতিক্রম-X: মিউট্যান্ট জিনের কারণে ইঁদুরের ভূণ অবস্থায় মৃত্যু ঘটে।
ব্যতিক্রম-Y: মিউটেশনের পরিবর্তে একাধিক জিনের ক্রমবর্ধিষ্ণু এবং পরিমাণগত প্রভাবে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের মতো মানব রোগ হতে পারে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১১
সমসংস্থ ক্রোমোসোম জোড়ের নির্দিষ্ট লোকাসে অবস্থানকারী নির্দিষ্ট জিন জোড়ের একটি অপরটির অ্যালিল বা অ্যালিলোমর্ফ।
মেন্ডেলের গবেষণা অনুসারে, দুই বা ততোধিক জোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীবের মধ্যে সংকরায়ণ ঘটালে প্রথম প্রজন্মে কেবল প্রকট বৈশিষ্ট্যগুলোই প্রকাশ পায়। তবে জনন কোষ বা গ্যামেট তৈরির সময় এই বৈশিষ্ট্যগুলোর জোড়া ভেঙে যায়। জোড়া ভেঙে যাওয়ার পর বৈশিষ্ট্যগুলো পরস্পর থেকে আলাদা হয়ে যায়। এরপর প্রতিটি বৈশিষ্ট্য স্বাধীনভাবে বিন্যস্ত হয়ে ভিন্ন ভিন্ন গ্যামেটে প্রবেশ করে। এভাবে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যগুলো একে অপরের ওপর নির্ভর না করে স্বাধীনভাবে পরবর্তী প্রজন্মে সঞ্চারিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্র বা স্বাধীনভাবে বণ্টন বা সঞ্চারণের সূত্র বলা হয়।
উদ্দীপকের প্রথম অনুপাতটি হলো ২: ১ যা লিথাল জিনের প্রভাবে হয়ে থাকে। এ জিনের কারণে মেন্ডেলের ১ম সূত্রের অনুপাত ৩: ১ এর পরিবর্তে ২: ১ হয়। লিথাল জিন হলো সেই জিন যারা হোমোজাইগাস অবস্থায় সংশ্লিষ্ট জীবের মৃত্যু ঘটায়।
ধরা যাক, ইঁদুরের হলুদ বর্ণের জন্য দায়ী জিন Y, মেটে বর্ণের জিন y এর উপর প্রকট। ফলে বিশুদ্ধ হলুদ বর্ণের ইঁদুরের জিনোটাইপ YY এবং বিশুদ্ধ মেটে বর্ণের ইঁদুরের জিনোটাইপ হবে yy। কিন্তু প্রকৃতিতে যেসব হলুদ বর্ণের ইঁদুর পাওয়া যায় তাদের কোনোটিই বিশুদ্ধ হোমোজাইগাস YY জিনোটাইপ বিশিষ্ট নয়। কারণ Y জিন হোমোজাইগাস অবস্থায় লিথালিটি প্রদর্শন করে এবং YY জিনোটাইপধারী ইঁদুরের মৃত্যু ঘটায়। সুতরাং প্রকৃতিতে প্রাপ্ত হলুদ ইঁদুরের জিনোটাইপ হলো Yy।
পিতামাতা:
নিচে চেকার বোর্ডের মাধ্যমে ফলাফল দেখানো হলো :
চেকার বোর্ডে দেখা যায় যে, হোমোজাইগাস প্রকট জিনোটাইপধারী (YY) ইঁদুরের শাবকগুলো লিথাল জিনের ক্রিয়ায় ভ্রূণ অবস্থায় মারা যায়। ফলে জনুর জিনোটাইপিক ও ফিনোটাইপিক অনুপাত অর্থাৎ হলুদ ও মেটে রঙের ইঁদুরের অনুপাত হয় ২:১।
উদ্দীপকে ব্যতিক্রম- দ্বারা পলিজেনিক ইনহেরিটেন্স বোঝানো হয়েছে।
পলিজেনিক ইনহেরিটেন্স বা বহুজিনীয় উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে জীবের একটি বৈশিষ্ট্য এক জোড়ার বদলে একাধিক জিনের সমষ্টি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। এসব বৈশিষ্ট্যের বহিঃপ্রকাশ কেবল জিনের উপস্থিতির ওপর নির্ভর করে না, বরং কতগুলো প্রকট জিন একসাথে আছে তার ওপর নির্ভর করে।
এই প্রক্রিয়াতে প্রতিটি প্রকট জিন ফিনোটাইপিক বৈশিষ্ট্য প্রকাশে একটি নির্দিষ্ট মাত্রা যোগ করে। এখানে কোনো একটি জিন অন্যটির ওপর পুরোপুরি আধিপত্য বিস্তার করে না, বরং জিনগুলোর প্রভাব ক্রমবর্ধিষ্ণু বা সমষ্টিগত হয়। অর্থাৎ কোনো জীবে প্রকট জিনের সংখ্যা যত বাড়তে থাকে, ওই নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের তীব্রতাও তত বৃদ্ধি পায়। মানুষের গায়ের রং বা উচ্চতার ক্ষেত্রে এটি খুব স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায়।
উদাহরণ হিসেবে মানুষের গায়ের রঙের কথা বলা যেতে পারে। গায়ের রং মূলত মেলানিন নামক রঞ্জক পদার্থের ওপর নির্ভরশীল। যদি কোনো ব্যক্তিতে প্রকট জিনের সংখ্যা বেশি থাকে, তবে তার ত্বকে মেলানিন জমার পরিমাণ বেড়ে যায় এবং গায়ের রং গাঢ় হয়। আবার প্রকট জিনের সংখ্যা কমলে মেলানিন তৈরির হার কমে যায় এবং গায়ের রং হালকা হতে থাকে। এভাবেই প্রকট জিনগুলোর সমষ্টিগত উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি ফিনোটাইপিক প্রকাশের তীব্রতাকে ত্বরান্বিত বা হ্রাস করে। এর ফলে একই প্রজাতির জীবের মধ্যে বৈশিষ্ট্যের অনেক রকমের তারতম্য দেখা যায়।