| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে…’ a – জীবমণ্ডল, ভূগোল, ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি)

বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে গড়ে উঠেছে শিল্পকারখানা। নদীতে চলছে লঞ্চ, স্টিমার। নদীর অপর পাড়ে হচ্ছে কৃষিকাজ। সেখানে ব্যবহৃত হচ্ছে কীটনাশক ও রাসায়নিক সার। নদীতে এসে পড়ছে। শিল্পকারখানা ও আবাসস্থলের বর্জ্য।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৯
দূষণ হলো বায়ু, পানি ও মাটির ভৌত রাসায়নিক বা জৈব উপাদানের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন, যা মানবজীবনের জন্য ক্ষতিকর।
মাটিদূষণের প্রাকৃতিক কারণগুলো হলো- বন্যা, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, বৃষ্টিপাত, ভূমিকম্প বায়ুপ্রবাহ প্রভৃতি উল্লিখিত প্রাকৃতিক কারণে মাটি ক্ষয় হয়। বন্যার ফলে মাটি ক্ষয়ে গিয়ে অনুর্বর হয়ে পড়ে। মাটিতে তখন গাছপালা জন্মাতে পারে না। বৃষ্টিপাত ও বায়ুপ্রবাহ একইভাবে মাটির উপরের উর্বর স্তর সরিয়ে নিয়ে মাটি অনুর্বর করে ফেলে। এর ফলে মাটি মারাত্মকভাবে দূষিত হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত পানিদূষণের কথা বলা হয়েছে। পানি নানাভাবে দূষিত হতে পারে। নিচে পানিদূষণের কিছু কারণ সম্পর্কে আলোকপাত করা হলো-
শিল্পের বিভিন্ন বর্জ্য ও রাসায়নিক পদার্থ নদীতে ফেলার ফলে পানি দূষিত হয়। গৃহস্থলির বিভিন্ন বর্জ্য পদার্থ অসচেতনতার দরুন বশে পুকুর বা নদীতে ফেলে দেওয়া হয় এবং এতে পানি দূষিত হয়। কৃষিক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক ও সার প্রয়োগ করা হয়। বৃষ্টির পানিতে এগুলো ধুয়ে নদী বা পুকুরে এসে পড়ে। ফলে পানি দূষিত হয়। সমুদ্রে তেলবহনকারী ট্যাংকার থেকে অপরিশোধিত তেল দুর্ঘটনার ফলে পানিতে মিশে যায় এবং পানি দূষিত হয়। ভূমিক্ষয় ও পাহাড় ধসের ফলে পানিবাহিত মাটি, বালুকণা ইত্যাদি পানিকে দূষিত করে। বিভিন্ন প্রকার অণুজীব যেমন- ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া দ্বারা পানি দূষিত হয়। খনিসমূহ হতে নির্গত এসিডসমূহ পানিতে এসিডের হার বৃদ্ধি করে থাকে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে পানিতে অক্সিজেনের ভাগ কমে যায়। শিল্প ও পারমাণবিক চুল্লিসমূহকে ঠান্ডা রাখার জন্য প্রতিনিয়ত পানি সরবরাহ করা হয় এবং এসব পানি আবার নদীতে গরম অবস্থায় ফিরে আসে। এভাবে এসব স্থানের পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে থাকে।
পানিদূষণ মূলত মানবীয় কর্মকান্ডেরই বহিঃপ্রকাশ। তাই মানুষই পারে এসব দূষণ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে। নিচে পানিদূষণ প্রতিরোধে যে সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে তা উল্লেখ করা হলো-
শিল্প ও পৌর এলাকায় বর্জ্য পরিশোধনের ব্যবস্থা করা। বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পানিতে জৈব বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে হবে। বিশুদ্ধ পানীয় সরবরাহে আইন করা। গ্রামে নলকূপের পানি পরীক্ষা করা। কীটনাশকের যথেচ্ছ ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। পরিষ্কারক দ্রব্য পুকুর ও নদীতে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পানি বিষুদ্ধ রাখা। কলকারখানাগুলোর বর্জ্য নদীতে ফেলা নিয়ন্ত্রণ করা।
উপরিউক্ত ব্যবস্থাগুলো অবলম্বন করে সম্পূর্ণভাবে না হলেও মোটামুটিভাবে পরিবেশ দূষণ রোধ করা যায়।