আত্তীকরণ শক্তি হলো সালোকসংশ্লেষণে উৎপাদিত শক্তি, যা ATP এবং রূপে থাকে এবং এটি কার্বোহাইড্রেট তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়।
যে শ্বসন প্রক্রিয়ায় কোনো শ্বসনিক বস্তু অক্সিজেনের সাহায্য ছাড়াই কোষের ভিতরকার এনজাইম দিয়ে আংশিকরূপে জারিত হয়ে বিভিন্ন প্রকার জৈব যৌগ (ইথাইল অ্যালকোহল, ল্যাকটিক এসিড ইত্যাদি), এবং সামান্য পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন করে, তাকে অবাত শ্বসন বলে। কেবল মাত্র কিছু অণুজীবে যেমন- ব্যাকটেরিয়া, ইস্ট ইত্যাদিতে অবাত শ্বসন হয়ে থাকে।
সবাত শ্বসন প্রক্রিয়ায় শ্বসনিক বস্তু সম্পূর্ণভাবে জারিত হয়ে , এবং বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়। সবাত শ্বসন প্রক্রিয়া সাধারণত চারটি ধাপে সম্পন্ন হয়। যথা-
ধাপ ১ : গ্লাইকোলাইসিস : এই প্রক্রিয়ায় এক অনু গ্লুকোজ বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় জারিত হয়ে দুই অনু পাইরুভিক এসিড উৎপন্ন করে। এই ধাপে দুই অণু ATP এবং দুই অণু NADH + H উৎপন্ন হয় ।
ধাপ ২ : অ্যাসিটাইল কো-এ সৃষ্টি : গ্লাইকোলাইসিস পর্যায়ে সৃষ্ট প্রতি অণু পাইরুভিক এসিড পর্যায়ক্রমিক বিক্রিয়া শেষে ২ কার্বনবিশিষ্ট এক অণু অ্যাসিটাইল কো এনজাইম-এ এক অণু এবং এক অণু NADH উৎপন্ন করে।
ধাপ ৩ : ক্রেবস চক্র : এই চক্রে এক অণু অ্যাসিটাইল Co-A থেকে দুই অণু কার্বন ডাইঅক্সাইড, তিন অণু , এক অণু এবং এক অণু ATP উৎপন্ন হয়।
ধাপ ৪ : ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্র : উপরোক্ত তিনটি ধাপে যে NADH + , উৎপন্ন হয়, এই ধাপে সেগুলো জারিত হয়ে ATP, পানি, উচ্চশক্তির ইলেকট্রন এবং প্রোটন উৎপন্ন হয়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত বিক্রিয়াটি সবাত শ্বসন প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করে। নিচে সবাত শ্বসন প্রক্রিয়ার গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো-
সবাত শ্বসনই হলো উদ্ভিদ ও প্রাণীর স্বাভাবিক শ্বসন প্রক্রিয়া। সবাত শ্বসন প্রক্রিয়ায় অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় এবং শ্বসনিক বন্তু সম্পূর্ণভাবে জারিত হয়ে এবং বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন করে। শ্বসন প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন শক্তি দিয়ে জীবের সব ধরনের ক্রিয়াবিক্রিয়া ও কাজকর্ম পরিচালিত হয়। শ্বসনে নির্গত জীবের প্রধান খাদ্য শর্করা উৎপনের জন্য সালোকসংশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়। এ প্রক্রিয়া উদ্ভিদের খনিজ লবণ পরিশ্যেষণে সাহাযা করে, যা পরোক্ষভাবে উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও অন্যান্য জৈবিক প্রক্রিয়া চালু রাখে। কোষ বিভাজনের প্রয়োজনীয় শক্তি ও কিছু আনুষঙ্গিক পদার্থ শ্বসন প্রক্রিয়া হতে আসে। তাই এ প্রক্রিয়া জীবের দৈহিক বৃদ্ধিও নিয়ন্ত্রণ করে। এ প্রক্রিয়া বিভিন্ন উপক্ষার ও জৈব এসিড সৃষ্টিতে সহায়তার মাধ্যমে জীবের অন্যান্য জৈবিক কাজেও সহায়তা করে।
পরিশেষে বলা যায় যে, জীবজগতে উদ্ভিদ ও প্রাণী অর্থাৎ সকল জীবের জন্য সবাত শ্বসন প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুতপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
