| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘ব্রিটিশ নাগরিক ম্যাগ…’ রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ ২০২৪ – শিল্প, ভূগোল, ভূগোল ২য় পত্র (এইচএসসি)

ব্রিটিশ নাগরিক ম্যাগ হিলটন বাংলাদেশে বেড়াতে এসে দেখেন এদেশে পোশাক শিল্পের সংখ্যা অনেক বেশি। বাংলাদেশে পোশাক শিল্প গড়ে তোলার অনুকূল পরিবেশ থাকার কারণে তিনি এতে বিনিয়োগ করতে চাইলেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৬
বাংলাদেশের বরিশাল বিভাগে চিনি শিল্প গড়ে উঠে নাই।
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে শিল্পের বিশেষ অবদান রয়েছে। জাতীয় আয় ও অভ্যন্তরীণ সঞ্চয় বৃদ্ধি করে শিল্প দেশের দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা করে থাকে। উন্নয়নের গতিকে তরান্বিত করে শিল্পের এমন দুটি গুরুত্ব হলো –
i. কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং
ii. দেশীয় সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার।
উদ্দীপকে আলোচিত শিল্প হলো বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প। এ শিল্প থেকে বাংলাদেশ প্রতি বছর প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। নিম্নে এ শিল্পের বণ্টন দেখানো হলো-
ঢাকা অঞ্চল: পোশাক শিল্পে ঢাকা অঞ্চল প্রথম। এ অঞ্চলের প্রায় ৮০৬টি পোশাক শিল্পের মধ্যে প্রায় ৭৭৩টি ঢাকা শহরে এবং ৩৩টি নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত। ঢাকা মহানগরীর প্রায় সর্বত্রই এ শিল্পে ছড়িয়ে রয়েছে। কোনো কোনো বহুতল ভবনে একাধিক পোশাক শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। ঢাকা মহানগরীর রামপুরা, এলিফ্যান্ট রোড, গ্রীনরোড, মিরপুর- ১. মিরপুর-১০, মিরপুর-১২, মগবাজার, বাংলামোটর, মহাখালী, বনানী প্রভৃতি অঞ্চলে এ শিল্পে বেশি সংখ্যায় কেন্দ্রিভূত হয়েছে। এছাড়া ফার্মগেট, মতিঝিল, শান্তিনগর, মোহাম্মদপুর, তেজগাঁও, গুলশান, উত্তরা প্রভৃতি স্থানেও এ শিল্প রয়েছে।
চট্টগ্রাম অঞ্চল: পোশাক শিল্পে চট্টগ্রাম শহর দ্বিতীয়। এখানে প্রায় ৩৯০টি শিল্প অবস্থিত। এ শিল্প কেন্দ্রগুলো কালুরঘাট, আগ্রাবাদ, পাঁচলাইন, নাসিরাবাদ, এনায়েত বাজার, ষোলশহর, বায়েজিদ বোস্তামী রোড প্রভৃতি স্থানে অবস্থিত।
খুলনা: খুলনা অঞ্চলের খুলনায় ২২টি এবং যশোরে ৯টি পোশাক শিল্পপ্রতিষ্ঠান অবস্থিত।
এছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রামে রপ্তানি প্রক্রিয়াজাত এলাকায় (EPZ) রপ্তানিমুখী বিশেষ পোশাক শিল্প গড়ে উঠেছে।
উদ্দীপকে আলোচিত শিল্পটি হচ্ছে তৈরি পোশাক শিল্প।
বর্তমানে দেশের পোশাক শিল্পে প্রায় ৪ মিলিয়ন লোক কাজ করছে যার প্রায় ৮৫ শতাংশই নারী শ্রমিক। এ শিল্পে নারী কর্মীদের অবদান নিচে আলোচনা করা হলো-
বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: তৈরি পোশাক হচ্ছে বিশ্ব বাজারের চাহিদা সম্পন্ন পণ্য। নারী কর্মীরা পোশাক তৈরি করে এবং তা বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা হয়।
রপ্তানি সম্প্রসারণ: নারী কর্মীদের অবদানের ফলে প্রচুর পরিমাণ তৈরি পোশাক পণ্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা সম্ভব হচ্ছে এবং তা দিন দিন সম্প্রসারিত হচ্ছে।
দীর্ঘ সময় শ্রম: বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের নারী কর্মীরা দীর্ঘ সময় অক্লান্ত পরিশ্রম করে। মাঝে মাঝে প্রয়োজনে নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত (ওভার টাইম) কাজ করে।
মানসম্পন্ন পোশাক: নারী কর্মীরা তাদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় দক্ষতার সাথে যত্ন নিয়ে পোশাক তৈরি করছে। ফলে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পোশাক তৈরি সম্ভব হচ্ছে।
সন্তা মূল্যে শ্রম: বাংলাদেশের নারী কর্মীরা খুব কম মজুরিতে শ্রম দিয়ে পোশাক তৈরির কাজ করছে। তাদের শ্রম মূল্য মাসিক ৩০০০-৫০০০ টাকা মাত্র।
সহজে শ্রম প্রাপ্তি: পুরুষ কর্মীর তুলনায় নারী কর্মী সহজে পাওয়া যায়। ফলে পোশাক শিল্পের বিকাশ দ্রুত থেকে দ্রুততর হচ্ছে।
পরিশেষে বলা যায়, তৈরি পোশাক শিল্প বাংলাদেশের শিল্পের প্রাণ। তাই এই শিল্পে যে নারী শ্রমিকরা অবদান রাখছে তাদের শ্রমের মজুরি বৃদ্ধি
করা উচিত।