| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘বুদ্ধিবৃত্তিক শিক্ষণের ধরন:ক)…’ হলিক্রস কলেজ ২০২৬ – শিক্ষণ ও স্মৃতি, মনোবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

বুদ্ধিবৃত্তিক শিক্ষণের ধরন:
ক) এ ধরনের শিক্ষণ প্রক্রিয়ায় সমগ্র সমস্যাটিকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে সমাধানের দিকে ধীরে অথচ সুনির্দিষ্টভাবে অগ্রসর হওয়া যায়।
খ) এ ধরনের শিক্ষণ শিক্ষণের সময় আচরণের মধ্যে পরিলক্ষিত হয় না। পরবর্তীতে উপযুক্ত প্রেষনা বা সন্তুষ্টির উপস্থিতিতে আচরণের মধ্যে লক্ষ করা যায়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৫
যে প্রক্রিয়ায় প্রাণী তথ্যকে সংকেতাবদ্ধ করে, সংরক্ষণ করে এবং পরবর্তীতে প্রয়োজনানুসারে পুনরুত্থাপন করে তাকে স্মৃতি বলে।
পূর্বশিক্ষণ যখন পরবর্তী শিক্ষণে বাধা প্রদান করে, তখন তাকে পূর্বশিক্ষণ প্রতিবন্ধকতা বলে।
পূর্বে শেখা বিষয় পরে শেখা বিষয়ের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। ফলে শিক্ষণকৃত বিষয়টির কিছু অংশ বিস্মৃত হয়। উদাহরণস্বরূপ- প্রথমে একটি বিষয় শেখার পর আর একটি বিষয় শিখতে দেওয়া হলো। পরবর্তীতে যদি দেখা যায়, পরে শিক্ষণকৃত বিষয়টি তুলনামূলকভাবে বেশি বিস্মৃত হয়েছে তা হলে এর কারণ হিসেবে বলা যায় পূর্বে শিক্ষণকৃত বিষয়টি পরবর্তী শিক্ষণে বাধার সৃষ্টি করেছে।
উদ্দীপকের 'খ' এর শিক্ষণের ধরনটি হলো সুপ্ত শিক্ষণ। নিচে তা' ব্যাখ্যা করা হলো-
সন্তুষ্টি বা বলবর্ধক ব্যতীত যে শিক্ষণ তাকে সুপ্ত বা প্রচ্ছন্ন শিক্ষণ বলে। অর্থাৎ প্রেষণা যখন খুবই ক্ষীণ অথবা প্রেষণা আছে কিন্তু উপযুক্ত সন্তুষ্টির অভাব তখন যে শিক্ষণ হয় তাকে সুপ্ত শিক্ষণ বলে। সুপ্ত শিক্ষণ বলতে আমরা সেই শিক্ষণ বুঝে থাকি যা শিক্ষণের সময় আচরণের মধ্যে পরিলক্ষিত হয় না পরে উপযুক্ত প্রেষণা বা সন্তুষ্টির উপস্থিতিতে আচরণের ভিতর শিক্ষণের দেখা যায়। ব্লজেট ১৯২৯ সালে এরূপ একটি পরীক্ষণ কার্য পরিচালনা করেন। সেখানে কিছু সংখ্যক ইঁদুরকে যদি ধাঁধার বাক্সে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং তাদের যদি খাবার নাও দেয়া হয় তবু তারা ধাঁধা বাক্স সম্পর্কে পরিচিত লাভকরে। পরবর্তীতে খাবার দিলে দেখা যায় যে এসব ইঁদুর বাক্স সম্বন্ধে পরিচিতিহীন ইঁদুরের তুলনায় ভালো কৃতি লাভ করে।
উদ্দীপকে দেখা যায় মনোবিজ্ঞানের শিক্ষক ড. রহমান বলেন বলববর্ধক ও প্রেষণা ছাড়াই এক ধরনের শিক্ষণ সম্পন্ন হয় যা প্রচ্ছন্ন অবস্থায় চেতনায় অবস্থান করে এবং পরবর্তীতে প্রয়োজন হলে কার্যকর ভাবে প্রকাশ পায়। ড. রহমানের এ ধরনের বক্তব্য সুপ্ত শিক্ষণকে নির্দেশ করে।
উদ্দীপকের 'ক' এ বর্ণিত শিক্ষণের ধরনটি হলো পরিজ্ঞানমূলক শিক্ষণ।
পরিজ্ঞানমূলক শিক্ষণ হলো পূর্ব অভিজ্ঞতা বা চিন্তাশক্তির আলোকে নুতন কোনো পরিস্থিতিতে হঠাৎ করেই নতুন কোনো সমস্যা সমাধানের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন শিক্ষণ প্রক্রিয়া। এই শিক্ষণ প্রক্রিয়া অন্য যান্ত্রিক শিক্ষণ প্রক্রিয়াকে উপেক্ষা করা হয়। এটি মূলত পরিস্থিতির পারস্পরিক সম্পর্ক অনুসন্ধান ও সামগ্রিক অন্তর্ভুক্তির মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়।
উদ্দীপকের 'ক' অংশে বলা হয়েছে যে, এই প্রক্রিয়া সমস্যাটিকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে সুনির্দিষ্টভাবে সমাধানের দিকে অগ্রসর হওয়া যায়। এটি মূলত কোহলারের শিম্পাঞ্জি পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত, যেখানে শিম্পাঞ্জিটি লাঠি বা বাক্সের ব্যবহার করে হঠাৎ করেই উঁচুতে রাখা কলা সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছিল। এখানে প্রাণীটি অন্ধভাবে চেষ্টা না করে বুদ্ধির প্রয়োগ ঘটিয়েছিল এবং পরিস্থিতির সামগ্রিক রূপ অনুধাবন করেছিল।
তবে, পরিজ্ঞানমূলক শিক্ষণের গুরুত্ব অপরিসীম হলেও এর কিছু সীমাবদ্ধতা বা সমালোচনা রয়েছে। সমালোচকদের মতে, সব ধরনের শিক্ষণ কেবল বুদ্ধির মাধ্যমে হয় না; অনেক ক্ষেত্রে প্রচেষ্টা ও ভুলেরও প্রয়োজন হয়। এছাড়া পরিজ্ঞান হঠাৎ করে আসে বলে মনে হলেও এর পেছনে প্রাণীর পূর্ব অভিজ্ঞতার একটি বড় ভূমিকা থাকে। আবার জটিল গাণিতিক বা বৈজ্ঞানিক সমস্যার ক্ষেত্রে কেবল তাৎক্ষণিক পরিজ্ঞান যথেষ্ট নয়, বরং দীর্ঘ অনুশীলন ও যান্ত্রিক প্রক্রিয়ারও প্রয়োজন পড়ে। তবুও সৃজনশীল চিন্তা সৃজনশীল চিন্তা ও উচ্চতর বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে পরিজ্ঞানমূলক শিক্ষণ একটি অনন্য ও কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃত।