| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘বর্তমানে একটি বহুল…’ মাইলস্টোন কলেজ ২০২৬ – কোষ ও এর গঠন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

বর্তমানে একটি বহুল আলোচিত ও গ্রহণযোগ্য পরীক্ষার মাধ্যমে বেওয়ারিশ লাশের পরিচয় শনাক্তকরণ করা যায়। এই পরীক্ষার জন্য নমুনা থেকে এক ধরনের বিশেষ জৈব এসিড সংগ্রহ করা হয়, যা বংশগতীয় বস্তু হিসেবে কাজ করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
লিপিড অণু তরল পদার্থের ন্যায় ঝিল্লির একই স্তরে স্থান পরিবর্তন করে, পাশে ব্যাপ্ত হয় এবং অক্ষ বরাবর ঘুরতে পারে। একে Flip-flop movement বলে।
জীবকোষের অভ্যন্তরে সজীব, ঈযৎ স্বচ্ছ, দানাদার, কলয়েডধর্মী পদার্থ যা কোষপর্দা দ্বারা আবৃত থাকে তাকে প্রোটোপ্লাজম বলে। বিজ্ঞানী হাক্সলির (১৮৩৮) মতে, প্রোটোপ্লাজম হলো "জীবনের ভৌত ভিত্তি" কারণ- একটি সজীব কোষের পুষ্টি, ক্ষরণ, রেচন, উত্তেজনা ইত্যাদি বিভিন্ন প্রকার ধর্ম অর্থাৎ কোষের তথা দেহের সকল মৌলিক জৈবিক কার্যাদি প্রোটোপ্লাজমই নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। প্রোটোপ্লাজমের ক্রিয়া নিরন্তরভাবে চলতে থাকে এবং এর ক্রিয়া বন্ধ হয়ে গেলে জীবনের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যায়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত বিশেষ জৈব এসিডের নাম হলো DNA, যা বংশগতীয় বস্তু হিসেবে কাজ করে। Watson ও Crick প্রদত্ত ডাবল হেলিক্স মডেল অনুযায়ী DNA-এর আধুনিক গঠন বর্ণনা করা হলো-
১. DNA অণু দ্বিসূত্রক, লোহার সিঁড়ির মতো ডান থেকে বাম দিকে প্যাঁচানো, যাকে বলা হয় ডাবল হেলিক্স।
২. সূত্র দুটি সমদূরত্বে পরস্পর বিপরীতমুখী (একটি ৫' → ৩' মুখী, অপরটি ৩' → ৫' মুখী) হয়ে অবস্থান করে।
৩. সিঁড়ির দু'দিকের হাতল তৈরি হয় ডিঅক্সিরাইবোজ স্যুগার (s) ও ফসফেটের (P) পর্যায়ক্রমিক সংযুক্তির মাধ্যমে।
৪. সূত্র দুর্টির মাঝখানের প্রতিটি ধাপ তৈরি হয় একজোড়া নাইট্রোজেন বেস (A = T বা G=C) দিয়ে। ক্ষারক থাকে। সূত্রের সাইটোসিনের (C) সাথে তিনটি হাইড্রোজেন বন্ধনী দ্বারা (C=G/G=C) যুক্ত থাকে।
৭. ডাবল হেলিক্সের প্রতিটি সম্পূর্ণ প্যাঁচ বা ঘূর্ণনের দূরত্ব । প্রতিটি সম্পূর্ণ প্যাঁচে ১০ জোড়া মনোনিউক্লিওটাইড থাকে। প্রতিটি প্যাঁচে ২৫টি হাইড্রোজেন বন্ড থাকে।
৮. সিঁড়ির এক ধাপ থেকে অপর ধাপ অর্থাৎ বেস জোড়গুলো পরস্পর থেকে Å দূরত্বে অবস্থিত।
৯. হেলিক্সের ব্যাস 20Å (= 2 nm)। তবে প্রজাতিভেদে অণুর দৈর্ঘ্য বিভিন্ন হয়।
১০. DNA-এর আনবিক ওজন ডাল্টন এর মধ্যে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত পরীক্ষা পদ্ধতি হলো জিনোম সিকোয়েন্সিং। নিচে এর ব্যবহারিক দিকসমূহ বিশ্লেষণ করা হলো-
১. জিনোম সিকোয়েন্সিং প্রয়োগ করে বর্তমানে বিভিন্ন বংশগত রোগ নির্ণয় করে জিন থেরাপির মাধ্যমে এসব রোগের চিকিৎসা করা হচ্ছে।
২. জিনোম সিকোয়েন্সিং প্রযুক্তি প্রয়োগ করে বর্তমানে কৃষিক্ষেত্রে বিভিন্ন অণুজীবের জিনোম সিকোয়েন্সিং দ্বারা সুনির্দিষ্ট সংখ্যক জিন প্রয়োগ করে রোগবালাই ও রোগ প্রতিরোধী ফসলী উদ্ভিদ সৃষ্টি করা সম্ভব হয়েছে।
৩. ফরেনসিক বিজ্ঞানে জিনোম সিকোয়েন্সিং প্রযুক্তি প্রয়োগ করে অপরাধী শনাক্তকরণ, পিতৃত্ব নির্ধারণে এবং স্বজন নির্ধারণে ব্যবহার করা হচ্ছে।
৪. অনেক ক্ষেত্রে মৃতদেহ শনাক্তকরণে জিনোম সিকোয়েন্সিং প্রয়োগ করা হয়।
৫. ক্যান্সার গবেষণায় এবং তা নির্ণয়ে সবচেয়ে দ্রুত ও সফল ব্যবহার হচ্ছে জিনোম সিকোয়েন্সিং।
৬. বর্তমানে জিনোম সিকোয়েন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রজাতির মশা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে।
৭. বন্য জীবজন্তু যেমন- সিংহ, বাঘ, হাতি ইত্যাদি ভালো ব্যবস্থাপনা বিশেষ করে প্রজনন ক্ষেত্রে DNA সিকোয়েন্সিং কৌশল প্রয়োগ করা হচ্ছে।
৮. এছাড়া জৈব জ্বালানি উদ্ভাবন, ডেঙ্গু মশা নিয়ন্ত্রণ, ইনসুলিন ও ইন্টারফেরন উৎপাদন ইত্যাদি গবেষনায় জিনোম সিকোয়েন্সিং সাফল্যের সাথে প্রয়োগ করা হচ্ছে।