| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘বটতলী গ্রামের অধিকাংশ…’ যশোর বোর্ড ২০১৭ – লালসালু, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

বটতলী গ্রামের অধিকাংশ মানুষ অশিক্ষিত, ধর্মান্ধ ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন। সেই গ্রামের ছেলে মুনির কলেজে লেখাপড়া করে। গ্রামের অশিক্ষিত মানুষকে শিক্ষিত করতে সে গ্রামে একটি নৈশবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এ বিষয়ে গ্রামে সভা বসলে, গ্রামের মাতব্বর এই প্রস্তাবে খুব খুশি হন। তিনি মুনিরকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
খালেক ব্যাপারীর দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম তানু বিবি।
প্রশ্নোক্ত উক্তিটি দ্বারা এ দেশের প্রান্তিক মানুষের অন্ধ ধর্মবিশ্বাসের দিকটিকে বোঝানো হয়েছে।
গ্রামবাংলায় সাধারণত শিক্ষার আলো জোরালো নয়। এর ফলে সেখানকার অধিকাংশ মানুষ হয় ধর্মান্ধ। তারা উন্নত চাষপদ্ধতি গ্রহণ করে না। খোদার ওপর ভরসা করে চুপ করে বসে থাকে। তাই গ্রামে দেখা দেয় দুর্ভিক্ষ ও শুরু হয় ক্ষুধার যন্ত্রণা। তখন ধর্মকে কেন্দ্র করে শুরু হয় ব্যবসা, ধর্মের নামে চলে ভণ্ডামি। আলোচ্য উক্তিটি দ্বারা প্রান্তিক মানুষের জীবনে ধর্মের প্রতি অন্ধবিশ্বাস ও ধর্মকেন্দ্রিক ব্যবসার বিষয়টিই বোঝানো হয়েছে।
উদ্দীপকের মুনির চরিত্রটি 'লালসালু' উপন্যাসের আক্কাস চরিত্রের কথা মনে করিয়ে দেয়।
'লালসালু' উপন্যাসের আক্কাস ধর্মান্ধতার খোলস থেকে বেরিয়ে আধুনিক শিক্ষার আলোকে নিজের গ্রামকে আলোকিত করতে চায়। সে মহব্বতনগর গ্রামের মোদাব্বের মিঞার ছেলে। বহুদিন বাইরে পড়ালেখা করে নিজ গ্রামে ফিরে এসেছে। করিমগঞ্জ স্কুলে যা পড়েছে এবং তামাক বা পাটের আড়তে চাকরি করে যা শিখেছে তার ওপর নির্ভর করেই সে নিজ গ্রামে স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে চায়। আক্কাসের এই যুগোপযোগী ও সাহসী উদ্যোগ আমরা উদ্দীপকের মুনিরের মাঝে দেখতে পাই।
বটতলী গ্রামের লোকেরা উপন্যাসের মহব্বতনগর গ্রামের লোকদের মতো একই মনোভাবাপন্ন। অর্থাৎ দুই গ্রামের লোকেরাই অশিক্ষিত, ধর্মান্ধ ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন। কিন্তু উদ্দীপকের মুনির আলোচ্য উপন্যাসের আক্কাসের মতো শিক্ষিত। তাই শিক্ষার গুরুত্ব উপলব্ধি করে গ্রামের মানুষকে শিক্ষার আলো দিতে উদ্যোগী হয় মুনির ও আক্কাস। দুজনেই উদ্যোগী হয়ে গ্রামে বিদ্যালয় স্থাপন করতে চায়। অর্থাৎ চিন্তা-চেতনা ও কর্মকাণ্ডে উদ্দীপকের মুনির আলোচ্য উপন্যাসের আক্কাসের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।
লালসালু' উপন্যাসে প্রভাবশালী মাতব্বর চরিত্রের মধ্যে ধর্মান্ধতার প্রভাব লক্ষ করা যায়।
'লালসালু' উপন্যাসের মাতব্বর হচ্ছে খালেক ব্যাপারী। ভূস্বামী ও প্রভাব প্রতিপত্তির অধিকারী হওয়ায় তার কাঁধেই পরে মহব্বতনগর গ্রামের সামাজিক নেতৃত্বের ভার। কোনো এক বাতাসহীন স্তব্ধ দুপুরে গ্রামে আগত ভণ্ড মজিদ খালেক ব্যাপারীর বাড়িতেই আশ্রয় গ্রহণ করে। পীরের মাজারকে কেন্দ্র করে মজিদ নিজের শঠতাকে প্রতিষ্ঠিত রূপ দিলে মাতব্বরের সঙ্গে তার যোগসাজশ তৈরি হয়।
উদ্দীপকের মাতব্বর 'লালসালু' উপন্যাসের মাতব্বরের মতো নয়। উদ্দীপকের মাতব্বর ধর্মান্ধ নন, বরং মুক্তবুদ্ধির অধিকারী। গ্রামের মানুষের কল্যাণ করার চেষ্টাতেই তিনি উদ্যোগী হন। তাইতো গ্রামের ছেলে মুনির নৈশবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিলে তাকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন তিনি।
'লালসালু' উপন্যাসের আক্কাস উদ্দীপকের মুনিরের বিপরীত পরিস্থিতির শিকার। তার গ্রামের মাতব্বর তাকে সহযোগিতা তো করেই না, বরং মজিদের কথায় আক্কাসের নামে বিচার-সালিশ বসায়। মাতব্বরের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পায় না আক্কাস। যার ফলে তার গ্রামের জন্য কল্যাণকর উদ্যোগটি অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়। যদি আক্কাসের গ্রামের মাতব্বর মুনিরদের গ্রামের মাতব্বরের মতো সহযোগী মনোভাবাপন্ন হতো, তাহলে দৃশ্যপট অন্যরকম হতে পারত। তাই বলা যায়, "উদ্দীপকের মাতব্বর 'লালসালু' উপন্যাসের মাতব্বর চরিত্রের বিপরীত ভূমিকা পালন করেছে"- প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।