| ㅤ | A. Nayan20 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২১ – ব্যাখ্যা, যুক্তিবিদ্যা, যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৬
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার রূপ তিনটি। যথা- বিশ্লেষণ, শৃঙ্খলযোজন ও অন্তর্ভুক্তি।
লৌকিক ব্যাখ্যায় ব্যক্তির নিছক মনগড়া ধারণা প্রাধান্য পায় বলে এরূপ ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয়। ব্যক্তির মনগড়া ধারণা বা অতিপ্রাকৃত শক্তির আশ্রয়ে যে বক্তব্য দেওয়া হয় তাই লৌকিক ব্যাখ্যা। এ ধরনের ব্যাখ্যায় কার্য ও কারণের সাথে কোনো আবশ্যিক সম্পর্ক থাকে না। যেমন: অনেকেই চন্দ্রগ্রহণের কারণ হিসেবে রাহু নামক দৈত্যের উপস্থিতিকে দায়ী করে। মূলত এ ধরনের ব্যাখ্যার বাস্তব কোনো ভিত্তি নেই। এ কারণে লৌকিক ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয়।
উদ্দীপকের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার রূপ অন্তর্ভুক্তি প্রতিফলিত হয়েছে। কেননা এখানে একটি কম ব্যাপক নিয়মকে একটি অধিক ব্যাপক নিয়মের অধীনে এনে দেখানো হয়েছে।
উদ্দীপকের জোয়ার-ভাটার নিয়মকে মাধ্যাকর্ষণ নিয়মের অন্তর্ভুক্ত করে দেখানো হয়েছে। অর্থাৎ এখানে একটি কম ব্যাপক নিয়মকে একটি বেশি ব্যাপক নিয়মের অধীনে এনে দেখানো হয়েছে। তাই উদ্দীপকের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার রূপ অন্তর্ভুক্ত নির্দেশিত হয়েছে। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় কার্যকরণ সম্পর্কে নির্ণয় করে কোনো ঘটনার ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়। যে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় একটি কম ব্যাপক নিয়মকে কোনো বেশি নিয়মের অধীনে এনে ব্যাখ্যা করা হয় তাকে অন্তর্ভুক্তি বলে। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার এই রূপে যে নিয়মের মাধ্যমে কোনো ঘটনার ব্যাখ্যা করা হয় তা একটি বিশেষ নিয়ম। আর যে নিয়মের অন্তর্ভুক্ত করে ব্যাখ্যা করা হয় সেটি একটি সার্বিক নিয়ম। এভাবে বিশেষ নিয়মকে সার্বিক নিয়মের অন্তর্ভুক্ত করে ব্যাখ্যা করার নামই হলো অন্তর্ভুক্তি।
কার্যকারণ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে উদ্দীপকে উল্লেখিত অন্তর্ভুক্তি বিষয়টির গুরুত্ব অপরিসীম। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে কার্যকারণ সম্পর্ক আবিষ্কারের মাধ্যমে কোনো একটি ঘটনাকে বিশ্লেষণ করা হয়। সে ক্ষেত্রে কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় করার অর্থই হলো বর্ণিত ঘটনা যেসব নিয়মের অধীন তা উল্লেখ করা অর্থাৎ, অন্তর্ভুক্তি করা। পাশাপাশি ঘটনাটি সংঘটনের কারণগুলো উল্লেখের মাধ্যমে সেগুলোর মধ্যে সম্বন্ধ স্থাপন করা। কাজেই এদিক থেকে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার যথার্থতা প্রতিপাদনে অন্তর্ভুক্তি রূপের ভূমিকা অপরিহার্য। এ পরিপ্রেক্ষিতেই যুক্তিবিদ কার্ডেথ রিড বলেছেন, 'বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা হলো ঘটনাবলির নিয়ম আবিষ্কার ও সংযুক্তকরণের মাধ্যমে ব্যাখ্যা।'
আমরা জানি, প্রতিটি গ্রহ-উপগ্রহের নিজস্ব একটি আকর্ষণ শক্তি রয়েছে। সে শক্তির মাধ্যমে যেকোনে বস্তুকে তার কেন্দ্রের দিকে আকর্ষণ করে। গ্রহ-উপগ্রহে এই যে আকর্ষণ শক্তি তাই হচ্ছে মাধ্যাকর্ষণ শক্তি। এটি একটি বৃহৎ নিয়ম। এ নিয়মের আওতায় সমুদ্রের বা নদীর জোয়ার- ভাটার নিয়মকে ব্যাখ্যা করা হয়। কেননা মাধ্যাকর্ষণ নিয়মের ক্ষেত্রে যে ব্যাখ্যা প্রয়োগ করা হয় তা জোয়ার-ভাটার ক্ষেত্রেও একই নিয়মে প্রয়োগ করা যায়। এভাবে ঘটনায় কার্যকরণ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্তি বিষয়টির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় অন্তর্ভুক্তির গুরুত্ব অপরিসীম।