বর্ষাকাল, বাড়ির পাশের বিলে আপন মনে মাছ ধরছে জিসান। হঠাৎ সাপে কাটে জিসানকে। সজীরা দেখতে পেয়ে দ্রুত বাড়িতে নিয়ে আসে, গ্রামের ওঝাকে আনতে লোক পাঠায়। ওঝা এসে ঝাড়-ফুঁক শুরু করে। কিন্তু সময় যতো গড়ায় জিসানের অবস্থা ততো খারাপ হতে থাকে। লোকমুখে খবর শুনে ছুটে আসে স্বাস্থ্যকর্মী মাহমুদা। জিসানকে দ্রুত সরকারি হাসপাতালে নিতে বলে। ক্ষেপে যায় ওঝা, মাহমুদাকে ভয় দেখায়। মাহমুদা কারও কথা না শুনে জিসানকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। জীবন রক্ষা পায় জিসানের।
‘বহিপীর’ নাটকটি ১৯৫৫ সালে প্রথম পুরস্কার পায়।
জমিদার হাতেম আলির জমিদারি হারানো ও আসর থেকে বউ পালিয়ে যাওয়ার সার্বিক অবস্থাকে বিবেচনা করে বহিপীর এ উক্তিটি করেছেন।
হাতেম আলি নিশ্চিত ছিলেন তার জমিদারি হারানোর ব্যাপারে। বহিপীরের কাছে প্রথমে গোপন করলেও পরবর্তীকারে তিনিব সত্যি কথা বলেন। বহিপীরও তার দুরবস্থার কথা হাতেম আলির কাছে স্বীকার করেন। দুজনই যখন বিপর্যস্ত অবস্থার সম্মুখীন তখন পির সাহেব হাতেম আলিকে আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রাখতে বলেন। কারণ তাঁর বিশ্বাস, দুনিয়াটা এক মস্তবড়ো পরীক্ষার ক্ষেত্র আর আল্লাহ তাদের পরীক্ষা নিচ্ছেন।
উদ্দীপকের ওঝা চরিত্রটি ‘বহিপীর’ নাটকে মানুষের অন্ধবিশ্বাসকে পুঁজি করে বহিপীরের স্বার্থসিদ্ধির দিকটিকেই ইঙ্গিত করে।
‘বহিপীর’ নাটকের পীর সাহেব অত্যন্ত চালাক ও ধূর্ত প্রকৃতির লোক। সাধারণ মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে তিনি প্রভৃত সম্পদ ও প্রতিপত্তির মালিক হয়েছেন। মুরিদেরা তাকে অগাধ ভক্তি ও শ্রদ্ধা করে। আর সেই ভক্তি-শ্রস্ধাকে কাজে লাগিয়েই সহায়-সম্পদ ও ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করেছেন তিনি।
উদ্দীপকের জিসান বাড়ির পাশের বিলে মাহ ধরতে গিয়ে সাপের কামড়ে আহত হয়। এমতাবস্থায় সঙ্গীরা তাকে ধরে বাড়িতে নিয়ে আসে এবং গ্রামের ওঝাকে খবর দেয়। ওঝার ঝাঁড়ফুঁকে কোনো কাজ তো হয়ই না, বরং জিসানের অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে সাস্থ্যকর্মী মাহমুদা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বললে সে মাহমুদাকে ভয় দেখায়। একইভাবে, ‘বহিপীর’ নাটকের পীর সাহেবও মানুষের শ্রদ্ধা-ভক্তিকে কাজে লাগিয়ে নিজের আখের গোছান। অর্থাৎ মানুষের অন্ধবিশ্বাস ও অজ্ঞতাই উদ্দীপকের ওঝা এবং বহিপীরের ব্যাবসায়ের মূলধন। এদিক বিবেচনায় উদ্দীপকের ওঝা চরিত্রটি ‘বহিপীর’ নাটকে মানুষের অন্ধবিশ্বাসকে পুঁজি করে বহিপীরের স্বার্থসিস্ধির দিকটিকেই ইঙ্গিত করে।
কুসংস্কারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ভূমিকা এবং মানবিক বোধের দিক থেকে উদ্দীপকের মাহমুদা ও ‘বহিপীর’ নাটকের হাশেমের চিন্তা-চেতনা একই ধারায় উৎসারিত।
‘বহিপীর’ নাটকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হাশেম আলি। নাটকটিতে নাট্যকার হাশেম আলিকে উপস্থাপন করেছেন কেন্দ্রীয় চরিত্র বহিপীরের বিপরীত চরিত্র হিসেবে। ন্যায়বোধে সমুন্নত হাশেম আলি এ নাটকে কুসংস্কার এবং ধর্মীয় গোঁড়ামীর বিরুদ্ধে সদাই সোচ্চার থেকেছে এবং উদার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সমস্ত ঘটনাক্রমকে বিচার করেছে।
উদ্দীপকে মাহমুদা নামের এক স্বাস্থ্যকর্মীর কথা বলা হয়েছে। সাপের কামড়ে আহত জিসানের চিকিৎসার জন্য সকলে ওঝাকে ডাকলে সে তার ঝাঁড়ফুঁকের কারসাজি দেখাতে গিয়ে সময় নষ্ট করে। ফলে জিসানের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। এমতাবস্থায় ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে পেরে মাহমুদা এগিয়ে আসে এবং জিসানকে সুচিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে। এক্ষেত্রে ওঝার হুমকিকেও সে আমলে নেয়নি। অবশেষে তার ঐকান্তিক চেষ্টায় চিকিৎসা পেয়ে জিসান সুস্থ হয়ে ওঠে।
‘বহিপীর’ নাটকের পুরোভাগ জুড়ে আমরা হাশেম আলিকে দেখতে পাই সামাজিক কুসংস্কার এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতীকী চরিত্র হিসেবে। সংগত কারণেই বিপদ্গ্রস্থ তাহেরাকে সে যে-কোনো মূল্যে বাঁচাতে চেয়েছে। শুধু তাই নয়, বহিপীরের সঙ্গে অসম বিয়ের হাত থেকে তাহেরাকে রক্ষা করতে সে তার হাত ধরে নতুন জীবনের উদ্দেশ্যে পা বাড়িয়েছে। একইভাবে, উদ্দীপকের মাহমুদাও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী। এ কারণেই ওঝার হুমকিকে উপেক্ষা করে সাপের কামড়ে আহত জিসানকে সে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে সুস্থ করে তোলে। অর্থাৎ আলোচ্য নাটকের হাশেম আলি এবং উদ্দীপকের মাহমুদা উভয়ই মানবিক এবং কুসংস্কার ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। এদিক বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ।
