| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘ব্রিটিশ ভারতের মহীশূর…’ বরিশাল বোর্ড ২০২৪ – সিরাজউদ্দৌলা, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

ব্রিটিশ ভারতের মহীশূর রাজ্যের শাসনকর্তা ছিলেন টিপু সুলতান। তিনি তাঁর শৌর্যবীর্যের কারণে ‘শের-ই-মহীশূর’ নামে পরিচিত ছিলেন। তাঁর মতে, “ভেড়া বা শেয়ালের মতো দু’শ বছর বাঁচার চেয়ে বাঘের মতো, দুদিন বেঁচে থাকাও ভালো।” এই মহান শাসক নিজের দেশের স্বাধীনতার জন্য ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে নিহত হন ১৭৯৯ সালে। কিন্তু তাঁর এই পরাজয়ের মূল কারণ ছিল তাঁরই সেনাপতি মির সাদিক। মির সাদিক লোভে পড়ে ব্রিটিশদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
'জগৎশেঠ' হলো ফতেহ চাঁদ-এর উপাধি।
"দেশপ্রেমিকের রক্ত যেন আবর্জনার স্তূপে চাপা না পড়ে।"- নবাব সিরাজউদ্দৌলা এই কথাটি বলেছেন দেশের জন্য যাঁরা জীবন দিয়েছেন তাঁদের আদর্শ কেউ যেন ভুলে না যায়, সেই দিক বিবেচনা করে।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে শত্রুর ভয়ে যখন সবাই পালিয়ে যাচ্ছিল তখন নবাব সিরাজউদ্দৌলা তাদেরকে অভয় দেন। তিনি বলেন, পলাশির প্রান্তরে পরাজয়ের পর আমরা যদি প্রাণভয়ে কাপুরুষের মতো পালিয়ে যাই তবে যাঁরা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন তাঁদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হবে। শত্রুরা আমাদের মাটিতে ঘাঁটি গড়ে তুলবে। ফলে দেশপ্রেমিকদের প্রাণ নরপশুদের পায়ের তলায় ভূলুণ্ঠিত হবে। এ বিষয়টি নবাব সিরাজউদ্দৌলা কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি। তাঁর মনে হয়েছে- শত্রুর অত্যাচারে এ দেশ তখন আবর্জনার স্তূপে পরিণত হবে। তিনি শহিদ দেশপ্রেমিকদের উদ্দেশ্য পূরণের জন্য প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেন।
উদ্দীপকের টিপু সুলতানের সঙ্গে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের নবাব সিরাজউদ্দৌলার সাদৃশ্য রয়েছে।
একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিক কখনো কোনো অশুভ শক্তির কাছে মাথা নত করে না। তারা অত্যন্ত সাহস ও শৌর্য-বীর্য নিয়ে অন্যায়ের মোকাবিলা করতে সর্বদা প্রস্তুত থাকে। এজন্য তারা জীবন দিতেও দ্বিধা করে না।
উদ্দীপকের টিপু সুলতান তাঁর শৌর্যবীর্যের কারণে 'শের-ই-মহীশূর' নামে পরিচিত ছিলেন। তাঁর মতে, "ভেড়া বা শেয়ালের মতো দু'শ বছর বাঁচার চেয়ে বাঘের মতো দুদিন বেঁচে থাকাও ভালো।” এই মহান শাসক নিজের দেশের স্বাধীনতার জন্য ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে ১৭৯৯ সালে নিহত হন। 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের নবাব সিরাজউদ্দৌলার মধ্যে এমন সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি ও অন্যায় আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। দেশ ও দেশের মানুষের জন্য তিনি ছিলেন আপসহীন। ফলে উদ্দীপকের টিপু সুলতানের মতোই তাকে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করতে হয়। এভাবে উদ্দীপকের টিপু সুলতানের সঙ্গে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সিরাজউদ্দৌলার সাদৃশ্য রয়েছে।
“উদ্দীপকের মির সাদিক যেন বিশ্বাসঘাতক মিরাজাফরেরই প্রতিচ্ছবি।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
ক্ষমতার লোভে পড়ে মানুষ ন্যায়-অন্যায় ভুলে গিয়ে মনুষ্যত্বহীন হয়ে পড়ে। নিজের প্রভাব-প্রতিপত্তি ও ক্ষমতা লাভের জন্য তারা দেশ ও জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করে না।
উদ্দীপকের মির সাদিক একজন বিশ্বাসঘাতক সেনাপতি। তার ষড়যন্ত্রের কারণে দেশপ্রেমিক শাসক টিপু সুলতানকে জীবন দিতে হয়েছে। মির সাদিক লোভে পড়ে ব্রিটিশদের সাথে হাত মিলিয়ে এই চরম বিশ্বাসঘাতকতা করে। অন্যদিকে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মিরজাফরের চরিত্রেও মির সাদিকের মতোই আচরণ লক্ষ করা যায়।
ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সাথে নবাবের পলাশির যুদ্ধে নবাব তাকে প্রধান সেনাপতির দায়িত্ব দিলে তিনি ক্ষমতার লোভে ইংরেজদের সাথে গোপন চুক্তি করে নবাবকে যুদ্ধে হারিয়ে দেন। এভাবে তিনি বিশ্বাসঘাতকতা করে নবাবকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়ে দেশের স্বাধীনতা বিক্রি করে দেন।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে মিরজাফর পলাশি যুদ্ধের পূর্বে ক্ষমতার লোভে গোপনে ইংজেরদের সাথে নবাবের বিরুদ্ধে গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। নবাবকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য তিনি পলাশির যুদ্ধে কৌশলে যুদ্ধ না করে ইংরেজদের পক্ষে অবস্থান নেন। এভাবেই ক্ষমতার লোভে তিনি দেশ ও জাতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে চরম বিশ্বাসঘাতকতার পরিচয় দেন, যা উদ্দীপকের মির সাদিকের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।