| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘বর্তমান যুগে শিল্পায়ন…’ হলিক্রস কলেজ ২০২৫ – শিল্প, ভূগোল, ভূগোল ২য় পত্র (এইচএসসি)

বর্তমান যুগে শিল্পায়ন ছাড়া কোনো দেশ উন্নত হতে পারে না। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে বিভিন্ন শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এমন একটি শিল্প হলো ‘G’, যেখানে লাখ লাখ নারী শ্রমিক কর্মরত আছে যাদের কর্ম প্রচেষ্টায় এই শিল্পকারখানা দেশে দ্রুত বিকাশ লাভকরেছে। ফলে দেশে নারী শ্রমিকেরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পেরেছে।,
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৬
যে কর্মপ্রচেষ্টা ও প্রক্রিয়ার দ্বারা মানুষ বিভিন্ন ধরনের দ্রব্য আহরণ করে এবং এর পরিবর্তন ঘটিয়ে মানুষের ব্যবহারের উপযোগী করে তাকে শিল্প বলে।
অর্থনৈতিক উন্নয়নে শিল্পের গুরুত্ব অপরিসীম। নিচে দুটি গুরুত্ব ব্যাখ্যা করা হলো:
১. জাতীয় ও মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি কোনো দেশের জাতীয় ও মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি করতে হলে শিল্পের গুরুত্ব অপরিসীম।
২. জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার জন্য দেশকে দ্রুত শিল্পায়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত শিল্পটি হলো পোশাক শিল্প। নিম্নে উক্ত শিল্প বিকাশের কারণ ব্যাখ্যা করা হলো-
বাংলাদেশ মৌসুমি জলবায়ুর দেশ। এদেশে নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু বিদ্যমান। যার কারণে এখানে পোশাক শিল্প তৈরি হওয়ার উপযুক্ত পরিবেশ বিদ্যমান। পোশাক শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল যা পার্শ্ববর্তী দেশ হতে আমদানি করা সহজ হয়। এছাড়া শক্তিসম্পদ; যা বাংলাদেশের খনিজ অঞ্চল হতে সরবরাহ করা হয়। অন্যদিকে পোশাক শিল্পের জন্য অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান তা হলো দক্ষ শ্রমিকের পর্যাপ্ততা। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে পর্যাপ্ত দক্ষ শ্রমিক রয়েছে যা শিল্পটি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এছাড়া বাংলাদেশের যেসব এলাকায় নদী রয়েছে এবং উন্নত সড়কপথ রয়েছে সেখানেই শিল্পটি গড়ে উঠেছে। এছাড়া বাজার ব্যবস্থাও ভালো।
সুতরাং উপরোল্লিখিত সুযোগ-সুবিধা থাকার কারণে বাংলাদেশে পর্যাপ্ত পোশাক শিল্প গড়ে উঠেছে।
উদ্দীপকের শিল্প হলো পোশাক শিল্প। উক্ত শিল্পে নারী কর্মীদের ভূমিকা বর্ণনা করা হলো-
স্বাধীন বাংলাদেশের সর্বত্র কর্মক্ষেত্রে নারীদের উপস্থিতি এক নবজাগরণের সূচনা করেছে। দেশের প্রতিটি উন্নয়নমূলক কাজে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের অবদান অপরিহার্য। ঘর সংসার ও সন্তানের লালন-পালন ছাড়াও স্বল্প শিক্ষিত নারীরা আজ ঘরে বাইরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে শ্রম দিচ্ছে। বর্তমানে গার্মেন্টস শিল্পে নারী শ্রমিকের সংখ্যা অনেক বেশি। কিশোরী থেকে তিরিশোর্ধ্ব পর্যন্ত নারীদের এখানে নিয়োগ দেয়া হয়। এই বিকাশমান শিল্পে নারী শ্রমিকরা ছুটি পায় রাত ৮টার পর। গার্মেন্টস মালিকরা বলে থাকেন, নারী শ্রমিকরা পুরুষ শ্রমিকের চেয়ে মনোযোগী এবং কাজেও ভালো। পারিশ্রমিকও কম দিয়ে কাজ করানো যায়। তাই সব দিক দিয়ে নারী শ্রমিক দিয়ে কাজ করানো সুবিধাজনক। আর এজন্যই গার্মেন্টস শিল্পে নারীদের অবদান অস্বীকার্য। এদের শতকরা ৮৫ জনই মহিলা। বর্তমানে প্রতিযোগিতার বাজারে কম মূল্যে শ্রমিক নিয়োগ দেওয়ার কারণে অন্য দেশের চেয়ে এদেশের পোশাকের উৎপাদন খরচ কম হয়। যার ফলে বিদেশি ক্রেতারা সহজেই কম মূল্যে এদেশের পোশাক ক্রয় করে থাকেন। এর মূল নেপথ্যে আছে দরিদ্র অশিক্ষিত বা অর্ধাশিক্ষিত নারীদের এ শিল্পে সম্পৃক্ত থাকা। তারা আছে বলেই কম মূল্যে শ্রমিক নিয়োগ দিতে পারে এবং পোশাক উৎপাদন খরচ অনেক কম হয় যা অন্য দেশে সম্ভব হয় না। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৪০% আসে তৈরি পোশাক শিল্প থেকে। যার অগ্রভাগে রয়েছে এ শিল্পে সম্পৃক্ত থাকা নারীরা। তাই বলতে পারি বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে নারীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।