ব্লাস্টোসিস্ট: কোষ বিভাজনের শেষপর্যায়ের গঠন্মুখ ভ্রূণ ডিম্বনালি থেকে জরায়ুতে পৌঁছায়। এ পর্যায়ের ভ্রূণটিকে ব্লাস্টোসিস্ট বলে।
HIV ভাইরাসের আক্রমণে এইডস হয়। এই ভাইরাস শ্বেত রক্ত কোষের ক্ষতিসাধন করে এবং এ কোষের এন্টিবডি তৈরিসহ রোগ প্রতিরোধ-সংক্রান্ত কাজে বিঘ্ন ঘটায়। ফলে শ্বেত রক্ত কোষের সংখ্যা ও এন্টিবডির পরিমাণ ক্রমশ কমতে থাকে। এই ভাইরাস মানবদেহে সুপ্ত অবস্থায় অনেক দিন থাকতে পারে। এই ভাইরাসের আক্রমণে রোগীর দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বিনষ্ট হয়ে যায় বলে রোগীর মৃত্যু অনিবার্য হয়ে পড়ে। তাই HIV কে ঘাতক ভাইরাস বলা হয়।
উদ্দীপকের C চিহ্নিত অংশটি হলো দলমণ্ডল। ফুলের পাঁচটি স্তবকের মধ্যে অন্যতম স্তবক হলো দলমণ্ডল। দলমণ্ডলের প্রতিটি খণ্ডকে পাপড়ি বলে। পাপড়ি সাধারণত রঙিন হয়। এর ভূমিকা নিম্নরূপ:
১। এরা ফুলের অত্যাবশ্যকীয় অংশগুলোকে রোদ ও বৃষ্টি থেকে রক্ষা করে।
২। উজ্জ্বল ঝলমলে রঙের দলমণ্ডল পোকামাকড় ও পশুপাখি আকর্ষণ করে এবং পরাগায়নে সহায়তা করে।
৩। অনেক সময় কোনো কোনো পোকামাকড় ফুলের পাপড়িতে বসে মধু আহরণ করে। এসব কার্যক্রম চলাকালীন সময়ে ফুলের গর্ভমুণ্ডে পরাগায়নের কাজটি হয়ে থাকে।
কাজেই ফুলের স্তবকসমূহের সুরক্ষা ও পরাগায়নের জন্য আকর্ষণ সৃষ্টি করে উদ্ভিদে পাপড়ি তথা দলমণ্ডল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকের 'A' স্তবকটি হল পুংস্তবক এবং 'B' স্তবকটি হরো স্ত্রীস্তবক। নিম্নে এদের মিলনের (নিষেক) ফলাফল বিশ্লেষণ করা হলো:
একটি পুংস্তবকে এক বা একাধিক পুংকেশর থাকতে পারে। পুংকেশরের দণ্ডের মতো অংশকে পুংদণ্ড এবং শীর্ষের থলের মতো অংশকে পরাগধানী বাঁ পরাগরেণু থলি বলে। পরাগধানীর মধ্যে পরাগ উৎপন্ন হয়। এই পরাগরেণু অঙ্কুরিত হয়ে পরাগনালি গঠন করে। এই পরাগনালি পুংজনন কোষ উৎপন্ন হয়।
অন্যদিকে স্ত্রীস্তবকের গর্ভপত্র, গর্ভাশয়, গর্ভদণ্ড ও গর্ভমুণ্ড নিয়ে গঠিত হয়। গর্ভাশয়ের ভিতরে এক বা একাধিক ডিম্বক বিশেষ নিয়মে সজ্জিত থাকে। এসব ডিম্বকের মধ্যে স্ত্রী প্রজনন কোষ বা ডিম্বাণু সৃষ্টি হয়।
উপরিউক্ত দুইটি স্তবকে উৎপন্ন পুংজনন কোষ ও স্ত্রীজনন কোষ সরাসরি প্রজননে অংশ গ্রহণ করে। অর্থাৎ পরাগায়নের পর পুংজনন কোষ স্ত্রীজনন কোষের সাথে মিলিত বা নিষিক্ত হয়ে জাইগোট গঠন করে। এরপর জাইগোটটি ক্রমবিভাজনের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ ভ্রূণে পরিণত হয় (এই ভ্রূণে বীজপত্র, ভ্রূণকাণ্ড ও ভ্রূণমূল থাকে)। পরবর্তীতে ভ্রূণসহ ডিম্বকটি বীজে পরিণত হয় এবং গর্ভাশয়টি ফলে পরিণত হয়। এরপর ফলের পরিণতি লাভ ও বীজের বিস্তরনের মাধ্যমে নতুন চারা গাছ হয় এবং উদ্ভিদের বংশবিস্তার ঘটে। অতএব পুংস্তবকের পরাগধানী ও স্ত্রীস্তবকের ডিম্বক এর পারস্পরিক সংশ্লিষ্টতার মাধ্যমে উদ্ভিদের বংশবিস্তার অব্যাহত থাকে।
