| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘”বৃহত্তর স্বার্থে ক্ষুদ্র…’ ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ ২০২৬ – মূল্যবোধ, আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

“বৃহত্তর স্বার্থে ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থ ও দলীয় স্বার্থকে বিসর্জন দেয়া উচিত।”
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৩
নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে বসবাসকারী একই ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যে আবদ্ধ জনসমষ্টি যখন রাজনৈতিকভাবে সচেতন হয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করে বা করার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে, তখন তাকে জাতি বলে।
যে শাসনতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মূলত দুটি প্রধান রাজনৈতিক দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রধান ভূমিকা রাখে, তাকে দ্বি-দলীয় ব্যবস্থা বলে। এ ব্যবস্থায় একটি দল সরকার গঠন করে এবং অন্যটি শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা পালন করে। ব্রিটেন ও আমেরিকার রাজনৈতিক ব্যবস্থায় এ ধরনের দ্বিদলীয় রূপ পরিলক্ষিত হয়। এতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে এবং সরকারি নীতি বাস্তবায়নে গতিশীলতা আসে।
উদ্দীপকে মূলত 'গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ' ও 'রাজনৈতিক মূল্যবোধের' প্রতিফলন ঘটেছে। বৃহত্তর স্বার্থে ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থ বিসর্জন দেওয়ার মানসিকতা একটি সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিচায়ক।
মূল্যবোধ হলো সমাজের সেসব আদর্শ ও লক্ষ্য যা সামাজিকভাবে সমর্থিত এবং মানুষের ইচ্ছার মানদণ্ড হিসেবে কাজ করে। রাজনৈতিক মূল্যবোধের প্রধান উদ্দেশ্য হলো সৎ ও যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচন করা এবং ব্যক্তিগত লোভ-লালসা ও হিংসা-বিদ্বেষের ঊর্ধ্বে থেকে দেশপ্রেমের পরিচয় দেওয়া।
উদ্দীপকের বক্তব্য অনুযায়ী, বৃহত্তর সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করা প্রকৃত গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অংশ। এটি নাগরিকদের সহনশীলতা বৃদ্ধি করে এবং জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে একমত হতে সাহায্য করে। সুতরাং, উদ্দীপকটি একটি উন্নত রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে নির্দেশ করছে।
উদ্দীপকের উল্লিখিত মূল্যবোধ অর্থাৎ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার মানসিকতা সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রধান হাতিয়ার। মূল্যবোধ হলো সুশাসনের আত্মা এবং সুশাসন হলো মূল্যবোধের বাস্তব প্রতিফলন।
যখন রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করে জনকল্যাণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, তখন শাসনব্যবস্থা অধিকতর স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হয়। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ যেমন- সহনশীলতা ও পরমতসহিষ্ণুতা সুশাসনের পথকে প্রশস্ত করে এবং দুর্নীতির সুযোগ কমিয়ে দেয়। এটি নাগরিকদের মধ্যে দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি করে এবং আইনের শাসনকে শক্তিশালী করে তোলে।
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় ঐকমত্য অপরিহার্য, যা উদ্দীপকের মূল্যবোধ চর্চার মাধ্যমে সম্ভব। শাসক ও শাসিত উভয়েই যদি ব্যক্তিগত লাভের চেয়ে জনস্বার্থকে বড় মনে করেন, তবে রাষ্ট্রে ন্যায়বিচার ও সামাজিক সংহতি প্রতিষ্ঠিত হয়।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের মূল্যবোধটি সুশাসনের জন্য অপরিহার্য শর্ত। এটি না থাকলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হতে পারে না এবং প্রশাসনিক সেবার মান নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না।