বর্তমানে উদ্ভিদের টটিপটেন্ট স্টেম কোষ থেকে হুবহু উদ্ভিদ জন্মানোই হচ্ছে না, জীবের জিনোমে এক বা একাধিক জিন প্রবেশ করিয়ে নতুন গুণসম্পন্ন জীব পাওয়াও সম্ভব হচ্ছে।
জীবের যে কোনো কোষ, অণুজীব বা তার অংশবিশেষ ব্যবহার করে যে বিশেষ প্রযুক্তিতে নতুন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীব তৈরি করা হয় তাই হলো জীবপ্রযুক্তি।
রিকম্বিন্টে DNA প্রযুক্তিতে E. coli ব্যবহার করা হয়। কারণ এই ব্যাকটেরিয়া কোষের ক্রোমোজোমের বাইরে আরেকটি বৃত্তাকার স্বতন্ত্র প্লাজমিড DNA অণু রয়েছে। এটি বিভাজিত হতে পারে বা স্ববিভাজনে সক্ষম। রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তিতে ব্যাকটেরিয়ার এই প্লাজমিড DNA অণু উত্তম বাহক বা ক্যারিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা থাকে।
উদ্দীপকের উল্লিখিত টটিপটেন্ট স্টেম কোষ থেকে হুবহু উদ্ভিদ জন্মানোর প্রক্রিয়াটি হচ্ছে টিস্যু কালচার। নিচে প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করা হলো-
i. মাতৃ উদ্ভিদ নির্বাচন : উন্নত গুণসম্পন্ন স্বাস্থ্যবান এবং রোগমুক্ত উদ্ভিদকে এক্সপ্ল্যান্টের জন্য নির্বাচন করা হয়।
ii .আবাদ মাধ্যম তৈরি : উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টি, ভিটামিন, ফাইটোহরমোন, সুক্রোজ এবং প্রায় কঠিন মাধ্যমে তৈরির জন্য জমাট বাঁধার উপাদান যেমন অ্যাগার সঠিক মাত্রায় মিশিয়ে আবাদ মাধ্যম তৈরি করা হয়।
iii. জীবাণুমুক্ত আবাদ প্রতিষ্ঠা : আবাদ মাধ্যমকে কাচের পাত্রে নিয়ে তুলা বা প্লাস্টিকের ঢাকনা দিয়ে মুখ বন্ধ করা হয়। পরবর্তীতে অটোক্লেভ যন্ত্রে ১২১° সে. তাপমাত্রায় ১৫ /b/sq.inch চাপে ২০ মি. রেখে জীবাণুমুক্ত করা হয়। জীবাণুমুক্ত তরল আবাদকে ঠান্ডা ও জমাট বাঁধার পর এক্সপ্ল্যান্টগুলোকে নির্দিষ্ট আলো ও তাপমাত্রা (২৫ + ২° সে.) সম্পন্ন নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বর্ধনের জন্য রাখা হয়। এ পর্যায়ে আবাদে স্থাপিত টিস্যু বারবার বিভাজনের মাধ্যমে সরাসরি অণুচারা তৈরি হয় বা অবয়বহীন টিস্যুমন্ডে পরিণত হয়। এ টিস্যুমন্ড হতে পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে একাধিক অণুচারা উৎপন্ন হয়।
iv. মূল উৎপাদক মাধ্যমে স্থানান্তর : এ সমস্ত উৎপাদিত চারাগাছে যদি মূল উৎপন্ন হয় তবে একটি নির্দিষ্ট উচ্চতা লাভের পর বিটপগুলোকে বিচ্ছিন্ন করে নেওয়া হয় এবং তাদেরকে পুনরায় মূল উৎপাদনকারী আবাদ মাধ্যমে স্থাপন করা হয়।
v. প্রাকৃতিক পরিবেশে তথা মাঠপর্যায়ে স্থানান্তর : মূলযুক্ত চারাগুলোকে পানিতে ধুয়ে অ্যাগারমুক্ত অবস্থায় ল্যাবরেটরিতে মাটি ভরা ছোট ছোট পাত্রে স্থানান্তর করা যায়। পাত্রে লাগানো চারাগুলো কক্ষের বাইরে রেখে মাঝে মাঝে বাইরের প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হয়। পূর্ণাঙ্গ চারাগুলো সজীব ও সবল হয়ে উঠলে সেগুলোকে একপর্যায়ে প্রাকৃতিক পরিবেশে মাটিতে লাগানো হয়।
উদ্দীপকের উল্লিখিত দ্বিতীয় প্রযুক্তিটি হলো জিন প্রকৌশল পদ্ধতি।
এ পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে সৃষ্ট নতুন ট্রান্সজেনিক প্রাণী থেকে মানুষ তার প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উপাদান আহরণের চেষ্টা চালাচ্ছে এবং ক্ষেত্রবিশেষ সফলও হচ্ছে।
মানবকল্যাণে জিন পরিবর্তিত নতুন বৈশিষ্ট্যের প্রাণীসমূহ নিম্নরূপ ভূমিকা রাখতে পারে :
i. ProteinC জিন স্থানান্তরের মাধ্যমে গবাদি পশুর দুধে আমিষের পরিমাণ বাড়ানো সম্ভব।
ii. বৃদ্ধি হরমোন তৈরির জিন স্থানান্তরের মাধ্যমে পরিবর্তিত গবাদি পশুতে মাংসের উৎপাদন বাড়ানো যায়।
iii. ব্যাকটেরিয়ার ২টি জিন, যথা- CysE এবং CysM ভেড়ার জিনোমে স্থানান্তর করে পশমের পরিমাণ ও গুণগত মান বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে মানুষের পশমি বস্ত্রের বর্ধিত চাহিদা ভালোভাবে মেটানো যাচ্ছে।
iv. মানবদেহের ইনসুলিন তৈরির জিন ব্যবহার করে কৌশলগতভাবে পরিবর্তিত E.coli ব্যাকটেরিয়া এবং ইস্ট হতে বাণিজ্যিক ইনসুলিন তৈরি হচ্ছে, যা মানুষের বহুমূত্র রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হচ্ছে।
V. কৌশলগতভাবে পরিবর্তিত E.coli ব্যাকটেরিয়া এবং ইস্ট হতে মানববৃদ্ধির হরমোন এবং গ্র্যানুলোসাইট ম্যাক্রোফাজ কলোনি উদ্দীপক উপাদান তৈরি করা হচ্ছে- এগুলো যথাক্রমে বেঁটেত্ব ভাইরাসজনিত রোগ, ক্যান্সার, AIDS ইত্যাদির চিকিৎসায় ব্যবহৃত হচ্ছে।
vi. মাগুর, কমন কার্প, লইট্টা এবং তেলাপিয়া মাছে স্যামন মাছের বৃদ্ধি হরমোনের জিন স্থানান্তরের মাধ্যমে কৌলিগত পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় এসব মাছের আকার প্রায় ৬০ ভাগ বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়েছে।
কাজেই দ্বিতীয় প্রযুক্তিটি প্রয়োগের মাধ্যমে নতুন বৈশিষ্ট্যের ট্রান্সজেনিক প্রাণী তৈরির গবেষণা মানুষের নতুন নতুন চাহিদা মেটাতে সম্ভাবনার
