বছর কয়েক আগে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ে সড়ক ঘেঁষে মনুফকির নামে এক ওঝা আস্তানা গাঁড়ে। কিছুদিনের মধ্যে তার আস্তানায় সাধারণ মানুষের আনাগোনা বেড়ে যায়। সরলমনা মানুষের টাকা-পয়সা ও উপহার সামগ্রী পেয়ে অল্পদিনেই মনুফকির অঢেল সম্পদের মালিক বনে যায়। অল্পদিনের মধ্যে উক্ত ওঝার আস্তানাকে কেন্দ্র করে একটি সুযোগ সন্ধানী চক্র গড়ে উঠে। ফলে এলাকায় অপরাধ প্রবণতা ও কুসংস্কার বাড়তে থাকে।
বহিপীরের সহকারীর নাম হকিকুল্লাহ।
জমিদার হাতেম আলির জমিদারি হারানো ও বিয়ের আসর থেকে বউ পালিয়ে যাওয়ার অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বহিপীর প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
হাতেম আলি নিশ্চিত ছিল তার জমিদারি হারানোর ব্যাপারে। বহিপীরের কাছে সে প্রথমে গোপন করলেও পরে সত্যি কথা বলে। বহিপীরও তার দুরবস্থার কথা হাতেম আলির কাছে স্বীকার করে। দুজনেই যখন বিপর্যস্থ অবস্থার সম্মুখীন তখন পির হাতেম আলিকে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে বলেন। কেননা তার বিশ্বাস দুনিয়াটা এক মস্ত বড়ো পরীক্ষাক্ষেত্র আর আল্লাহ তাদের পরীক্ষা নিচ্ছেন।
উদ্দীপকে বর্ণিত সরলমনা মানুষ ‘বহিপীর’ নাটকের খোদেজা চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করেন।
‘বহিপীর’ নাটকে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মুসলমান সমাজে জেঁকে বসা পিরপ্রথা, কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের দিকটি বর্ণিত হয়েছে। এ নাটকে খোদেজা চরিত্রটি একটি কুসংস্কারাচ্ছন্ন চরিত্র। তিনি তাহেরাকে পিরের কাছে ফিরে যেতে বলেন। কারণ তিনি মনে করেন, পিরের স্ত্রী হওয়া সৌভাগ্যজনক এবং পিরের কথায় অবাধ্য হলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হবে। এজন্য পুত্র হাশেমকেও পিরের বিরোধিতা করতে নিষেধ করেন।
উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ের সড়ক ঘেঁষে মনুফকির নামে একজন ওঝা আস্তানা গেঁড়েছে। ওখানে সাধারণ মানুষের আনাগোনা বেড়ে যায়। সরলমনা মানুষেরা টাকা, পয়সা, উপহার সামগ্রী দিয়ে মনুফকিরকে অঢেল সম্পত্তির মালিক করে তোলে। উক্ত আস্তানাকে কেন্দ্র করে সুযোগ সন্ধানী চক্র গড়ে ওঠে এবং এলাকায় অপরাধ প্রবণতা ও কুসংস্কার বেড়ে যায়। উদ্দীপকের সাধারণ সরলমনা মানুষের অন্ধবিশ্বাস এবং ‘বহিপীর’ নাটকের খোদেজার পির সম্পর্কে বিশ্বাস যেন একই সূত্রে গ্রনিথত। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকে বর্ণিত সরলমনা মানুষ ‘বহিপীর’ নাটকের খোদেজার প্রতিনিধিত্ব করেন।
উদ্দীপকের মনুফকিরকে ‘বহিপীর’ নাটকের বহিপীরের যথার্থ প্রতিনিধি বলা যায় না।
গ্রামাঞ্চলের অনেক মানুষই অল্পশিক্ষিত, ধর্মান্ধ ও অজ্ঞ। কুসংস্কার তাদের মজ্জায় মিশে আছে। কিছু ধর্মব্যবসায়ী সরলপ্রাণ মানুষের এই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে লাভবান হয়। ফলে সহজ-সরল গ্রামবাসী এই প্রতারণার শিকার হয় বেশি।
উদ্দীপকে বর্ণিত মনুফকির নামে এক ভড ধর্মব্যবসায়ী সরলমনা মানুষের টাকা-পয়সা ও উপহার সামগ্রী নিয়ে অঢেল সম্পদের মালিক বনে যায়। সাধারণ মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে মনুফকিরের আস্তানাকে কেন্দ্র করে কিছু অসাধু সুযোগ সন্ধানী চক্র গড়ে ওঠে। ফলে এলাকায় অপরাধ প্রবণতা ও কুসংস্কার বেড়ে যায়।
‘বহিপীর’ নাটকের পির ধর্মকে ব্যবহার করে জীবিকানির্বাহ করে। জৈবিক চাহিদা পূরণ করতেও ধর্মকে কাজে লাগায়। কিন্তু তার মধ্যে একটি মানবিক গুণও লক্ষ করা যায়। সে শেষ পর্যন্ত জমিদারকে বিনা শর্তে সাহায্য করে এবং তাহেরা হাশেমের সঙ্গে চলে যাওয়াকে মেনে নিয়ে যুগ সচেতনতার পরিচয় দেয়। কিন্তু উদ্দীপকের মনুফকিরের মধ্যে তেমন কোনো বৈশিষ্ট্য ফুটে ওঠেনি। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের মনুফকিরকে ‘বহিপীর’ নাটকের বহিপীরের যথার্থ প্রতিনিধি বলা যায় না।
