| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘বজলু মতিন মণ্ডলের…’ বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ ২০২৫ – প্রতিদান, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

বজলু মতিন মণ্ডলের চায়ের দোকানে কাজ করে। একদিন বজলু চায়ের কাপ পরিষ্কার করতে গিয়ে অসতর্কতাবশত দুটি কাপ ভেঙে ফেলে। এতে মতিন মণ্ডল তাকে অনেক মারধর করে। কাজ শেষে যখন বজলু বাড়ি ফিরবে হঠাৎ সে দোকানের ক্যাশ বাক্সের পাশে কিছু টাকা দেখতে পায়। তার বুঝতে দেরি হয় না যে, দোকানের মালিক টাকা বাক্সে তুলতে ভুলে গেছে। পরদিন কাজে এসে বজলু মতিন মন্ডলকে টাকাগুলো ফেরত দেয়। তখন মতিন মণ্ডল বজলুকে শাস্তি দেওয়ার জন্য অনুতপ্ত হয় এবং বজলুর বেতন বাড়িয়ে দেয়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১৩
নিরন্তর শব্দের অর্থ নিয়ত বা অবিরাম।
• 'কাঁটা পেয়ে তারে ফুল করি দান সারাটি জনম-ভর' বলতে কবি অন্যের দ্বারা কষ্ট পেয়েও তাকে প্রতিদানে ভালোবাসা দান করাকে বুঝিয়েছেন।
• 'প্রতিদান' কবিতায় কবি ক্ষুদ্র স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে পরার্থপরতার মধ্যেই প্রকৃত সুখ খুঁজে পেয়েছেন। তিনি প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার বিপরীতে একটি সাম্য ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ পরিবেশের প্রত্যাশা করেছেন। তাই সারা জীবন ধরে যারা তাঁকে দুঃখ-যন্ত্রণা দিয়েছে তিনি সেসব ভুলে তাদের ভালোবাসা দান করেন।
• উদ্দীপকটি সংশ্লিষ্ট কবিতা তথা 'প্রতিদান' কবিতার সঙ্গে যেভাবে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ তা হচ্ছে 'প্রতিদান' কবিতায় কবির পরার্থপরতা মনোভাবের বিপরীতে উদ্দীপকের মতিন মন্ডলের নিষ্ঠুরতম প্রতিক্রিয়া।
• পৃথিবীতে কেউ নিজের জন্য আসেনি। প্রত্যেক মানুষ একে অপরের পরিপূরক। তাই প্রত্যেক মানুষের উচিত নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থের কথা ভুলে গিয়ে অন্যের জন্য কাজ করা। তাহলেই মানবজন্মের প্রকৃত সার্থকতা।
• উদ্দীপকে দেখা যায়, মতিন মণ্ডলের চায়ের দোকানে কাজ করা বজলু অসতর্কতাবশত দুটি কাপ ভেঙে ফেললে মতিন মণ্ডল তাকে অনেক মারধর করে। এ বিষয়টি 'প্রতিদান' কবিতার সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ। কারণ 'প্রতিদান' কবিতার মধ্যে কবি ক্ষুদ্র স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে পরার্থপরতার মধ্যেই ব্যক্তির প্রকৃত সুখ ও জীবনের সার্থকতা খুঁজে নিতে বলেছেন। যেকোনো পরিস্থিতিতে কবি প্রতিশোধ প্রতিহিংসার বিপরীতে ব্যক্ত করেছেন প্রীতিময় এক পরিবেশ সৃষ্টির আকাঙ্ক্ষা। কিন্তু উদ্দীপকের মতিন মন্ডল তা না করে হয়ে উঠেছে নিষ্ঠুর। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের মতিন মিয়ার এই নিষ্ঠুরতম মনোভাবটি 'প্রতিদান' কবিতার সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
• "মতিন মণ্ডলের মানসিক পরিবর্তন যেন কবির সম্পূর্ণ পৃথিবী নির্মাণের সহায়ক"- উদ্দীপক এবং 'প্রতিদান' কবিতার ভাববস্তু বিশ্লেষণ করলে এ বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
• যুগ যুগ ধরে মানুষ একে অন্যের সাহায্যে এগিয়ে এসেই জগতের শান্তি স্থাপন করেছে। অন্যের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কল্যাণকর কাজ করা মানুষের অন্যতম একটি মানবিক গুণ।
• উদ্দীপকের ভাববস্তু পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, প্রথমে মতিন মন্ডল নিষ্ঠুরতম আচরণ করলেও বজলুর সততায় তার আচরণের মধ্যে ভাবান্তর ঘটে এবং তার নিষ্ঠুরতম আচরণের জন্য অনুতপ্ত হয় সে। 'প্রতিদান' কবিতার মধ্যে কবি সমাজ-সংসারে বিদ্যমান হিংসা, বিভেদ, হানাহানি প্রভৃতি নেতিবাচকতা থাকা সত্ত্বেও প্রতিশোধ-প্রতিহিংসার বিপরীতে ব্যক্ত করেছেন একটি সুন্দর, নিরাপদ ও প্রীতিময় পৃথিবী সৃষ্টির আকাঙ্ক্ষা। যে আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়নে উদ্দীপকের মতিন মণ্ডলের মতো মানসিক পরিবর্তন অন্যতম সহায়ক হিসেবে কাজ করে।
• 'প্রতিদান' কবিতায় কবি অনিষ্টকারীকে কেবল ক্ষমা করেই নয় বরং প্রতিদান হিসেবে তার উপকার করার মধ্য দিয়ে পৃথিবীকে আরও সুন্দর ও বাসযোগ্য করে তুলতে চেয়েছেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের মতিন মণ্ডলের মানসিক পরিবর্তন যেন কবির ভালোবাসাপূর্ণ পৃথিবী নির্মাণের অন্যতম সহায়ক।