A. Nayan
A. Nayan
27 May 2026 (4 months ago)
Dhaka, Narayanganj

সৃজনশীলঃ ‘বরযাত্রী হয়ে এসেছেন…’ – বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)


Listen to this article
📘 ক্লাস: 9-10🎓 গ্রুপ: general📚 বই: বাংলা📖 ২য় অধ্যায় : ফুলের বিবাহ - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়🔢 সৃজনশীল নং:📅 সাল: ২০২৬⭐ গুরুত্ব: ★★★★★

💡 সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

বরযাত্রী হয়ে এসেছেন অজয় ঠাকুর। দেখতে খুবই সহজ-সরল মনে হয়। কিন্তু তার একটা দোষ আছে, তিনি যেখানে যে বিয়েতে যান উসকানিমূলক কথা বলে কন্যাপক্ষ ও বরপক্ষের মধ্যে ঝগড়া বাধিয়ে দেন। আজ নিজের নাতির বিয়েতেও এর নড়চড় হলো না। কন্যাপক্ষের গেটে আসতে একটু দেরি হওয়ায় তাদেরকে ছোটলোক বলে গালি দিলেন। বললেন আগে জানলে এই ছোট জাতের ঘরে নাতিকে বিয়ে করাতাম না। এটা নিয়ে ছোটখাটো একটা হট্টগোল হয়ে যায়।

উত্তর:

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।

উত্তর:

সন্ধ্যাঠাকুরাণীকে দিয়ে অনেক বুঝিয়ে মল্লিকা ফুলকে ঘোমটা খোলানোর জন্য রাজি করানো হয়েছিল।
মল্লিকা ফুলকে ভ্রমররাজ ঘটক হয়ে দেখতে এলে কিছুতেই সে ঘোমটা খুলতে চায়নি। সন্ধ্যাঠাকুরাণী এসে অনেক বুঝিয়ে, ভালোবেসে, উৎসাহ দিয়ে ঘোমটা খুলতে বলেছে। সে ঘোমটা না খুললে বর আসবে না বলে ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। অবশেষে সন্ধ্যার স্নিগ্ধ স্বভাবে মুগ্ধ হয়ে ঘোমটা খুলতে রাজি হয় মল্লিকা ফুল।

উত্তর:

উদ্দীপকের অজয় ঠাকুরের সঙ্গে 'ফুলের বিবাহ' গল্পের পিঁপড়ার সাদৃশ্য রয়েছে।
'ফুলের বিবাহ' গল্পে মল্লিকা ফুলের বিয়ের প্রসঙ্গে লেখক প্রয়োজনীয় সব চরিত্রের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন। মোসাহেব প্রকৃতির পিঁপড়াও বাদ যায়নি। এ শ্রেণির মানুষরা গোপনে ও প্রকাশ্যে নিপুণভাবে তাদের কাজ সম্পন্ন করে অন্যের সম্পর্কের মধ্যে বিষ ছড়িয়ে দেয়।'এ গল্পে পিঁপড়াও একই কাজ করেছে।
উদ্দীপকের অজয় ঠাকুরের কাজ হলো অন্যের দোষ খুঁজে বেড়ানো। তুচ্ছ ঘটনাকে বড় করে বিবাদ বাধানোর মধ্যেই সে আনন্দ খুঁজে পায়। নিজের নাতির বিয়েতেও তিনি নিজের চরিত্রের স্বরূপ প্রকাশ করেন। কন্যাপক্ষের সামান্য ত্রুটিতে তাদেরকে ছোটলোক বলে গালি দেন। 'ফুলের বিবাহ' গল্পেও এরূপ চরিত্র দেখা যায় পিঁপড়ার মাঝে। তারা বিয়েতে এসে কোনো ভালো দিক দেখার আগেই ভাবে কীভাবে এখান থেকে ভুল বের করা যায়। সেই ভুল বের করে তারা নানা সমালোচনা করার চেষ্টা করে। তারা সব বরযাত্রীতে থাকে এবং সর্বদা কোনো না কোনো বিবাদ বাধায়। মূলত এই পিঁপড়া কিংবা অজয় ঠাকুর দুই-ই আমাদের সমাজের সেই চরিত্র যারা ভালোর মধ্যেও মন্দকে খুঁজে বের করে বিবাদ সৃষ্টি করে।

উত্তর:

'ফুলের বিবাহ' গল্পের বরযাত্রী হিসেবে অশোকের সাথে একপাল পিঁপড়া আসে যাদের গুণের থেকে দাঁতের জ্বালা বেশি বিষয়টি ধারণ করতে পারলেও "উদ্দীপকটি 'ফুলের বিবাহ' গল্পের সম্পূর্ণ বিষয় ধারণ করতে পারেনি" মন্তব্যটি যথার্থ।
'ফুলের বিবাহ' গল্পের প্রধান প্রতীক হলো ক্ষুদ্র বৃক্ষ, যা আসলে মানবজীবনের একটি প্রতীক। শেষে ক্ষুদ্র বৃক্ষটি তার মেয়েকে একটি ভালো পাত্রের সাথে বিয়ে দিতে পেরে আনন্দিত হয়। লেখক মূলত এ গল্পে ফুলের বিয়েকে কেন্দ্র করে মানুষের বিয়ে ও সামাজিক রীতিনীতিকে ব্যঙ্গ করেছেন।
উদ্দীপকে অজয় ঠাকুর বরপক্ষের লোক হয়ে এসেছেন নিজের নাতির বিয়েতে। অথচ সেখানেও হট্টগোল বাধানোর মূল হোতা তিনি। কন্যাপক্ষের সামান্য ভুলকে অনেক বড় বানিয়ে হট্টগোল বাধিয়ে দেন। উদ্দীপকের এই বিষয়টি 'ফুলের বিবাহ' গল্পেও ফুটে উঠেছে। অশোকের সঙ্গে একপাল পিঁপড়া মোসাহেব হয়ে আসে যাদের গুণ নেই কিন্তু খুব দাঁতের জ্বালা। তবে এ দিকটি ছাড়া যৌতুকপ্রথা, বিয়ের অনুষ্ঠান, বিভিন্ন রীতি, গুরুজনদের রসিকতা, ঘটকের উপস্থিতি ইত্যাদি বিষয় 'ফুলের বিবাহ' গল্পকে পূর্ণাঙ্গতা দিয়েছে। কিন্তু উদ্দীপকে মাত্র একটি দিকই প্রকাশিত হয়েছে।
'ফুলের বিবাহ' গল্পের বিষয়বস্তুর পরিসর ব্যাপক। আর এ ব্যাপক পরিসরের একটি ক্ষুদ্র দিক হলো উসকানিমূলক চরিত্র, যেটি উদ্দীপকেও ফুটে উঠেছে। আর তাই এ কথা বলা যায় যে, উদ্দীপকটি 'ফুলের বিবাহ' গল্পের আংশিক প্রতিফলন মাত্র।

10 Views
No Comments
Share
0
No comments to “সৃজনশীলঃ ‘বরযাত্রী হয়ে এসেছেন…’ – বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)”