| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২১ – পরিপাক ও শোষণ, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৩
হরমোনজনিত কারণে বা অন্য কোনো কারণে অস্বাভাবিকভাবে শরীরের ওজন বেড়ে যাওয়াই হলো Obesity বা স্থূলতা।
পরিপাকে দাঁতের ভূমিকা নিম্নরূপ-
মানব মুখব্বিরের মধ্যে উভয় চোয়ালে চারটি কর্তন, দুটি ছেদন, চারটি অগ্রপেষক ও ছয়টি পেষক দন্ত আছে। কর্তন দন্ত খাদ্যবস্তুকে কাটতে, ছেদন দাঁত ছিঁড়তে এবং অগ্রপেষক ও পেষক, দাঁত খাদ্যবস্তু চর্বণে কাজ করে পরিপাকে সাহায্য করে।
উদ্দীপকের “A” অঙ্গটি হলো পাকস্থলি। নিম্নে পাকস্থলিতে যান্ত্রিক ও রাসায়নিক পরিপাক ব্যাখ্যা করা হলো-
১. যান্ত্রিক পরিপাক: মুখ থেকে চর্বিত খাদ্য অন্ননালি পথে পাকস্থলিতে এসে ২-৬ ঘণ্টা কাল অবস্থান করে। এ সময় HCI ক্ষরিত হয়ে খাদ্যবাহিত অধিকাংশ ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে দেয়। মসৃণ পেশির ৩টি স্তর নিয়ে পাকস্থলি গঠিত। পেশিস্তর বিভিন্ন দিকমুখি হওয়ায় পাকস্থলি প্রাচীর নানাদিকে সঞ্চালিত হয়ে (মোচাড় দিয়ে, সংকুচিত হয়ে কিংবা চাপা হয়ে) মুখগহ্বর থেকে আসা অর্ধচূর্ণ খাদ্য পিষে পেস্ট এ পরিণত করে। এ সময় গ্যাস্ট্রিক জুস ক্ষরিত হয়ে পাকস্থলির যান্ত্রিক চাপে পিষ্ট খাদ্যের সঙ্গে মিশে ঘন স্যুপের মতো মিশ্রণে পরিণত হয়। খাদ্যের এ অবস্থা কাইম বা মণ্ড নামে পরিচিত। এর উপর গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি নিঃসৃত বিভিন্ন এনজাইমের পরিপাক কাজ শুরু হয়ে যায়।
২. রাসায়নিক পরিপাক : পাকস্থলির প্রাচীর পেশিবহুল এবং গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি সমৃদ্ধ । গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি এক ধরনের নলাকার গ্রন্থি এবং চার ধরনের কোষে গঠিত। প্রত্যেক ধরনের কোষের ক্ষরণ আলাদা। সম্মিলিতভাবে গ্যাস্ট্রিক, গ্রন্থির ক্ষরণকে “গ্যাস্ট্রিক জুস”বলে। এর ৯৯.৪৫%ই পানি। গ্যাস্ট্রিন নামক হরমোন এই জুস্ ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে। নিম্নলিখিত তিনটি উপয়ে পাকস্থলিতে রাসায়নিক পরিপাক সংঘটিত হয়।
শর্করা পরিপাক: পাকস্থলি থেকে শর্করাবিশ্লেষী কোনো এনজাইম নিঃসৃত হয় না। ফলে শর্করা জাতীয় খাদ্যের কোনো পরিবর্তন ঘটে না।
আমিষ পরিপাক: গ্যাস্ট্রিক জুসে পেপসিনোজেন ও প্রোরেনিন নামক নিষ্ক্রিয় প্রোটিওলাইটিক এনজাইম থাকে। এ দুটি নিষ্ক্রিয় এনজাইম গ্যাস্ট্রিক জুসের HCI-এর সাথে বিক্রিয়া করে যথাক্রমে পেপসিন ও রেনিন নামক সক্রিয় এনজাইমে পরিণত হয়। পেপসিন অম্লীয় মাধ্যমে জটিল আমিষের আর্দ্র বিশ্লেষণ ঘটিয়ে প্রোটিওজ ও পেপটোন-এ পরিণত করে। রেনিন দুগ্ধ আমিষ কেসিনকে প্যারাকেসিনে পরিণত করে।
১. আমিষ + পানি (পেপসিন) → প্রোটিওজ + পেপটোন
২. কেসিন (দুগ্ধ আমিষ) + পানি(রেনিন) → প্যারাকেসিন
৩. প্যারাকেসিন (পেপসিন)→ পেপটোন
স্নেহ পরিপাক: পাকস্থলির প্রাচীর থেকে গ্যাস্ট্রিক লাইপেজ নামক এনজাইম নিঃসৃত হয়। এটি প্রশমিত স্নেহদ্রব্যকে ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারল-এ পরিণত করে।
স্নেহদ্ৰব্য (গ্যাস্ট্রিক লাইপেজ)→ ফ্যাটি এসিড + গ্লিসারল
অর্ধপাচিত এ খাদ্য ধীরে ধীরে ক্ষুদ্রান্ত্রে প্রবেশ করে। পাকস্থলির পাইলোরিক প্রান্তে অবস্থিত স্ফিংক্টার পাকস্থলি থেকে ডিওডেনামে খাদ্যের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করে।
উদ্দীপকের “B” চিহ্নিত অঙ্গটি হলো অগ্ন্যাশয় । অগ্ন্যাশয় পাকস্থলির নিচে অবস্থিত এবং উদর গহ্বরের ডিওডেনামের অর্ধবৃত্তাকার কুন্ডলীর ফাঁক থেকে প্লীহা পর্যন্ত বিস্তৃত। অগ্ন্যাশয়ের বহিঃক্ষরা অংশের মধ্যে কিছু কোষ একত্রিত হয়ে বিক্ষিপ্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দ্বীপের মতো একেকটি অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি সৃষ্টি করে। এদের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স বলে। প্রতিটি দ্বীপ গ্রন্থি থেকে ইনসুলিন, গ্লুকাগন, সোমাটোস্ট্যানিন প্রভৃতি হরমোন নিঃসৃত হয়। ইনসুলিন রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ কমায়।
অপরদিকে গ্লুকাগন রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বাড়ায়। রক্তে যখন গ্লুকোজের পরিমাণ কমে যায় তখন গ্লুকাগন নিঃসৃত হয়। গ্লুকাগনের প্রভাবে যকৃতের গ্লাইকোজেন গ্লুকোজে পরিবর্তিত হয়। ফলে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। অপরদিকে, ইনসুলিন গ্লুকাগনের বিপরীত কাজ করে। খাবারের পর রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে গেলে ল্যাঙ্গারহ্যান্সের দ্বীপপুঞ্জ থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত হয়। আর এভাবেই গ্লুকাগন ও ইনসুলিনের পারস্পরিক ক্রিয়ার ফলে রক্তে গ্লুকোজের একটি নির্দিষ্ট মাত্রা বজায় থাকে।