| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৯ – কোষ বিভাজন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
কোষ বিভাজন শুরুর পূর্বে কোষের প্রস্তুতিমূলক পর্যায়কে ইন্টারফেজ বলে।
কোষ বিভাজনের যে দশায় কোষের সাইটোপ্লাজম সমান দুই ভাগে বিভক্ত হয় এবং দুটো অপত্য কোষ উৎপন্ন হয়, তাকে সাইটোকাইনেসিস বলে । কোষপ্লেট ও কোষপ্রাচীর গঠনের মাধ্যমে উদ্ভিদকোষে সাইটোপ্লাজমের বিভাজন ঘটে। টেলোফেজ দশার শুরুতেই সাইটোকাইনেসিস শুরু হয় এবং এই দশার সমাপ্তির সঙ্গেই সাইটোকাইনেসিস শেষ হয় ।সাইটোকাইনেসিস একটি সরল পদ্ধতি এবং এটি সংঘটিত হতে কম সময়ের প্রয়োজন হয়।
উদ্দীপকের B চিত্রে প্রদর্শিত দশটি হলো মাইটোসিস কোষ বিভাজনের প্রো-মেটাফেজ ধাপ এবং এর পরবর্তী দশাটি হলো মেটাফেজ ।
মেটাফেজ এর বৈশিষ্ট্য:
১)কোষ বিভাজনের মেটাফেজ দশায় স্পিন্ডল যন্ত্রের বিষুবীয় অঞ্চলে ক্রোমোসোমের বিন্যস্ত হওয়াকে মেটাকাইনেসিস বলে।
২)এ পর্যায়ে ক্রোমাটিডগুলো সবচেয়ে বেশি মোটা, খাটো ও স্পষ্ট দেখা যায়।
৩) অতিমাত্রায় কয়েলিং প্রক্রিয়ায় এটি হয়ে থাকে তাই একে বলা হয় সুপার কয়েলিং।
৪)মেটাফেজ পর্যায়ের শেষ ভাগে প্রতিটি সেন্ট্রোমিয়ার সম্পূর্ণ বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য সেন্ট্রোমিয়ার সৃষ্টি করে।
৫) নিউক্লিয়ার মেমব্রেন ও নিউক্লিওলাসের বিলুপ্তি ঘটে।
উদ্দীপকের A চিত্রের কোষ বিভাজন প্রক্রিয়াটি হলো মায়োসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়া। মায়োসিস কোষ বিভাজন যা জীবদেহের বৈচিত্র্য আনয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
যে কোষ বিভাজনে ক্রোমোসোম একবার এবং নিউক্লিয়াস দুইবার বিভাজন হয় তাকে মায়োসিস কোষ বিভাজন বলে । মায়োসিস কোষ বিভাজনের পাকাইটিন উপপর্যায়ে হোমোলোগাস ক্রোমোসোমের দুটি নন-সিস্টার ক্রোমাটিড বিভিন্ন স্থানে ইংরেজি 'X' অক্ষরের ন্যায় যুক্ত থাকে। এখানে ক্রসিং ওভার ঘটে। মায়োসিস কোষে নতুন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের আবির্ভাব ঘটে। বংশগতিতে বিশেষত প্রকরণ সৃষ্টিতে এটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। মায়োসিস হলো জীবসমূহের মধ্যে বৈচিত্র্য সৃষ্টির একটি প্রধান উপায়।
মায়োসিসের ফলে জননকোষ (গ্যামিট) উৎপন্ন হয়, তাই যৌন জননক্ষম জীবে মায়োসিস না ঘটলে বংশবৃদ্ধি অসম্ভব।প্রজাতিতে বংশানুক্রমে ক্রোমোসোম সংখ্যা ধ্রুব রাখা কেবলমাত্র এ প্রক্রিয়ার জন্যই সম্ভব হচ্ছে। হ্যাপ্লয়েড উদ্ভিদে জাইগোটে এবং ডিপ্লয়েড উদ্ভিদে জনন মাতৃকোষে মায়োসিস না ঘটলে পিতা-মাতা হতে সন্তান-সন্ততিতে ক্রমাগতভাবে পুরুষানুক্রমে ক্রোমোসোম সংখ্যা দ্বিগুণ, চারগুণ, আটগুণ, ষোলগুণ এভাবে বৃদ্ধি পেয়ে জীবজগতে একটি আমূল পরিবর্তন করেই ঘটে যেতো এবং পরিণামে জীবজগৎ ধ্বংস হয়ে যেতো।ক্রোমোসোম সংখ্যা সঠিক রাখার মাধ্যমে বংশানুক্রমে প্রতিটি প্রজাতির স্বকীয়তা রক্ষিত হচ্ছে এ বিভাজনের মাধ্যমে । পৃথিবীর প্রায় সাতশ কোটি মানুষ একই প্রজাতিভুক্ত হয়েও একজন অন্যজন থেকে ভিন্নতর।একই প্রজাতির দুটি উদ্ভিদ বা প্রাণীর মধ্যে পার্থক্যও জীববৈচিত্র্যের অন্তর্গত। যৌন প্রজননক্ষম দুটি জীব কখনও হুবহু একরকম হয় না । মিয়োসিস প্রক্রিয়ায় জননকোষ সৃষ্টিকালে ক্রসিংওভারের কারণে মাতাপিতার ক্রোমোসোমের মধ্যে কিছুটা পরিবর্তন ঘটে, ফলে জীবের মধ্যে আসে বৈচিত্র্য। কারণ ক্রসিংওভারের ফলে ক্রোমোসোমের খণ্ডাংশের বিনিময় ঘটে। ফলে ক্রোমোসোমে নতুন জিন সংযোজন হয় । আর জিনের সংযোজন ও অবস্থানের কারণে প্রত্যেক অপত্য জীবের বংশপরম্পরায় - ভিন্নতা আসে। ফলে নতুন প্রজন্মে বৈচিত্র্যতা আসে। অর্থাৎ পৃথিবীতে বিভিন্ন প্রজাতির প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে জীবদেহে সৃষ্ট বৈচিত্র্যতার মূল কারণ হচ্ছে ক্রসিংওভার যা মিয়োসিস কোষ বিভাজনে সংঘটিত হয়।
অতএব বলা যায় যে, জীবদেহের বৈচিত্র্য আনয়নে মিয়োসিস কোষ বিভাজনের ভূমিকা অপরিসীম।