| ㅤ | A. Nayan20 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭ – ব্যাখ্যা, যুক্তিবিদ্যা, যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৬
শ্রেণিকরণ (Classification) হলো কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য বস্তু বা ঘটনাবলির মধ্যে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যের আলোকে সন্নিবেশ করার একটি মানসিক প্রক্রিয়া।
বগুণের মাত্রার ভিত্তিতে কোনো বস্তু বা ঘটনাবলির শ্রেণিকরণ প্রক্রিয়াকে ক্রমিক শ্রেণিকরণ (Classification by Series) বলে। ক্রমিক শ্রেণিকরণে বিভক্ত শ্রেণির মধ্যে একই গুণ ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায় বিদ্যমান থাকে। যেমন- মানুষ, অন্যান্য প্রাণী ও উদ্ভিদ সবগুলোতেই জীবন আছে। কিন্তু মানুষের মধ্যে জীবনের প্রকাশ সবচেয়ে বেশি। অন্যান্য প্রাণীতে জীবনের প্রকাশ কিছুটা কম এবং উদ্ভিদে জীবনের প্রকাশ সবচেয়ে কম। সুতরাং 'জীবনের মাত্রা' অনুসারে উক্ত উপদানগুলোকে ক্রম অনুসারে সাজালে প্রথমে মানুষ, মাঝখানে প্রাণী এবং শেষে থাকে উদ্ভিদ। এভাবেই ক্রমিক শ্রেণিকরণে একই গুণ বিশিষ্ট কোনো বিষয়কে কেবল 'গুণের মাত্রা' অনুসারে শ্রেণিকরণ করা হয়।
ছক-১ এ প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণের (Natural Classification) ইঙ্গিত রয়েছে।
যে শ্রেণিকরণে মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ সাদৃশ্য বা বৈসাদৃশ্যের ভিত্তিতে বস্তু বা ঘটনাসমূহকে বিন্যস্ত করা হয় তাকে প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ বলে। প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণকে বৈজ্ঞানিক শ্রেণিকরণও (Scientific Classification) বলা হয়। কেননা এ ধরনের শ্রেণিকরণ বিজ্ঞানের ক্ষেত্রেই বেশি ব্যবহৃত হয়। যেমন- পুষ্পের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে উদ্ভিদকে সপুষ্পক উদ্ভিদ শ্রেণিতে বিন্যস্ত করা একটি প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণের দৃষ্টান্ত।
প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ এবং কৃত্রিম শ্রেণিকরণের মধ্যে বিদ্যমান পার্থক্য পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করা হলো-
প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ সাদৃশ্যের ওপর নির্ভরশীল। এ শ্রেণিকরণের সাদৃশ্যে বিষয়গুলো প্রকৃতিতে বিদ্যমান থাকে। ফলে প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণের বেলায় বস্তুসমূহকে বিন্যস্ত করার পূর্বে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য উদঘাটনের চেষ্টা করা হয়। অন্যদিকে, কৃত্রিম শ্রেণিকরণ অবান্তর ও বাহ্যিক সাদৃশ্যের ওপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ এ শ্রেণিকরণে নির্দেশিত সাদৃশ্যের বিষয়গুলো প্রকৃতি প্রদত্ত নয় বরং মানুষের খেলায়-খুশিমত সৃষ্টি করা হয়। এ কারণে কৃত্রিম শ্রেণিকরণে প্রথমেই একটি নমুনা (Sample) নির্বাচন করে তার সাথে মিলিয়ে বস্তুসমূহকে বিন্যস্ত করা হয়।
প্রাকৃতি
ক শ্রেণিকরণ একটি বিজ্ঞানসম্মত প্রক্রিয়া। পাশাপাশি এ শ্রেণিকরণের মাধ্যমে বস্তুসমূহ বা ঘটনাবলি সম্পর্কে তত্ত্বগত জ্ঞান লাভ করা যায়। তাই একে অনেক সময় তত্ত্বগত শ্রেণিকরণও বলা হয়। অন্যদিকে, কৃত্রিম শ্রেণিকরণ বিজ্ঞানসম্মত নয়। তাই বিশেষ উদ্দেশ্য দ্বারা পরিচালিত বলে এ শ্রেণিকরণ ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়। পাশাপাশি কৃত্রিম শ্রেণিকরণের মাধ্যমে আমাদের ব্যবহারিক প্রয়োজন সাধিত হয় বিধায় একে ব্যবহারিক শ্রেণিকরণও বলা হয়।
পরিশেষে বলা যায়, প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম শ্রেণিকরণের মধ্যে লৌহ প্রাচীর নির্মাণ করা সম্ভব নয়। কারণ উভয় শ্রেণিকরণের প্রকৃতি একই। বস্তুত উভয়ের মধ্যে উদ্দেশ্যগত পার্থক্য বিদ্যমান। প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণের উদ্দেশ্য হচ্ছে সাধারণ জ্ঞান অর্জন করা এবং কৃত্রিম শ্রেণিকরণের উদ্দেশ্য হচ্ছে বিশেষ কোনো ব্যবহারিক সুবিধা লাভ করা।