| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘বর্গি এল খাজনা…’ কুমিল্লা বোর্ড ২০১৭ – রেইনকোট, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

বর্গি এল খাজনা নিতে
মারল মানুষ কত।
পুড়ল শহর পুড়ল শ্যামল
গ্রাম যে শত শত।
হানাদারের সঙ্গে জোরে
লড়ে মুক্তি সেনা
তাদের কথা দেশের মানুষ
কখনো ভুলবে না।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২৭
'রেইনকোট' গল্পের কথকের নাম নুরুল হুদা।
'রেইনকোট' গল্পে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযুদ্ধাদের জন্য বর্ষাঋতুর সহায়ক ভূমিকার বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় প্রচণ্ড শীতের কবলে পড়ে জার্মান বাহিনী রাশিয়ায় পর্যুদস্ত হয়েছিল। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বর্ষাঋতুর কারণে পাকবাহিনী একইভাবে পর্যুদস্ত হয়েছিল। বাংলার প্রবল ঝড়-বৃষ্টির সাথে হানাদার বাহিনীর পরিচয় ছিল না। ফলে তাদেরকে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে সাথে বর্ষাঋতুর সাথেও লড়তে হয়েছিল। 'রেইনকোট' গল্পে বর্ষাঋতুকে তাই জেনারেলের সাথে তুলনা করা হয়েছে।
উদ্দীপকটিতে 'রেইনকোট' গল্পে বর্ণিত হানাদারদের বর্বরতা ও বাঙালির প্রতিরোধের দিকটি ফুটে উঠেছে।
মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ঢাকার পরিস্থিতি নিয়ে 'রেইনকোট' গল্পটি রচিত। এ গল্পে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বর নিপীড়ন ও হত্যাযজ্ঞের মধ্যে ঢাকা শহরের আতঙ্কগ্রস্ত জীবনের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যক্ত হয়েছে শত্রুসেনার বিরুদ্ধে বাঙালির যূথবদ্ধ প্রতিরোধের দিকটি।
উদ্দীপকের কবিতায় হানাদার বাহিনীর পাশবিকতার দিকটি ফুটে উঠেছে। তারা নির্বিচারে মানুষ মেরেছে। শত শত গ্রাম, শহরের বস্তি ও স্থাপনা জ্বালিয়ে দিয়েছে। কিন্তু বাঙালিরাও থেমে থাকেনি বরং মুক্তির জন্য লড়াই করে হানাদারদের দেশছাড়া করেছে। 'রেইনকোট' গল্পেও বাস থেকে যাত্রীদের নামিয়ে গুলি করা, আজান দেওয়ার সময় মুয়াজ্জিনকে গুলি করা ও মুক্তিসেনাদের তথ্য জানতে শিক্ষককে অমানুষিক নির্যাতনের চিত্রের মাধ্যমে হানাদার বাহিনীর বর্বরতা তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা কলেজের সামনের বৈদ্যুতিক টান্সফর্মার ধ্বংস, প্রিন্সিপালের বাড়িতে গ্রেনেড ছোড়ার মধ্যদিয়ে বাঙালির যূথবদ্ধ প্রতিরোধ চিত্র ফুটে উঠেছে।
মুক্তিযুদ্ধে হানাদারদের বিরুদ্ধে বাঙালির যুথবদ্ধ প্রতিরোধের আলেখ্য 'রেইনকোট' গল্পটি।
'রেইনকোট' গল্পটিতে ফুটে উঠেছে মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের বহুমাত্রিক চিত্র। পাকিস্তানি সেনাদের বর্বরতা ও মুক্তিসেনাদের প্রতিরোধ- দুটোই এ গল্পের উপজীব্য।
উদ্দীপকের কবিতায় বর্গি বলতে হানাদার বাহিনীকে বোঝানো হয়েছে, যারা নির্বিচারে মানুষ মেরেছে। বাংলার মানুষ তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। যূথবদ্ধ লড়াই করে হানাদারদের নিশ্চিহ্ন করেছে মুক্তিসেনারা। এদিকে একই প্রেক্ষাপট রয়েছে 'রেইনকোট' গল্পেও।
এ গল্পে মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা আক্রমণের চিত্র ফুটে উঠেছে। মুক্তিযোদ্ধারা ঢাকা কলেজের সামনের বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মারটি ধ্বংস করে দেয়। হানাদারদের দোসর প্রিন্সিপালের বাড়িতে গ্রেনেড ছোড়ে, গেট ভেঙে দেয়। বর্ষাকালের সুবিধা নিয়ে গেরিলা আক্রমণ চালিয়ে কাবু করে পাকবাহিনীকে। নুরুল হুদা মুক্তিসেনাদের তথ্য হানাদারদের জানানো থেকে বিরত থাকে শত অত্যাচারের পরও। 'রেইনকোট' গল্পে এ রকম নানা ঘটনার মধ্য দিয়েই মুক্তিসেনাদের প্রতিরোধের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। তাই 'রেইনকোট' গল্পের আলোকে হানদারদের সঙ্গে জোরে লড়ে মুক্তিসেনা" মন্তব্যটি যথার্থ।