| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘বক্ষীয় প্রকোষ্ঠের একটি…’ নটরডেম কলেজ ২০২৪ – শ্বসন ও শ্বাসক্রিয়া, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

বক্ষীয় প্রকোষ্ঠের একটি অঙ্গ যা ভ্রূণীয় ২৩ সপ্তাহে কাজ করতে শুরু করে। দেহের গঠনগত একক হতে বিপাক ক্রিয়ায় সৃষ্ট অপ্রয়োজনীয় উপাদান বাহিকার মাধ্যমে অঙ্গটিতে এসে উপনীত হয়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৫
মধ্যকর্ণের অভ্যন্তরে সংক্রমণজনিত প্রদাহই হলো ওটিটিস মিডিয়া।
মানুষের মাথার খুলির মুখমণ্ডলীয় অংশে নাসাগহ্বরের দুপাশে অবস্থিত বায়ুপূর্ণ চারজোড়া বিশেষ গহ্বরকে প্যারান্যাসাল সাইনাস বলে। যথা-
১. ম্যাক্সিলারি সাইনাস ২. ফ্রন্টাল সাইনাস ৩. এথময়েড সাইনাস ৪. স্ফেনয়েড সাইনাস।
উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গটি হলো ফুসফুস যা ভূনীয় ২৩ সপ্তাহে কাজ করতে শুরু করে। বাইরের পরিবেশের সাথে গ্যাস বিনিময়ের মাধ্যমে অর্থাৎ বহিঃশ্বসনের মাধ্যমে ফুসফুস পরিবেশের সাথে সমন্বয় সাধন করে । নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
বহিঃবিনিময় বা বহিঃশ্বসন একধরনের শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ফুসফুসে O2 সমৃদ্ধ বায়ু প্রবেশ করে এবং CO2 সমৃদ্ধ বায়ু ফুসফুস থেকে বের হয়ে যায়। বহিঃশ্বসন দুটি ধাপে সম্পন্ন হয়। যথা- শ্বাসগ্রহণ ও শ্বাসত্যাগ। শ্বাসগ্রহণ প্রক্রিয়ায় ডায়াফ্রাম ও ইন্টারকোস্টাল পেশির সংকোচনে বক্ষীয় গহ্বর সবদিকে বেড়ে যায়। এ কারণে ফুসফুস প্রসারিত হয়ে এর ভেতরের আয়তনও বেড়ে যায়। ফলে ফুসফুসের অভ্যন্তরে বায়ুচাপ কমে যায় এবং নাসিকাপথের বায়ু অর্থাৎ O2 ফুসফুসে প্রবেশ করে। আবার শ্বাসগ্রহণ এর পরপরই শ্বাসত্যাগ প্রক্রিয়া সংঘটিত হয়। শ্বাসগ্রহণে অংশগ্রহণকারী পেশিগুলোর প্রসারণ বা শিথিলতার জন্য শ্বাসত্যাগ ঘটে। এ ধাপে বক্ষগহ্বরের আয়তন কমে যায় এবং প্লুরার অন্তঃস্থ চাপ ও ফুসফুসের বায়ুর চাপ বেড়ে যায়। CO2-যুক্ত বাতাস তখন ফুসফুস থেকে নাসিকাপথে বেরিয়ে গেলে ফুসফুসের আয়তনও কমে যায় ।
এভাবে গ্যাস বিনিময়ের মাধ্যমে উদ্দীপকের অঙ্গটি অর্থাৎ ফুসফুস বাইরের পরিবেশের সাথে সমন্বয় সাধন করে ।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বক্ষীয় প্রকোষ্ঠের অঙ্গটি হলো ফুসফুস। বিপাকীয় কার্যের ফলে দেহের কোষে অপ্রয়োজনীয় উপাদান কার্বন ডাই- অক্সাইড উৎপন্ন হয়। উৎপন্ন এ CO2 শিরা নামক বাহিকার মাধ্যমে ফুসফুসে এসে উপনীত হয়। শিরার ভেতর দিয়ে রক্তের মাধ্যমে তিনটি ভিন্ন উপায়ে এ পরিবহন সম্পন্ন হয়। যেমন-
মানবদেহে বহিঃশ্বসন প্রক্রিয়ায় শ্বাস ক্রিয়ার সময় ফুসফুসে O2- সমৃদ্ধ বায়ু প্রবেশ এবং CO2-সমৃদ্ধ ফুসফুস থেকে বাইরে বের হয়। মূলত, নিঃশ্বাস বা শ্বাসত্যাগের সময় ফুসফুসের CO2-সমৃদ্ধ বায়ু অ্যালভিলাই, ব্রঙ্কিওল, ব্রঙ্কাস, নাসাপথের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়ে নাসারন্ধ্র পথে বাইরে মুক্ত হয়। আবার রক্তের মাধ্যমে CO2 পরিবহন বা অন্তঃশ্বসনের শর্করা জারণে কোষে সৃষ্ট CO2 গ্যাস কোষ থেকে রক্ত দ্বারা ফুসফুসে পৌঁছায় এবং তা হতে বায়ুতে মুক্ত হয়। কলাকোষ হতে অ্যালভিওলাসে CO2 গ্যাসের পরিবহন প্রক্রিয়া তিনটি ভিন্ন পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়। যেমন-
i. ভৌত দ্রবণরূপে: ৫% CO2 রক্তের প্লাজমায় দ্রবীভূত হয়ে কার্বনিক অ্যাসিডরূপে বাহিত হয় ।
CO2+H2O→H2CO3
ii. কার্বামিনো যৌগরূপে: ১০% CO2 লোহিত কণিকার হিমোগ্লোবিনের প্রোটিন অংশের অ্যামিন ( NH3) মূলকের সাথে বিক্রিয়া করে কার্বামিনো-হিমোগ্লোবিন যৌগরূপে রক্ত দ্বারা পরিবাহিত হয়।
CO2 + HbNH2 → HbNHCOOH (কার্বামিনো-হিমোগ্লোবিন)
iii. বাইকার্বোনেট যৌগরূপে: অধিকাংশ CO2-ই রক্তে বাইকার্বনেট রূপে পরিবাহিত হয় দুইভাবে-
a) NaHCO3 রূপে প্লাজমার মাধ্যমে এবং
b) KHCO3 রূপে লোহিত কণিকার মাধ্যমে ।
এক্ষেত্রে CO2 ব্যাপন প্রক্রিয়ার লোহিত রক্ত কণিকায় প্রবেশ করে এবং কার্বনিক এনহাইড্রেজ এনজাইমের সহায়তায় পানির সাথে বিক্রিয়া করে কার্বনিক অ্যাসিড (H2CO3) সৃষ্টি করে। এ কার্বনিক অ্যাসিডের অধিকাংশই ভেঙ্গে H+ এবং HCO3- আয়নে পরিণত হয়। HCO3 লোহিত কণিকার K+ এর সাথে সংযুক্ত হয়ে পটাশিয়াম বাইকার্বনেট (KHCO3 ) গঠন করে। কিছু HCO3- লোহিত কণিকা থেকে বের হয়ে রক্তরসে চলে আসে এবং Na+ এর সাথে সংযুক্ত হয়ে সোডিয়াম বাইকার্বনেট (NaHCO3) গঠন করে ।