| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘বকুল যখন স্বামীহারা…’ সিলেট বোর্ড ২০১৭ – মাসি পিসি, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

বকুল যখন স্বামীহারা হয়, তখন তার মেয়ে পারুলের বয়স দুই বছর। একদিকে অর্থকষ্ট, অপরদিকে বদলোকের কুদৃষ্টি। লোকের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে, খেয়ে না খেয়ে মেয়েটাকে বড় করে বকুল। একসময় মেয়ের বিয়েও দেয়। কিন্তু বছর না ঘুরতেই অত্যাচারী স্বামীর সাথে সম্পর্ক ছেদ করে মায়ের কাছে ফিরে আসে পারুল। সম্মানের সাথে বেঁচে থাকার জন্য মেয়ে পারুল হয় বকুলের অবলম্বন। মায়ের জীবন- সংগ্রাম দেখে বড় হওয়া পারুল মায়ের চেয়ে সাহসী এবং আত্মমর্যাদাশীল। বাড়ির পাশে শাক-সবজি চাষ করে, ঘরে হাঁস-মুরগী পালন করে, ধান ভেনে, কাঁথা সেলাই করে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করে মা ও মেয়ে। যেকোনো অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে জীবন বলি রাখার দৃঢ় প্রত্যয় বকুল ও পারুলের চাল চলনে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১৭
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিতৃপ্রদত্ত নাম হলো প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়।
নিজেকে ছ্যাঁচড়া, নোংরা, নর্দমার মতো লাগে 'মাসি-পিসি' গল্পের আহ্লাদির।
অত্যাচারী স্বামী জগুর ঘর থেকে আহ্লাদি তার মাসি-পিসির কাছে চলে আসে। কিন্তু এলাকার কিছু খারাপ লোক তার দিকে কুদৃষ্টিতে তাকায়। মাসি-পিসির সাথে বাজারে গেলে তারা তরিতরকারি কেনার মতো তাকেও করায়ত্ত করার জন্য মাসি-পিসির সাথে আলাপ জমায়। এ সকল কথা চিন্তা করে নিজেকে আহ্লাদির ছ্যাঁচড়া, নোংরা, নর্দমার মতো লাগে।
'মাসি-পিসি' গল্পে আহ্লাদিকে নির্যাতিত, অসহায় ও পরনির্ভরশীল নারী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
আলোচ্য গল্পের আহ্লাদি স্বামীর অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে তার মাসি-পিসির কাছে চলে আসে। নিঃস্ব ও বিধবা মাসি-পিসি নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার পাশাপাশি আহ্লাদিকেও সমাজের বিরূপ পরিবেশ থেকে রক্ষা করতে সর্বদা সচেষ্ট থাকে। কিন্তু গল্পে আহ্লাদিকে আত্মরক্ষার কোনো চেষ্টা করতে দেখা যায় না। সে সবসময় ভয়ে কোণঠাসা হয়ে থাকে। জগুর মামলার হুমকিতে সে ভয় পায়। বদলোকের খারাপ দৃষ্টির কারণে নিজেকে তার নোংরা, নর্দমার মতো মনে হয়। নিজেকে রক্ষা করার জন্য সে মাসি-পিসির ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকে।
উদ্দীপকের স্বামীহারা বকুল প্রতিকূল পরিবেশের বিরুদ্ধে লড়াই করে মেয়ে পারুলকে বড় করে তোলে। একসময় মেয়ের বিয়েও দেয় সে। কিন্তু অত্যাচারী স্বামীর সাথে সম্পর্ক ছেদ করে মায়ের কাছে চলে আসে পারুল। সম্মানের সাথে বেঁচে থাকার জন্য পারুল বাড়ির পাশে সবজি চাষ, হাঁস-মুরগী পালন, কাঁথা সেলাই ইত্যাদি কাজে নিজেকে নিয়োজিত করে। আত্মমর্যাদাসম্পন্ন নারী হিসেবে সে সমাজের বিরূপ পরিবেশের বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে। কিন্তু গল্পের আহ্লাদির মধ্যে এই সাহস ও উদ্দীপনার অভাব পরিলক্ষিত হয়। এখানেই আহ্লাদি ও পারুলের মধ্যে বৈপরীত্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
উদ্দীপক ও 'মাসি-পিসি' গল্প উভয়ক্ষেত্রেই প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে নারীর দৃঢ় ও সাহসী অবস্থান ব্যক্ত হয়েছে বলে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটিকে যথাযথ বলে বিবেচনা করা যায়।
আলোচ্য গল্পের মাসি-পিসি দুজনই নিঃস্ব ও বিধবা। জীবনসংগ্রামে টিকে থাকার জন্য তারা ধান ভানে, কাঁথা সেলাই করে, শাক-পাতা কুড়িয়ে শহরের বাজারে বিক্রি করে। আহ্লাদি স্বামীর ঘর ছেড়ে চলে আসলে তাকে তারা পরম মমতায় আগলে রাখে। জগুর অত্যাচার ও সমাজের বদলোকের কুদৃষ্টি থেকে তাকে রক্ষা করতে সবসময় সতর্ক থাকে।
উদ্দীপকের স্বামীহারা বকুল লোকের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে, খেয়ে না খেয়ে তার মেয়ে পারুলকে বড় করে। কিন্তু বিয়ের পর স্বামীর অত্যাচারের কারণে মায়ের কাছে ফিরে আসে পারুল। সাহসী ও আত্মমর্যাদাশীল পারুল সম্মানের সাথে বেঁচে থাকার জন্য শাক-সবজির চাষ করে, ধান ভানে, কাঁথা সেলাই করে। সে সবরকম অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে টিকে থাকার জন্য সংগ্রাম করে।
'মাসি-পিসি' গল্পের মাসি-পিসি এবং আলোচ্য উদ্দীপকের বকুল ও তার মেয়ে পারুল সমাজের বিরূপ পরিবেশে টিকে থাকার জন্য সংগ্রাম করে। গল্পের মাসি-পিসি নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার পাশাপাশি আহ্লাদির সুরক্ষার জন্য সর্বদা সচেষ্ট থাকে। উদ্দীপকের বকুলও স্বামীর মৃত্যুর পর মেয়ে পারুলের সুরক্ষার জন্য কঠোর পরিশ্রম করে। বিয়ের পর স্বামী অত্যাচার করলে পারুল তার মায়ের কাছে ফিরে এসে এবং মায়ের সাথে কাজ করে সাবলম্বী হওয়ার উদ্যোগ নেয়। তাই বলা যায়, জীবনসংগ্রামে টিকে থাকার লড়াইয়ের দিক বিবেচনায় "উদ্দীপকটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে 'মাসি- পিসি' গল্পের বক্তব্যকে ধারণ করে"-মন্তব্যটি যথার্থ।